শশীকে নিয়ে আজ ঘুড়তে বের হবো। ও আমার বাসার সামনে থেকে একটু দূরে রিক্সা নিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। কী হলো তুমি এখন কোথায় ? বাসা থেকে আসতে এতো সময় লাগে । প্লিজ রাগ করো না এই তো এসে গেছি। আর মাত্র ১ মিনিট লাগবে। আমি এখনও বাসাতেই আছি গার্ল ফ্রেন্ড নিয়ে বের হবো একটু সাজগোজ না করলে কী চলে। আমি খুব নিঁখুদ ভাবে শেভিং করছি। আবার শশীর ফোন.... এই কী হলো ? এই তো জান এসে গেছি। আর একটু wait করো। দাড়াও আজ আসো তোমার সব চুল আমি ছিড়বো। মাথায় একটা চুল রাখবো না।

বাসা থেকে বের হতেই কে জানি পিছন থেকে ডাক দিলো সামি ভাই... সামি ভাই !!! আমি পিছনে ফিরতেই দেখি আমাদের ম্যাসের ছোট ভাই নোমান । সাইকেল নিয়ে দাড়িয়ে আছে। ভাই এতো নায়ক সেজে কোথায় জান ?। আমাকে শেকঘাট পয়েন্টে নিয়ে যাও যেতে যেতে বলছি। ইতিমধ্যে শশীর ১০-১২ মিসকল এসে হাজির । আসলে মিস কল বল্লে ভুল বলা হবে কল না ধরাতেই এই অবস্থা।
শেকঘাট পয়েন্টে নোমান আমাকে নামিয়ে দিতেই আমি ওকে বললাম ঠিক আছে রাতে মেসে এসে কথা হবে। নোমান সাইকেল নিয়ে ঐ জায়গা থেকে হাওয়া হয়ে যেতেই । আমি একটু সামনে তাকালাম। একটা রিক্সা নিয়ে শশী বসে আছে। রিক্সার হুক খোলা তাই দূর থেকেই ওকে দেখতে পেলাম। মুখে বিন্দু বিন্দু ঘামের ফোটা, গালগুলো রাগে লাল লাল হয়ে আছে। তারপরও ওকে অন্যান্য দিনে চেয়ে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে। আমি বললাম কোথায় যাবে। জাহান্নামে যাবো


। তোমার আমার সাথে যেতে হবে না। আমি রিক্সার ড্রাইভারের দিকে হাসি হাসি ভঙ্গিতে

তাকিয়ে বললাম ভাই জাহান্নামের ভাড়া কত ? রিক্সাওয়ালা মনে হচ্ছে আমাদের কথাবার্তায় মজা পাচ্ছে। একটু মধ্যবয়সী লোক বয়স দেখে মনে হচ্ছে ৩০-৩২ হবে। আগে উডেন ভাড়া যা তাই তো চামু বেশি চামু কেন। আমার ভাবভঙ্গিতে শশী মনে হচ্ছে আরো বেশি ক্ষিপ্র হয়ে গেছে। সে রাগান্বিত কন্ঠে

বলল উঠল বসো ভাড়া জিজ্ঞাস করতে হবে না। । আমি বললাম তুমি জানো না রিক্সার ড্রাইভারা ইয়াং ছেলেদের সাথে কোন ইয়াং মেয়ে দেখলে প্রেমিক প্রেমিকা মনে ভাড়া বেশি দাবি করে। প্রেমিক বেচারাকে তখন পড়তে হয় বিপদে , বেশি ভাড়া দিতে হয়। তাই আগে ভাগে জিজ্ঞাস করে নেওয়াটাই better। তুমি কী করে জানো? তুমি কী এর আগে কাউকে নিয়ে এই রকম পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছ। যাক এতো দিন পড় তোমার রহস্য বের হলো


। আমার আগেও তোমার রিলেশন ছিলো তাহলে

। আমি কোন কথার উত্তর না দিয়ে রিক্সায় উঠে বসলাম । ড্রাইভারকে অসহায় ভঙ্গিতে বললাম ড্রাইভার ভাই জাহান্নামের দিকে রওনা হওয়া যাক

রিক্সা টানেন।

আর ভাড়া নিয়েন আপনার ইচ্ছে মতো । আমি আর কিছু বলল না । রিক্সা কিছুক্ষন চলার পর জিন্দাবাজার পয়েন্টে আসা মাত্র ড্রাইভার পেছনের দিকে তাকিয়ে বলল এখন কই যামু । হমমম ... আচ্ছা নাইওরপুলের দিকে যাও দেখি । ওখানে ভালো একটা রেস্টুরেন্ট আছে .. কী বলো শশী ... শশীর দিকে তাকালাম সে কোন উত্তর দিলো না। । রিক্সা নাইওরপুলের দিকে চলছে। আমি জড়োসরো হয়ে শশীর পাসে বসে আছি। শশী খুব ক্ষিপ্র ভঙ্গিতে আমার দিকে বার বার তাকেচ্ছে। কোন কথা বলছে না, কোন কথা জিজ্ঞাস করলে উত্তরও পাওয়া যাচ্ছে না।
আমরা এখন নাউওরপুল টুনাটুনি রেস্টুরেন্ট আছি। চমৎকার পরিবেশ । প্রেম করার জন্য খুব উপযুক্ত পরিবেশ । শশীকে বললাম চলো উপরে গিয়ে বসি খুব নিড়িবিল পরিবেশ আছে। তোমার ভালো লাগবে। এই কথা বলতেই সে মনে হলো আমার উপর আরো খেপে গেছে

। চেয়ারের উপর তার বেনিটি ব্যাগটা টাস করে রাখল । চেয়ারে বসেই আমার দিকে তাকিয়ে বলল তোমার সাথে তো আজ এখানে আমার ফাস্ট আসা সো তুমি কী করে জানো রেস্টুরেন্টের উপরে নিড়িবিল পরিবেশ আছে। আরে মুসকিল সেটা জানার জন্য রেস্টুরেন্ট আসতে হবে নাকি বন্ধুদের কাছ থেকে শুনেছি


।



শশীর মনে ইতিমধ্যে আমাকে নিয়ে সন্দেহের বীজ বপন হয়ে গেছে। তাই যাই বলছি তাতেই সে অন্য রকম রিয়েক্ট করছে। excuse me স্যার ম্যানু বলে রেস্টুরেন্টের ওয়েটার শশীর দিকে ম্যানু কার্ড এগিয়ে দিলো । শশী ম্যানু হাতে নিয়ে ওয়েটারকে জিজ্ঞাস করল আচ্ছা ওর দিকে তাকিয়ে ভালো করে দেখেন তো ও কী এর আগে আপনাদের রেস্টুরেন্টে আসছিলো কী না। ওয়টারকে আমার দিকে খুব ভালো করে নজর দিয়ে দেখতে শুরু করল । তার ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে যে তাকে বিয়ের জন্য মেয়ে পছন্দ করতে বলা হয়েছে।

সে খুব পড়ক করে মেয়ের খুটিনাটি দেখছে। আর মনে মনে ভাবছে বিয়ে করা যায় কীনা। অনেকক্ষন দেখবার পর সে বলল জি ম্যাডাম আসছে।



কোন মেয়েকে নিয়ে আসছে ? ম্যাডাম সেটা ইয়াদ নাই। মনে করে দেখ তো .. শশী ওয়েটারের দিকে ১০০ টাকার একটা নোট বাড়িয়ে দিয়ে বলল এবার মনে আসতাছে? ওয়েটার খুব খুশি খুশি ভঙ্গিতে বলল ম্যাডম ইয়াদ আসতাছে না ... আমি ইয়াদ করতে চেষ্টা করি আপনারা বরং কিছু ওয়াডার দেন। আমি ওয়েটারকে বললাম আপনার ইয়াদ করার দরকার নাই। আপনি অন্য কাউকে দেখছেন হয়তো । মানুষের মতো মানুষ থাকতে পারে না। তাছাড়া আপনার ভুলও তো হতে পারে তাই না। আপনি বরং যান আপনাদের এখানে কী জানি Special Thai Soup আছে সেটা নিয়ে আসেন। ওয়েটার ঠিক আছে বলে চলে গেল। আমি শশীর দিকে তাকিয়ে বললাম শোন আমি তোমার আগে এখানে আর কাউকেই নিয়ে আসি নি। সো প্লিজ জান তুমি একটু ঠান্ডা হয়ে বসো । সুপটা খাও।
আজ কী হয়েছে। বুঝতে পাছনি না । যাই বলছি। শশী তাতেই রাগ করে বড় বড় চোখ করে আমার দিতে তাকাচ্ছে। ওদের স্যুপটা ভালো এই কথা শুনে আরো ক্ষিপ্র ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। হটাৎ করে সে আমার হাত থেকে মোবাইল সেট টেনে নিযে গেল। কী হলো এমন করছো কেন মোবাইল দেও। কেন তোমার মোবইল কী আমি দেখতে পানি না। হ্যা পারো আগে Soup টা ঠান্ডা হয়ে খাও মিছি মিছি আমার উপর সন্দেহ করো না। তুমি খাও খেয়ে তোমার মাথা ঠান্ডা করো আমার মাথা ঠান্ডাই আছে।


শশী টুনাটুনির স্পেশাল Soup খাচ্ছে না। স্যুপের বাটি সামেন রেখে আমার Contact List Check করছে। আর ওয়েটার বেটা বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে আর মাথা চুলকানো ভঙ্গিতে মনে হচ্ছে কী জানি ইয়াদ করাবার চেষ্টা করছে। মনে মনে ভাবছি। আজ আমার খবর আছে।
{চলবে.........}
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১০:০৮