মশা
এবং মাছি, দুজনেই যথেষ্ট বড় হয়েছে। দুজনেই এখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে।
দুজনের মধ্যে ভালই বন্ধুত্ব। তবে এই বন্ধুত্ব কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির
পরই হয়েছে। একই হলে, পাশাপাশি রুমে থাকে দুজনে। একই ডিপার্টমেন্টে একই
সেকশনে পড়ে। হলে পাশাপাশি রুমে থাকায় তাদের এক রকম সুবিধাই হয়েছে বলা যায়।
পড়াশুনার ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে একে অন্যকে। ওদের মধ্যে মাছির আবার
অনেক বান্ধবী। তাকে নাকি কোন এক মাছিনী পাত্তা দেয়নি। তাই এখন তার অনেক
বান্ধবী, কিন্তু কেউই মাছিনী নয়। তবে তার অনেক বান্ধবী যে সেই আদিকাল
থেকেই, তা কিন্তু সে নিজেই স্বীকার করে। সেই যখন থেকে সে স্খুলে পড়ত,
বাবা-মার সাথে থাকত, তখন থেকেই নাকি ...রা তার পেছনে উড়ত। অন্য দিকে মশার
বান্ধবী কেবলই একজন, সে আবার এক 'মশি'তে বিশ্বাসী। একটু লাজুক ...
সে যাই হোক, আমি যা বলতে চাই, তার সাথে এসব কথার কোন সম্পর্ক নেই। মাছি
প্রায়ই তার মাছিনীদের(মেয়ে মাছি) নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাই তাকে প্রায়ই মশার
কাছে যেতে হয় সাহায্যের জন্য। মশাও পারলে তাকে সাহায্য করে, সেটা যদি
ছোটখাট অনৈতিক সাহায্যও হয়, তাতেও মশা আপত্তি করে না। এই যেমন ধরা যাক,
ক্লাস পরীক্ষার কথা, মাছি প্রায়ই ক্লাস পরীক্ষার জন্য পড়ে না। হতেই পারে,
তার পড়তে ইচ্ছে করে না, কিন্তু সে পরীক্ষার দিন সকালে ঠিকই মশার রুমে গিয়ে
হাজির হয়। আর মশাকে জিজ্ঞেস করে সে সবকিছু পড়েছে কিনা। সময় হলে মশাকে নিয়ে
বের হয়ে যায় পরীক্ষার উদ্দেশ্যে, উদ্দেশ্য মশার সাথে পরীক্ষার হলে পাশাপাশি
বসা, তাহলে যদি কিছুটা দেখে হলেও লেখা যায়। মশাও তাতে আপত্তি করে না।
একদিন হল কি, মছি সেদিন পড়ে গিয়েছে পরীক্ষা দিতে। মশা কী যেন একটা প্রশ্নের উত্তর মাছিকে
জিজ্ঞেস করল। মাছি এমনভাবে এর উত্তর দিল, যেন মনে হল সে কিছু একটা বুঝিয়ে
দিয়ে পার পেয়ে যেতে চায়। যাই হোক, সেই উত্তরটা পরীক্ষর খাতায় লিখবার মতন
না।যেমন, কেউ জিজ্ঞেস করল, মেশিন এর সংজ্ঞা কী? এখন যদি কেউ তিন ইডিয়ট সিনেমার মত প্যান্টের চেইন খুলে আর লাগায় আর বলে এটাই মেশিন, তাহলে আর যাই হোক, পরীক্ষায় মার্কস নিশ্চই পাওয়া যায় না। এটা তো গেল সেদিনের কথা, এখন আজকের কথা বলি, আজ মাছি পড়ে গিয়েছে ক্লাস টেস্ট দিতে। প্রতিদিন তো সে মশার রুমে এসে মশাকে নিয়ে একসাথে যায় ক্লাস টেস্ট দিতে। আজ সে করল কী, সোজা ঘুম থেকে উঠে চলে গেল নিজেই পরীক্ষা দিতে। মশাকে একবার ডাকও দিল না। বেচারা মশা পরীক্ষার সময় সম্পর্কে সন্দিহান ছিল। সে ভেবেছে ৯ টায় পরীক্ষা, তার ঘুম থেকে উঠতেই বেজে গেল ৯টা ১০। তাই সে মনের দুঃখে আর পরীক্ষা দিতেই গেল না। ওদিকে মাছি তো পরীক্ষা দিয়ে বেজায় খুশি। রুমে গিয়ে সে মশাকে বলল, কিরে, পরীক্ষা দিতে যাসনি কেন?মশা আর কী বলবে...
হয়ত পাঠকদের অনেকেই বলতে পারেন, এটা তো খুবই ছোট একটা ব্যাপার। কিন্তু, ছোটখাট ব্যাপার দিয়েও অনেক সময় মানুষকে চেনা যায়, তাই নয় কী? তাছাড়া ছোট ছোট বিষয়গুলোই তো একদিন অনেক বড় মনোমালিন্যের জন্ম দেয়...
কবির ভাষায়ঃ
ছোট বালুকার কণা, বিন্দু বিন্দু জল
গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল...
এই মুহূর্তে আর মনে পড়ছে না।
কাল নাকি বন্ধু দিবস। এখন তো বন্ধুর ডেফিনিশনই চেঞ্জ হয়ে গেছে। ডেফিনিশন চেঞ্জ হয়েছে কিনা জানি না, কিন্তু কনসেপ্টটা অনেক বদলে গেছে। তাই বন্ধু তথা মানুষকে চেনার ব্যর্থ চেষ্টা কিছুটা হলেও করা উচিত বলে আমি মনে করি। বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


