somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাস্তিকতা এবং আমাদের মুক্ত চিন্তা

১১ ই আগস্ট, ২০১৫ ভোর ৫:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসলে নাস্তিকতা কি কোন ধর্ম ।বিষয়টা অনেক জটিল করে তুলছে আমাদের জীবনকে ।নাস্তিকতা কি ?নাস্তিক হচ্ছে তারা যারা কোন বিশেষ বিশ্বাসের /মতাদর্শের অনুসারী ।যারা স্রষ্ঠায় বিশ্বাসি না ,যারা কোন ধর্মীয় কোন বিশেষ রীতি আচার মেনে চলেনা । বর্তমান পৃথিবীর ২.৩% মানুষ নিজেদের নাস্তিক বলে পরিচয় দেয় এবং ১১.৯% মানুষ কোন ধর্মেয় বিশ্বাস করেনা ।নাস্তিকেরা বিভিন্ন মতাদর্শের হলেও তাদের মিল এক জায়গায় তা হচ্ছে তারা ইশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে ।
মুক্তচিন্তা কি?মুক্তচিন্তা হচ্ছে এক প্রকার দার্শনিক চিন্তাভাবনা যেখানে বিজ্ঞান ,যুক্তিবিদ্যা এবং যুক্তির আলোকে সিধান্ত নিতে হয় ।মতামত গঠণের ক্ষেত্রে প্রথা, অন্ধ বিশ্বাস এবং কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া বাঞ্চনীয় নয় ।তাহলে মুক্ত চিন্তায় কোন কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া যাবেনা বা কোন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা যাবেনা ।কিন্তু আমাদের দেশে যারা মুক্ত চিন্তার চর্চা করে তারা আসলে কোন একটা ধর্ম নিয়ে বিকৃত মানসিকতার লেখা লেখে যা ওই ধর্মের বিশ্বাসের সাথে সাংঘরসিক ।কারণ মুক্ত চিন্তা আর ধর্ম আবমাননা একনা ।মুক্ত চিন্তা গুলন হবে বিজ্ঞান দ্বারা স্বীকৃত ।যা মানব কল্যাণমুলক এবং মানুষের ভুল গুলোকে সঠিক দিক প্রদশন করবে।মানুষের মাঝে মানবতা এবং সভ্যতার আলোক বর্তিকা হয়ে থাকবে।।শিক্ষা আমাদের জ্ঞান অজন করে মানব কল্যাণমুলক করতে বলে জ্ঞানপাপী হতে বলেনা । কিন্তু কিছু জ্ঞানী জ্ঞান অজন করে জ্ঞানপাপী রুপ ধারণ করে সমাজে বিচ্ছৃংখলা সৃষ্ঠি করে। ।যা অন্যর নাগরিক অধিকার হরণ করে।নাগরিক অধিকার দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।নাগরিক অধিকার রক্ষা করতে সৃষ্টি হয় আইন।যা কখনো এসেছে সমাজের বিভিন্ন প্রথা কিংবা বিভিন্ন সমস্যা থেকে।মুক্তচিন্তার মুখশে ধর্ম বিদ্বেষীদের থামাতে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনের ২৯৫(ক) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে বাংলাদেশের যে কোনো নাগরিকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অসদুদ্দেশ্যে লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য দ্বারা কিংবা দৃশ্যমান অঙ্গভঙ্গি দ্বারা সংশ্লিষ্ট ধর্মটিকে বা কারো ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবমাননা করে বা অবমাননার চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিকে দুই বছর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড কিংবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে ।উল্লেখ্য, ১৮৬০ সালের মূল আইনে এ ধারাটি ছিল না। পরবর্তীতে ১৯২৭ সালে এক সংশোধনীর মাধ্যমে এ ধারাটি যুক্ত করা হয়। তাহলে ,বাংলাদেশে মুক্ত চিন্তা বলতে ধর্ম নিয়ে কোন আবমাননাকর কিছু বলা বা লেখা যাবেনা ।তাহলে বাংলাদেশে মুক্ত চিন্তাগুলো ধর্মীয় উস্কানিমূলক হওয়া যাবেনা ।বাংলাদেশে এই আইন হওয়ার আরও আগে থেকে ধর্ম অবমাননা আইন আছে।গ্রিক শব্দ ব্লাসফেমেন থেকে ব্লাসফেমি শব্দের উৎপত্তি। যার অর্থ ধর্ম নিন্দা বা ঈশ্বর নিন্দা। এক কথায় কারো ওপর অপবাদ বা কলঙ্ক আরোপ করা বা সম্মানে আঘাত করাই ব্লাসফেমি। তবে ব্লাসফেমি বলতে প্রকৃতপক্ষে ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অসম্মান বোঝায়। প্রাচীন ও মধ্যযুগে ইউরোপে ব্লাসফেমির উদ্ভব হয়েছিল।ইউরোপে সর্বপ্রথম এই আইনের প্রবর্তন করা হয়।ধর্ম মানুষের পবিত্র বিশ্বাস অন্যদিকে মুক্তচিন্তা হচ্ছে নিজেস্ব চিন্তা যা বিজ্ঞান সম্মত ।নাস্তিকতা হচ্ছে ঈশ্বরহীন নিজস্ব ধারানায় বিশ্বাস যা প্রচালিত নিয়ম থেকে আলাদা ।নাস্তিকতা মুক্তচিন্তার একটা আংশ যা আন্যর বিশ্বাস নিয়ে আঘাত করতে বলেনা ।যেখানে নিজের বিশ্বাস অন্যর মাঝে ছড়িয়ে দেয়া যায় ছোট করা যায়না ।কিন্তু বর্তমান আমাদের দেশে সৃষ্ঠ নাস্তিকেরা শুধু একটা ধর্ম নিয়ে হেয় কথা বলা এবং সেই ধর্মের বিশ্বাসীদের প্রতিনিয়ত বিশ্বাসে আঘাত করে যাচ্ছে ।উপরের উল্লেখিত আইন এইসব জ্ঞানপাপীদের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে ।নাস্তিকতা থাকা দরকার তার বিশ্বাস নিয়ে ।অনেক মহাপুরুষ নাস্তিক ছিল কিন্তু তারা ধর্মকে ছোট করতনা ।তাদের মহৎ কোন চিন্তা দ্বারা সমাজের ভাল দিকে নিয়ে যেত।মুক্তচিন্তা আছে থাকা দরকার আমাদের জন্য আমাদের সমাজ কে সঠিক পথ দেখানোর জন্য ।মুক্তচিন্তা আমাদের সবার মাঝে লালন করা উচিত জ্ঞানের বিকাশের জন্য ।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৭:০৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাবধানের মার্ নেই

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩১


নিউ ইয়র্ক থেকে ফিরার পথে নিউ আর্ক্ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যখন এরোপ্লেনে উঠে নির্দিষ্ট সীটের কাছে পৌঁছলাম দেখলাম এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক জানালার পাশের সিটটাতে অলরেডি বসে আছেন। আইল ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×