-----------------------------
বাংলাদেশের সব বিজ্ঞাপন থেকে নারীদের উঠিয়ে নিলে কেমন হয় বলেন তো?..... পুরুষরা তেলের বিজ্ঞাপন দেবে হেলে দুলে (দরকার হলে উইগ পড়িয়ে নেয়া যেতে পারে), নতুন শিশুর গায়ে লোশন মাখতে মাখতে বলবে, "আমার বাবাও আমাকে এমনি করে তেলেসমাতি কোম্পানির লোশন মেখে দিতেন", কারণ মেয়েরা তথা নারীরা বিজ্ঞাপনে এলেইতো তাদের সুন্দর মুখাবয়ব ম্যাংগো জনতা দেখে ফেলবে আর এতে করে তো বেচারীর ঘর-দোর ভেঙ্গে খানখান হয়ে যেতে পারে..... কি নিদারুণ ব্যাপার....
আর অভিনয়?..... আমরা তো মানুষকে মেয়ে আর ছেলেতে বিভক্ত করবোই, অভিনেতা আর অভিনেত্রী বলে আলাদা কোন শব্দ আমরা শিখেছি তো কি হয়েছে, তার ব্যাবহার করা লাগবে এমন তো কোথাও লিখা নেই। আর তাই কেউ যদি অভিনয় করে কারো মায়ের ভুমিকায়, সে কখনোই অভিনয় গুনে একই ব্যক্তির স্ত্রী-এর ভুমিকায় অভিনয় করতে পারবেনা.....। করলেই জাতি, কুল, মান সব গেলো গেলো বলে হায়হায় রব উঠবে...
। আইন করতে হবে যাতে অফিসে কোন মহিলা তাদের বস্দের পি.এ. না হতে পারে। কারণ এতে ভবিষ্যতে অনেক কিছুই ঘটতে পারে, বস্ ভদ্্রলোকের যদি একটু "ইয়ের" দোষ থাকে তাহলে তাকে প্রায়ই বনানী-র "স্কাই রুমে" পি.এর. সাথে দেখা যেতে পারে, ছুটির দিনে "জরুরী মিটিং" এর কথা বলে বউ-এর থেকে ছুটি নিয়ে "লং ড্রাইভে" আশুলিয়ায় ফুচকা খেতে দেখা যেতে পারে..... এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ, তারপর "ঘর ভাঙ্গার আওয়াজ"... অত:পর বউ বেচারী বাপের বাড়ি। ঘটনা এখানে শেষ হয়ে গেলে ভাল, কিনতু যদি বউটির বাপ হয় সরকারী দলের এম. পি, কিংবা কোন বড় ধরণের ঋণ খেলাপী, তাহলে অসহায় বস্ বাবাজীর শুধু খবরই হবে না তার এতো সাধের প্রতিষ্ঠানটিতে তালাও ঝুলতে পারে.....। একটা মাত্র মেয়েকে চাকরী দিয়ে এতো ঝামেলা নিশ্চয় কেউ নিতে চাইবেন না। তাই মাথা ব্যাথা হইতে পারে বলিয়া মাথা আগে হইতেই কাটিয়া ফেলা বাঞ্ছনীয়...। মেয়েটিকে না হায় বাদ রাখলাম ভবিষ্যত বরণনা থেকে (এমনিতেই বিশাল মহাকাব্য হয়ে যাচ্ছে)।
একটা ধরণার কথা বলি, যেটা ভয়াবহ(?) মনে হলেও বাস্তব। আমাদের দেশে আজকে যে "সংস্কৃতি" -র অনুশীলন দেখতে পাচ্ছি তা কয়েক দশক আগে পশ্চিমা দেশ গুলোতে ছিল। আমাদের দাদী-রা বিয়ের পরেও দাদা-দের সাথে জনসমুক্ষে কথা বলতে লজ্জা বোধ করতেন, অথচ তাদের সময়ের পশ্চিমারা এখকার মতো না হলেও আমাদের মতো (অর্থাৎ আমরা দেশে যে সুযোগ টুকু পাচ্ছি) সুযোগ উপভোগ করেছে। এই ধারাটা পশ্চিম থেকে আমাদের দেশে এসেছে, আসছে এবং সামনেও যে আসবে তা কিন্তু বলাই যায়। তা যদি আসে তাহলে ঠিক 20 বছর পর আমরা কি অবলোকন করবো ভেবে দেখেছেন? পশ্চিমের রাস্তায় যা দেখা যায় তখন এটা হবে আমাদের দেশের তখনকার চেহারা। আপনি, আমি, আমরা গড়িয়ে কাঁদলেও কি সেই সময়ের স্রোত আটকাতে পারবো.....?
এখনই দেখেন না, পারিবারিক বন্ধন গুলো কেমন শীথিল হয়ে গেছে, এটা একসময় বিলীন হয়ে যাবে স্বাভাবিকতার কারণে। আর তখন "টেষ্ট টউব বেবী" কালচার টা আমাদের দেশেও জনপ্রিয় হবে হোকনা সেটা পশ্চিমাদের কয়েক দশক পরে, কিন্ত হবেতো। তখন কি আমরা সেটা মেনে নেব সময়ের প্রয়োজনে সময়ের দাবী মেটাবার তাগিদে নাকি সেই তিন বাঁদরের গল্পের মতো "আমি কিছু দেখিনি, কিছু শুনিনি, কিছু বলিনি" বলে চোখে, কানে আর মুখে হাত চেঁপে বসে থাকবো বলুন তো......।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



