somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে কারণে আব্রাহাম লিঙ্কন রেখেছিলেন দাড়ি B-) B-) :)

১৭ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ১২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধুমধামের সাথে শেষ হলো ৫৭ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।ব্যাপক লড়াইয়ের পর অবশেষে দ্বিতীয় বারের মত আরো চার বছরের জন্য হোয়াইট হাউজে গেলেন বারাক ওবামা। অভিনন্দন তাকে।

বলা হয়ে থাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন পৃথিবীর সব থেকে ক্ষমতাধর ব্যাক্তি। আর তাই, তারা যখন নির্বাচনের প্রার্থী পর্যায়ে থাকেন, তখন তারাই হয়ে যান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি। এমন আলোচিত কাউকে চিঠি লেখাটা খানিকটা দুঃসাহসিক কাজ বটে! কিন্তু কেউ যদি এই দুঃসাহসিক কাজ করে তার উত্তরও পেয়ে যায়, তবে তাকে অসাধ্যসাধন ছাড়া আর কি-ই বা বলা যায়! এমনই অনন্য একটি ঘটনা ঘটেছিল ১৮৬০সালে, ১৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়।

নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন রিপাবলিকান আব্রাহাম লিঙ্কন, ডেমক্র্যাট স্টিফেন ডগলাস, সাউদার্ন ডেমক্র্যাট জন ব্রেকিনরিজ এবং নিউ কন্সটিটিউশনাল ইউনিয়ন পার্টির জন বেলকে। বলাই বাহুল্য রিপাবলিকান পার্টির আব্রাহাম লিঙ্কনের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনামুলকভাবে বেশি।



নির্বাচনের আগে যে যার মত করে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। ঠিক সে সময়ই আব্রাহাম লিঙ্কনকে চিঠি লিখে বসে ১১ বছর বয়সী এক বালিকা। চিঠিটা নিচে দেয়া হল: [‘(** **)’ চিহ্নের মাঝের কথা গুলো আমার মন্তব্য ;) ]



ডিয়ার স্যার,‍
আমার বাবা এই মাত্র মেলা থেকে আপনার একটা ছবি নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আমি ছোট্ট মেয়ে।বয়স মাত্র এগারো। আমি একান্ত ভাবেই চাই আপনিই হোন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। আমি এত ছোট যে, আমি কোন ভাবেই আপনার মত বড় মাপের মানুষের কাছে চিঠি লেখার উপযুক্ত নই। আপনি যে আমার এই চিঠির উত্তর দিতে পারবেন-তেমনটা আশাও রাখি না। আপনার কি আমার বয়সী কোন কন্যা আছে? যদি থাকে তবে তাকে আমার ভালবাসা জানাবেন আর বলবেন, সে যেন আমার কাছে চিঠি লেখে। (**সে মেয়ের কি ঠেকা পড়েছে! :-***)
আমার চারটি ভাই আছে। তাদের কেউ কেউ আপনাকে ভোট দেবে। কিন্তু আপনি যদি দাড়ি রাখেন তবে আমি চেষ্টা করবো, তাদের সবাই যেন আপনাকে ভোট দেয়। আপনার চিকন গড়নের মুখে দাড়ি রাখলে দেখতে খুব ভালো লাগবে। (**সাহস কত!! বড় একটা মানুষকে কি বলে!! :-/**) সব মেয়েই পুরুষের মুখে দাড়ি রাখা পছন্দ করে। (**ওট্টুক বয়সে মেয়ে কি পাকনা! :|**) তারা আপনাকে ভোট দেওয়ার জন্য তাদের স্বামীদের জ্বালাতন করতে থাকবে এবং আপনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়ে যাবেন। (**বালিকা মনে হয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে পুতুল খেলা ভেবেছিল :D**) আমার বাবা আপনাকে ভোট দেবেন।আমি পুরুষ হলেও আপনাকেই ভোট দিতাম। তবে আমার পরিচিতদের সবাই যাতে আপনাকেই ভোট দেয়, আমি সেই চেষ্টাই করব।
আমার একটা ছোটবোন আছে।(**ওরে, কত্ত পুলাপাইন রে! :-/ **) বয়সমাত্র ৯ সপ্তাহ, তবে বেশ দুষ্টু। যদি চিঠির জবাব দিতে চান তবে গ্রেস বেডেল, ওয়েস্টফিল্ড চটকোয়া কাউন্টি, নিউইয়র্ক-এই ঠিকানায় লিখতে পারেন।

-গ্রেসবেডেল।



ছোট্ট মেয়ে গ্রেস বেডেল খুব শখ করে এবং সাহস নিয়ে চিঠিটা লিখেছিল।কিন্তু এর উত্তর অথবা অনুরোধ রক্ষা কোনটাই নিশ্চয়ই সে আশা করে নাই। তা সে নিজেই চিঠিতে লিখেছিল। কিন্তু এই চিঠি পাঠানোর কিছুদিন পরেই গ্রেস বেডেলকে অবাক করে দিয়ে তার হাতে পৌঁছায় স্বয়ং আব্রাহাম লিঙ্কনের লেখা চিঠির উত্তর।আব্রাহাম লিঙ্কন সে চিঠিতে লিখেছিলেন;



মাই ডিয়ার লিটল মিস,
প্রথমেই দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমার কোন কন্যা সন্তান নেই। আমার তিন ছেলে। একজনের বয়স ১৭, আরেকজনের ৯ এবং অন্যজনের বয়স ৭ বছর। তারা এবং তাদের মা কে নিয়ে আমার সংসার। আর দাড়ির ব্যাপারে বলছি- যেহেতু আগে কোনদিন দাড়ি রাখিনি, এখন হঠাৎ করে শুরু করলে মানুষ হাসি-ঠাট্টা শুরু করে দিতে পারে।

তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী,
-এ. লিঙ্কন।”


যদিও চিঠিতে কোথাও দাড়ি রাখার কথা বলেননি, তবু চিঠি পাবার পর থেকে দাড়ি রাখতে শুরু করেন লিঙ্কন। কয়েক মাস পরে যতদিনে লিঙ্কন হোয়াইট হাউজের জন্য নির্বাচিত ততদিনে তার মুখভর্তি দাড়ি। হোয়াইট হাউজে পা রাখতে নিজ রাজ্য ইলিনয় থেকে ট্রেনে করে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় পথে নিউ ইয়র্কে যাত্রা বিরতি করেন লিঙ্কন। আর তখনই তিনি প্রথমবারের মত গ্রেসবেডেলেরসাথেদেখাকরেন। ছোট্ট গ্রেস বেডেলকে দেখেই তিনি বলে ওঠেন- “গ্রেসি, আমার দাড়ি দেখ, তোমার জন্যই আমি দাড়ি রেখেছি।”এরপর ছোট্ট গ্রেসিকে চুমু দিয়ে তার কাছ থেকে বিদায় নেন আব্রাহাম লিঙ্কন।



এর ৩ বছর পরে গ্রেসি আবারও লিঙ্কনকে চিঠি লিখেছিল। তবে এবার আর দাড়ি নয়- লেখার বিষয়বস্তু ছিল পারিবারিক। মাঝের ৩ বছরে গ্রেসির পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়। গ্রেসি লিঙ্কনকে ওয়াশিংটনের ট্রেজারি বিভাগে চাকরি পাইয়ে দেয়ার অনুরোধ করে। এই চিঠিটি ১৮৬৪ সালে লেখা হলেও ২০০৭ সালে, অর্থাৎ প্রায় ১৫০ বছর পরে চিঠিটি খুঁজে বের করেন এক মার্কিন গবেষক।

এই ঘটনাগুলোতে কি বোঝা গেল বলুনতো? বেশ কিছু জিনিস:
যতই মার্কিন প্রেসিডেন্ট হননা কেন, স্টাইল একটা বিষয়। আর মেয়ে মানুষ কিছু একটাকে ভাল বললেসেটাকে খুব গুরত্ব দেয়। (তা সে মেয়ে যত ছোটই হোক না কেন) সেলেব্রিটি মানুষজন কোন মেয়ের স্টাইল/লুক বিষয়ক কোন আব্দার সহজে ফেলতে পারেন না। সেটা দেড়শ’ বছর আগের জন্য ঠিক যতোটা সত্য, ঠিক ততোটাই সত্য ২০১২’র জন্যও। ;)




ইনফোঃ গুগল সার্চ, উইকিপিডিয়া।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩৯
২০টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×