১. সবুজ রঙ এর মানুষগুলো!
১২ শতাব্দীর দিকে লন্ডনের এক গ্রামে খুঁজে পাওয়া যায় দুই ভাই-বোনকে। দেখতে আর দশটা স্বাভাবিক মানুষের মতনই ছিল তারা। দুটো হাত, দুটো পা, একটা মুখ। তবে সমস্যাটা ছিল অন্য একটি জায়গায়। আর সেটি হচ্ছে ওদের গায়ের রঙ ছিল পুরোপুরি সবুজ। প্রথমে কথা বলতে চাওয়া হয় তাদের সাথে। কিন্তু অদ্ভুত কোন ভাষায় কথা বলছিল তারা। পরে অবশ্য ইংরেজি শিখে নেয় এই ভাই-বোন। ধীরে ধীরে হারায় তাদের গায়ের রঙও। বিশেষজ্ঞদের মতে পৌরাণিক গল্পকাহিনী, সমান্তরাল মাত্রা কিংবা বহির্পৃথিবীর কোনখান থেকে এসেছিল তারা।
২. ভিনগ্রহবাসীদের বই!
ভয়নিক ম্যানুস্ক্রিপ্ট! অদ্ভূত এই বইটিকে খুঁজে পায় পৃথিবীর মানুষেরা অনেকদিন আগেই। ১৪০০ শতকের প্রথমভাগে লেখা এই বইটির বিশেষত্ব হচ্ছে এর ভাষা আর অঙ্কন। খুঁজে পাওয়ার অনেকদিন হওয়া সত্ত্বেও এর ভাষার কোনরকম মানে বুঝতে পারেনি কেউ। বোঝা যায়নি ঠিক কোন ভাষায় লেখা হয়েছে এর কথাগুলো। শুধু তাই নয়, বইটিতে রয়েছে ঝলমলে রঙ এর অনেকরকম অদ্ভূত গাছ ও প্রাণীর ছবি। যাকে বিশেষজ্ঞরা ভিনগ্রহবাসী বলে মনে করেন। অনেকের ধারনা এটি অন্য কোন স্থানের বই, যেটা কিনা পৃথিবীর বাইরে। অনেকে অবশ্য অদ্ভুত প্রজাতির বানর বলে আখ্যা দিয়েছেন এই প্রাণীগুলোকে।
৩. ডিয়েট্লোভ পাস
রাশিয়ার ঐ পাহাড়টিকে একনামে মৃত পাহাড় নামেই চেনে মানুষ। একবার ওতে দশজন মানুষ নতুন পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পরে তারা ফিরে না আসায় পাঠানো হয় অনুসন্ধানী দল। আর সেই দল গিয়ে অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে দেখতে পায় যে, দশজনের দলের জন্যে নেওয়া তাবুগুলোতে খাবার ভর্তি রয়েছে এবং সেগুলো ভেতর থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। ভাবটা এমন যেন সেটা কেটেছে ওরাই! মানুষগুলোকে অবশ্য পাওয়া যায় খানিক দূরে। সবাইই মৃত ছিল তখন। একজনের জিভ ছিলনা। কয়েকজন পরিধান করেছিল মৃতদের পোশাক। আর বাকিদের ভেতরে একজন গাছে উঠতে থাকা অবস্থায় মারা গিয়েছিল। অন্যরা কেবল অন্তর্বাস আর মোজা পরেই জীবন হারিয়েছিল। ঠিক কি হয়েছিল সেখানে ঐ দশজনার সাথে? জানা যায়নি এখনো
৪. অমর মানুষ!
১৭০০ শতকে জন্ম নেওয়া এই মানুষটিকে দেখা যায় একে একে ক্যাসানোভা, ভল্টেয়ার, কিং লুইস ১৫ এবং এমনকি জর্জ ওয়াশিংটনেরও সঙ্গী হতে। মোট ১২ টি ভাষায় পারদর্শী এই লোককে মানুষ ভায়োলিনবাদক, ধনী ইত্যাদি নানান পরিচয়ে জানত। অনেকে মনে করত বার্ধক্যজনিত সমস্যা থেকে বাঁচানোর উপায় জানতেন এই লোকটি। ২১ শতাব্দী অব্দি তাকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় লোকসম্মুখে। কে জানে! তিনিই হয়তো সেই মানুষ যিনি আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন অমর হবার অষুধ।
৫. পোলোকের জমজ বোনেরা
১৯৫৭ সালের ঘটনা। ইংল্যান্ডের এক মা তার সন্তানদেরকে হারান প্রচন্ড এক সংঘর্ষপূর্ণ সড়ক দূর্ঘটনায়। তার ১১ ও ছয় বছর বয়স্ক দুই মেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ভীষন কষ্ট পান মা। এতটুকু পর্যন্ত সবটা স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু অদ্ভূত ঘটনা ঘটে ঠিক তার পরের বছর। মায়ের কোলে আসে জমজ দুই মেয়ে। যাদের শরীরে ঠিক তাদের মৃত বোনদের শরীরের মতনই জন্মদাগ পাওয়া যায়। ভাবছেন কাকতালীয়? হয়তো! তবে এর পর ধীরে ধীরে মেয়েদের কথা-বার্তা শুনে ও আচার-আচরণ দেখে সন্দেহ জন্মায় মায়ের মনে। মেয়েরা সেসব জিনিস পছন্দ করতো, সেসব জিনিসই চাইতো যেগুলো তাদের মৃত বোনদের ছিল। এমনকি মৃত বোনেরা যেসব স্থানে গিয়েছে সেসব স্থানের কথাও পরিষ্কারভাবে বলে দিত তারা। শুদু তাই নয়, মৃত বোনদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আশ্চর্যভাবেই জানতো তারা। অনেক দেখে-শুনে শেষ অব্দি নিঃসন্দেহ হয় সবাই যে এই জমজেরা আর কেউ নয়, সেই মৃত বোনেরাই। মায়ের কোলে আবার নতুনভাবে ফিরে এসেছে তারা। কিন্তু কি করে? আজ অব্দি সে রহস্য রহস্যই রয়ে গিয়েছে।
৬. আলকেট্রাজের কয়েদী
১৯৬৩ সালের কথা সেটা। সানফ্রান্সিসকোর আলক্যাট্রাজ জেলে বন্দী ছিল তিন অপরাধী ক্ল্যারেন্স, জন ও ফ্রাঙ্ক। তিনজন বেশ ভালো বন্ধু ছিল তারা। সেদিন প্রহরীরা টহল দেবার সময় এদের তিনজনকেই জেলের ভেতরে দেখে এবং চলে যায়। কিন্তু এরপরেই ঘটে আসল ঘটনা। পরবর্তীতে দেখা যায় সেগুলো আসল মানুষ নয়, ছিল সাবান আর টয়লেট পেপারের তৈরি নকল মানুষ। অনেক খোঁজা হয় এই তিন কয়েদীকে। কী করে পালালো তারা, পালালেও আদৌ শহরে যেতে পেরেছে কিনা কিংবা গেলেও এখনো বেঁচে আছে কিনা আর জানা যায়নি। এই ঘটনার পর থেকে আর কখনো কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি এদের।
৭. আটলান্টিস শহর
প্লেটোর লেখায় জানা যায় প্রথম এই দ্বীপ শহরটির কথা। ১০ম শতাব্দীর এই শহরটি ছিল হরকিউলিসের স্তম্ভের কাছে। যেটা কিনা রাতারাতিই তলিয়ে যায় পানির একেবারে নীচে। তবে এই লেখাটি ছাড়া আটলান্টিসের কথা বা প্রমাণ কোথাও আর পাওয়া যায়নি। মনে করা হয় সিসিলি কিংবা আগ্নেয়গিরির ফলে ডুবে যাওয়া সান্তোরিনিই ছিল প্লেটোর ভাষায় আটলান্টিস শহর। তবে সমস্যাটা হচ্ছে এই দুই স্থানের কোনটার পাশেই হারকিউলিসের স্তম্ভ পাওয়া যায়নি। আসলেই কি আটলান্টিস ছিল? কোথায়? রহস্যের সমাধান এখনো হয়নি।
৮. অদ্ভুত ধাঁধা
ইংল্যান্ডের স্ট্যাফোর্ডশায়ারের কাছে আঠারো শতকে তৈরি একটি রাখাল মূর্তির কাছে রয়েছে বিখ্যাত এক চিত্র। মূর্তিটি নয়, মূল সমস্যা সেই চিত্রটি নিয়েই। ওতে রয়েছে অদ্ভুত কিছু লেখা। অদ্ভুত আর বিচিত্র সেই সংকেতের দ্বারা যিশু খ্রিষ্টের ব্যবহৃত পবিত্র শেষ খাবারের পাত্রটির পথ বলা হয়েছে বলে ধারনা করেন অনেকে। সংকেতটি ভাঙার কোন যে চেষ্টা করা হয়নি তাও নয়। চার্লস ডিকেন্স ও ডারউইন অব্দি শ্রম দিয়েছেন এর পেছনে। তবে লাভ হয়নি। সংকেতের অর্থ উদ্ধার করা যায়নি এখনো।
৯. ভিনগ্রহের সংকেত
কত-শত দিন ধরেই তো মানুষ অপেক্ষা করে আছে নতুন কোন প্রাণের, নতুন কোন গ্রহের, নতুন কোন জীবনের- যেটা কিনা পৃথিবীর তুলনায় অনেক অনেক বেশি উন্নত। তবে উন্নত হোক কিংবা অনুন্নত, এখন অব্দি পৃথিবীর বাইরে আর কোন দ্বিতীয় প্রাণ বা সভ্যতার অস্তিত্ব পায়নি মানুষ। নিজেদের প্রযুক্তিকে উন্নত করে অনেক অনেক সংকেত পাঠালেও ফিরে আসেনি সেগুলো। কিন্তু এর ব্যতিক্রমটাই ঘটে ১৯৭৭ সালে। জেরি আর. এহমার ওহিয়োর বিগ এয়ার রেডিও টেলিস্কোপে কাজ করছিলেন তখন। হঠাৎ করেই অদ্ভুত কোন সংকেত পান তিনি। তাও পৃথিবীর ভেতর থেকে নয়। মহাকাশ থেকে। স্তম্ভিত আর অবাক জেরি ৭২ সেকেন্ডের সেই সংকেতটি পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি কাগজে ধরে রাখেন। তবে কেবল সেটাই নয়। চেষ্টা করেন পাল্টা সংকেত পাঠানোর। পরবর্তীতে হঠাৎ সংকেত আসার সেই জায়গা বরাবর অনেক অনেক বার্তা আর সংকেত পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কোনটারই জবাব আসেনি।
১০. গুপ্ত হত্যাকারী-
লন্ডনের রাস্তায় একের পর এক নারী মারা যেতে থাকে সেসময়। বিশেষ করে পতিতাদের ওপরেই যেন আক্রোশটা বেশি ছিল খুনীর। কিন্তু কে করছে খুনগুলো? একের পর এক খুন হওয়া নারীদের কাছ থেকে কোন সুত্র উদ্ধার করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়ে পুলিশ। আর এমন সময়েই পুলিশের কাছে আসে এক রহস্যজনক চিঠি। চিঠিতে জ্যাক রিপার নামক এক ব্যাক্তি নিজের খুনের দায় স্বীকার করে এবং পুলিশকে ঠাট্টা করে নানারকম কথা লেখে। নারীদের যে ভবিষ্যতেও খুন করে যাবে সে এবং কী করে করবে সেগুলো সেসব সবটাই চিঠিতে বলা হয়। তবে তারপর থেকে আরো অনেক খুন জ্যাক রিপারের নামে হলেও আজ অব্দি এই খুনীকে ধরতে পারেনি পুলিশ। এমনকি আসলেও এই নামে কেউ আছে কিনা, নাকি নামের ছদ্মবেশে এখনো খুন করে চলেছে নতুন কেউ সেটাও বের করতে পারেনি তারা।
১১. বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল-
মানব সভ্যতার কতই তো উন্নতি হল। কত-শত প্রযুক্তি, কত বিজ্ঞান, কত রকমের রহস্য উত্ঘাটন চলল! তবে সে সবের চাইতে পুরোপুরি আলাদা এই ব্যাপারটি। মায়ামি, বারমুডা ও পুয়ের্তো রিকোর মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নামক স্থানটি এখন অব্দি পৃথিবীর সব মানুষের কাছেই রয়ে গেছে অসামান্য এক রহস্য হিসেবে। এর উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় উড়োজাহাজের যন্ত্রপাতিতে সমস্যা দেখা দেয়। এখানে এসে হারিয়ে গিয়েছে অনেক অনেক জাহাজ। কিন্তু কেন? এলিয়েনের নামে দোষ চাপিয়েছেন অনেকে। তবে সত্য জানা সম্ভব হয়নি এখনো।
১২. জোডিয়াক লেটারস-
১৯৬০ ও ৭০ এর দিকে একদল অপরাধীকে পাওয়া যায় যারা সান ফ্রান্সিসকোর আশেপাশেই তাদের কার্যক্রম চালাতো। কিন্তু এত নাম থাকতে তাদের নাম জোডিয়াক কেন? কারণ আর কিছু না। ধাঁধার প্রতি তাদের ভালোবাসা। পুলিশ অফিসারদেরকে নিয়ম করে কিছু চিঠি পাঠাতো তারা। সেগুলো ভেঙে তাদের মানে বের করা ছিল দুঃসাধ্য। তিনটে চিঠির মানে অনেক চেষ্টা করে বের করা হয়েছিল। তবে সেগুলোর কোন মানেই ছিলনা। কিংবা কে জানে হয়তো সেই অর্থটা চিঠির আসল অর্থ ছিলই না! তবে যাই হোক। এখনো অব্দি চিঠিগুলোর মানে না জানাই রয়ে গিয়েছে
তথ্যসূত্র- 15 biggest unsolved mistrries in the world - Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


