somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শায়মা
দীপ ছিলো, শিখা ছিলো, শুধু তুমি ছিলেনা বলে...

পেডাগোজিকাল ট্রানজিশন- শিশু শিক্ষনে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কি ধরনের উদ্যোগ নেয়া যায়

২১ শে অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


করোনাকালীন চার দেওয়ালে বন্দী জীবন ও অনলাইনের ক্লাসরুমের মাঝে গত বছর নভেম্বরে BEN Virtual Discussion "শিশুদের নিয়ে সব কথা" একটি টক শো প্রোগ্রাম থেকে ইনভিটেশন এলো। আমি এমনিতে আসলেই একটু লজ্জাবতী আছি কিন্তু হাজার হোক শিশুদের সাথে কাজ করছি বেশ কিছু বছর হলো আর শিশুদের নিয়ে একটু কথা না বললে কি চলে? তাই ভাবলাম একটু ভাবি এবং জানি।

সে যাই হোক তাদের জানবার বিষয়গুলো নিয়ে আমাকে একটু ভাবতে হলো। তাদের প্রথম প্রশ্নটি ছিলো -
প্রাইভেট সেক্টরের অভিজ্ঞতায় প্রি-প্রাইমারি থেকে প্রাইমারিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে Pedagogical transition এর বিষয়ে আমরা বা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি উদ্যোগ নিয়ে থাকি?

পেডাগোজিকাল ট্রানজিশন। এই কথাটা শুনলে সবাই একটু ধাক্কা খায়। আমিও খেয়েছিলাম। কিন্তু শুনতে একটু খটোমটো শোনালেও আসলে ব্যপারটা কিন্তু সহজ সরল পথ পরিক্রমার সাথেই আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। এখানে পেডাগোজিকাল ট্রানজিশন বলতে বুঝানো হয়েছে প্রি প্রাইমারী থেকে প্রাইমারীতে মানে এই একটি ধাঁপ থেকে আরেকটি উচু ধাঁপে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে যেন একটি শিক্ষার্থী পার হয়ে যেতে পারে তার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় কি কি ক্রাইটেরিয়া বা মেথড ব্যবহার করে শিক্ষার্থীর এই পথ চলাকে মসৃন বাঁধাহীন করা যায় সেই ব্যপারটিকেই। সোজা কথায় সিড়ির একটি ধাপ থেকে পরের ধাপটিতে খুব সহজে উঠে পড়ার শিক্ষণের উপায়টাকেই বুঝানো হয়েছে আর কি।

আমি খুবই ভাগ্যবতীদের একজন যে কিনা এমন একটি স্কুলে কাজ করছি যেখানে এই পেডাগোজিকাল ট্রানজিশনের জন্য আমরা আমাদের লেসন প্লানে ও ক্লাসরুমে যেসব ক্রাইটেরিয়াগুলি রাখি সেসব আসলেই বড়ই কার্য্যকরী ও বলতে গেলে প্রায় অব্যর্থ। তাই বাচ্চারা মনের আনন্দে এগিয়ে যায় এক ক্লাস থেকে আরেক ক্লাসে অবলীলায় এবং এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে আনন্দে। কিছু উনিশ বিশ তো থাকবেই। কিছু করার নেই? এটা বললেও চলবে না। তাদেরকে নিয়েও বিশেষ কিছু ক্রাইটেরিয়া বা নির্নায়ক অনুসরন করতে হয়। সোজা কথায় একটি স্কুলে বাচ্চারা না শিখতে পারার বিষয়টা মূলত বাচ্চার উপরে না শিক্ষকের উপরেই বর্তায়। যদিও সবাই সমান মেধা নিয়ে জন্মায় না কিন্তু প্রতিটা শিশুর মাঝে যা আছে সেটা একটিভেট করতে বা কাজে লাাগাতে পারে না বা করে না। তাই এই একটিভেট করবার ব্যপারগুলোতে অভিভাবক এবং শিক্ষকের কিছু করণীয় আছে।

যাইহোক শিশুর এক ধাপ হতে আরেক উঁচু ধাপে অতি সহজে এগিয়ে যাবার ব্যাপরটা বা পেডাগোজির যে ৫ টি বিশেষ নীতি বা রুলস আছে তা আমরা বিশেষভাবে ফলো করা উচিৎ। পেডাগোজির ৫ টি বিশেষ নীতি বা রুলসগুলি হলো- ১। diversity বা বৈচিত্র্যতা ২। design বা নকশা ৩। engagement বা স্টুডেন্ট ইনভল্ভমেন্ট বা স্টুডেন্ট সেন্টারড একটিভিটি পরিচালনা করা। ৪। assessment বা মূল্যায়ন ৫। evaluation and monitoring অর্থাৎ মূল্যায়ন এবং পর্যবেক্ষণ।

এখন একটু খুলে বলি একটি ক্লাসরুমে বা লেসনপ্ল্যানে এসব অনুসরন করে চললে একজন শি্ক্ষার্থীর চলার পথ অবশ্যই মসৃণ হয় বলেই আমার বিশ্বাস। যেমন-
Diversity বা বৈচিত্র্যতা -একজন শিক্ষার্থী যেন তার পড়ালেখায় একঘয়ে বোধ না করে এবং সহজেই তার ইন্টারেস্ট নিয়ে শিখতে পারে তার জন্য শিক্ষায় বৈচিত্র আনতে হবে এবং তারা যেন বিভিন্ন উপায়ে শিখতে পারে এটিই খেয়াল রাখতে হবে। এটি পেডাগোজির প্রথম শর্ত। এই কারণে আমরা আমাদের পাঠ্যক্রমে শিক্ষার বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে থাকি। যেমন এই ক্ষেত্রে একটি ৪০ মিনিট ক্লাসের শুরুতেই লেসনে সার্কেল টাইম আইস ব্রেকিং একটিভিটি রাখা যেতে পারে যা শিক্ষার্থীর খুব দ্রুত মনোযোগ এনে দিতে পারে। যেমন সেটা হতে পারে কিছু ইনফরমাল একটিভিটি, বা আনইউজুয়াল সাউন্ড বা মিউজিক। এছাড়াও আমরা হ্যান্ডস অন একটিভিটি ব্যবহার করি। যেমন একটি লেটার বা নাম্বার শেখার আগে স্যান্ড বা রঙ্গিন বালুর ট্রেতে আঙ্গুল ডুবিয়ে লিখে লিখে চর্চা করা বা নানা রকম খেলাধুলার মাধ্যমে শেখা বা গল্পের মাধ্যমে বা ছবি আঁকার মাধ্যমে...


লেখা প্রাকটিস বালু/ সুজি/ ময়দা লবনের ট্রেতে খেলা খেলা পদ্ধতিতে
আইসব্রেক/ সার্কেল টাইম/ দ্রুত মনোযোগ আকর্ষনের কিছু কৌশল
একটি শিশুর সব ধরনের মালটিপল ইনটেলিজেন্সগুলি চিন্তা করে শিক্ষক তার লেসন প্লানে নানা রকম বৈচিত্রতা আনে। ডিফারেন্ট স্ট্রাটেজী, গ্রুপ ওয়ার্ক, ইনডিভিজুয়াল ওয়ার্ক, প্রাকটিকাল লার্নি, ফিল্ড ট্রিপ, বিভিন্ন রকম শিক্ষামূলক ভিডিও, অ্যানিমেশন। বৈচিত্রতা আনার জন্য এবং ইন্টারেস্টিং লার্নিং এর জন্য নানা রকম শিক্ষার সরঞ্জাম বা রিসোর্সেস ব্যবহার করা হয়।

Design বা নকশা -Teaching রিসোর্সেস যেমন যে কোনো ছবি, ব্লক, খেলনা ম্যাপ যেন ভাল ডিজাইনের বা বুঝতে পারা যায় এমন সরঞ্জামগুলি ব্যবহার করা উচিৎ। এ ব্যাপারে আমরা নানা রকম টিচিং ওয়ার্কশপ করি আইডিয়া শেয়ারিং এর জন্য । অন্যান্য স্কুল ও তাদের শিক্ষা পদ্ধতির সাথে সংযুক্ত থাকি, তাদের পরামর্শ গ্রহন করি। একটি বছরের কতটুকু পাঠদান হলো সেটার সাথে আগের বছরের সামঞ্জস্য রাখি।


Student engagement -ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদেরকে এনগেইজ করতে হবে। শুধু টিচারেরাই কথা বলে গেলো বা নিজেই সব করে দেখালো এতে শেখাটা আসলে কোনোভাবেই ঠিকঠাক হয় না। আগেই বলেছি আইসব্রেকিং টাইপ একটিভিটি দ্রুত মনোযোগ যেমন আনে তেমনই শিক্ষামূলক ভিডিও, পিয়ার ওয়ার্ক বা গ্রুপ ওয়ার্ক এই সব পদ্ধতি ইউজ করে student-centred একটিভিটি গড়ে তোলা হয়।

Assessment বা মূল্যায়ন - সারা বছর জুড়েই ক্লাস এসেসমেন্ট করা হয়। formative and cumulative assessments হয়ে থাকে। ( During a learning activity, To improve learning ) summative assessments কমানোর যে ব্যপারটা পেডাগোজি ট্রানজিশনে আছে তা আমাদের প্রি প্রাইমারীতে নেই।আমরা সামেটিভ এসেস করি না।


Evaluation and monitoring অথবা মূল্যায়ন এবং পর্যবেক্ষণ- ক্লাসে এবং পারিবারিক কিছু ক্ষে্ত্রে নজর রাখা হয়। তাদের ব্যাক্তিগত সম্পর্ক ও যোগাযোগের সাথে সংযুক্ত থাকার যে ব্যাপারটি আছে তা খুব বেশি ভাবে হয় না। প্যারেন্টস মিটিং রয়েছে প্রতিটা টার্মেই। এছাড়াও শিক্ষার্থী সম্পর্কে কোনো ইমপ্রুভমেন্ট জানাতে হলে ফ্যামিলীর সাথে যোগাযোগ করা হয়। এখন বর্তমানে অনলাইন ক্লাসে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব না। কাজেই online notifications for missed assignments, অপেক্ষাকৃত দূর্বল স্টুডেন্টদের জন্য এক্সট্রা ক্লাস বা রেমিডিয়াল ক্লাস নিয়ে থাকি। মোট কথা প্রি প্রাইমারী থেকে প্রাইমারীতে ওঠার এই উঁচু ধাপটাতে শিশুরা যেন খুব সাচ্ছন্দ্যে যেতে পারে সেই ব্যাপারটিকে নিশ্চিৎ করতে এই ক্রাইটেরিয়াগুলি ফুলফিল করা বড়ই জরুরী।

এরপর আসি পরের প্রশ্নে।
শিশুদের শেখার পরিবেশকে আনন্দময় ও আকর্ষণীয় করার জন্য শিক্ষকদের শিশুর বিকাশ সম্পর্কিত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কি ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ?

এই প্রশ্নটি কিন্তু বড়ই জরুরী। আমি মনে করি এক্ষেত্রে স্কুলের যেমন ভূমিকা আছে তেমনই শিক্ষকদের একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। শিক্ষকদের ভূমিকা এবং উদ্যোগটাই মূলত জরুরী এই জন্য যে, কোনো বিষয়ে শিক্ষাদানের আগে প্রয়োজন একটি সুষ্ঠ পরিকল্পনা। যা আমরা লেসন প্লান বলে থাকি। একটি বিষয়ের উপর একটি টিচারের সুন্দর একটি এফেকটিভ লেসন প্লান দাঁড়া করানো অতীব জরুরী। যা আমাদের স্কুলে রয়েছে।

এই লেসন প্লানে রয়েছে যে কোনো বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য শিশুর মনস্তাত্তবিক ও শাররিক দিকগুলির বিষয়ে খেয়াল রাখা এবং আমাদের স্কুলে এই বয়সের বাচ্চাদের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে ক্লাসরুমে পাঠদানে কিছু স্ট্রাজেডি ফলো করা হয়। তার মধ্যে আইস ব্রেকিং যা কোনো বিষয় বা টপিকে বাচ্চাদের আকর্ষন খুব দ্রুত আনার জন্য আনন্দময় কোনো আচরন, খেলা, শব্দ সঙ্গীত এমন কিছু। এটি আমি এই লেখার প্রথম প্রশ্নেও উল্লেখ করেছি।

এছাড়াও যে কোনো বিষয়ে পুঁথিগত বিদ্যা বা রিটেন ওয়ার্কে যাবার আগে হ্যান্ডস অন একটিভিটি বা হাতে কলমে চর্চা করানো হয়। সেটা একটু বিস্তারিত বিশ্লেষন করি।
যেমন শেইপস বা কালার শিখানোর সময় বুক ওয়ার্কের আগে শিশুরা ক্লাসরুমে ইনডোর গেম বা খেলনা দিয়ে বা গল্প দিয়ে বা কোনো রোল প্লে দিয়ে খুব সহজেই আনন্দের সাথে শিখে ফেলতে পারে। এখানে এসব একটিভিটিতে শিশুরা যেমনই আনন্দ নিয়ে শিখতে তেমনই শেখাটা সহজও হয়। এখন এই হ্যান্ডস অন একটিভিটিকে আনন্দময় করে তোলার কাজটা শিক্ষকের । তাকেই সবটা সময় এই একটিভিটিগুলি পরিচালনা করতে হয় এবং শিশুদেরকে সেই একটিভিটিতে ইনভল্ভ করা হয়। প্রতিটা শিশু যেন সুযোগ পায় সেই অবস্থা নিশ্চিৎ করা হয়। এছাড়াও আমরা পড়ালেখার বই খাতা পেন্সিল ছাড়াও নানা রকম রিসোর্সেস ইউজ করি।


এরপরই আমি বলবো শিশুর সাথে শিক্ষকের ইতিবাচক সম্পর্ক- আনন্দময় শিক্ষাদানের জন্য শিক্ষকের ব্যবহার বা ইতিবাচক সম্পর্ক অতি গুরুত্বপূর্ণ। হাসিমুখ এবং সুন্দর ব্যবহার এবং গ্রহনযোগ্য মানসিকতা তথা ইতিবাচক সম্পর্ক বাচ্চাদেরকে মানসিক নিরাপত্তা দেবে ও শিশুর বিকাশ এখানে আনন্দময় ও সুষ্ঠ হবে। শিশু যে কোনো বিষয়েই দক্ষতা অর্জন করতে আগ্রহী হবে। আমাদের স্কুল এ ব্যাপারে অনেক বেশি যত্নশীল।

শিশুর মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিতিকরণ- শিশু যেন বিশেষ করে মানসিক ও শাররিক দুই ক্ষেত্রেই নিরাপদ অনুভব করে। স্কুলের পরিবেশ, ক্লাসরুম এনভায়রনমেন্ট, ক্লাসরুমের আসবাবপত্র যেন নিরাপদ হয় ও সহপাঠিরা যেন একে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল ও সহযোগীতাপূর্ণ মনোভাবের হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের স্কুল এ ব্যাপারগুলিতে অনেক বেশি খেয়াল নিয়ে থাকে।

বুলিং - যদিও বুলিং ব্যাপারটা এ বয়সে তেমন প্রকট হয় না তবুও শিশু বিকাশে অনেক সময় বুলিং সে সহপাঠি হোক বা টিচার হোক বা প্যারেন্টস হোক যে কারো দ্বারাই হতে পারে। তাই এই ব্যাপারে সুষ্ঠ মনিটরিং প্রয়োজন।এবং শিশুদের মধ্যে খুব ছোট থেকেই এন্টি বুলিং পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।


প্রথম দুটি ছবি নেট থেকে আর ৩ নং ছবিটা আমার অনলাইন ক্লাসের বাচ্চাদের বানানো এন্টি বুলিং পোস্টার মেকিং ছবি থেকে নেওয়া।
ইনডোর ও আউটডোর গেইম - শিশুদের বিকাশে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে খেলাধুলার জুড়ি নেই, ইনডোর গেইম যেমন বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটায়, নিয়ম কানুন মানতে শোখায় আউটডোর গেইমও একই ভাবে শিশুর শাররিক ও মানসিক বিকাশে সাহায্য করে। সঙ্গীত, নৃত্য, ছড়া কবিতা ও আঁকাআকীর মত সৃজনশীল চর্চা - এই বিষয়গুলি যেমনই শিশুদের সুকুমার বৃত্তিকে বিকশিত করে তেমনই মানসিক প্রফুল্ল দেয়। এই বিষয়গুলির মাধ্যমে শিশুদের সৃষ্টিশীল প্রতিভার পাশাপাশি চিন্তা করার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

গল্প শোনা ও গল্প বলা - গল্প শোনার মধ্যে দিয়ে শিশু যেমনই নানা বিষয়ে শিখতে পারে তেমনই কল্পনা করার দক্ষতা অর্জন করে ও স্পিকিং পাওয়ার ভয় ভীতি ও জড়তা কাটোয়ে উঠতে শিখে। আমাদের স্কুলে লাইব্রেরী চর্চার ব্যাবস্থা আছে এবং নিয়মিত শিশুদেরকে লাইব্রেরী ব্যবহার শেখানো হয় ও সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে।
আর্ট অব স্টোরী টেলিং
বই পড়ার চর্চা ও নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করা বা ক্রিয়েটিভ রাইটিং - লাইব্রেরীতে বুক রিডিং চর্চা ছাড়াও ক্রিয়েটিভ রাইটিং এর ব্যাবস্থা করা হয়। শিশু শ্রেনীর বাচ্চারা লিখতে জানেনা পুরো বাক্য তাই তারা গল্পের চরিত্রগুলি আঁকে এবং তা পর পর সাজিয়ে গল্পও তৈরী করে।
মেধা বিকাশে শিশুর খেলনা ও খেলা- কোনটা দেবো, কিভাবে খেলবো (প্যারেন্টস এ্যন্ড টিচারস গাইড)
বয়সভিত্তিক খেলনার ব্যবহার- ইনডোর গেইমের খেলনা শিশুর বিকাশ ও শিক্ষায় যথার্থ ব্যবহার করা গেলে শিশু নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে ও নানা রকম শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করতে শেখে। প্রি স্কুল শিশুদের জন্য ক্লাসরুমে প্লে টাইম বা খেলার সময় দেওয়া হয়। সেসব সময়ে শিশুরা একে অন্যের সাথে খেলাধুলার মাধ্যমে যেমনি শিখে থাকে তেমনই টিচারেরাও নানা রকম একটিভির মাধ্যমে শিশুদেরকে নানা বিষয়ে শিখিয়ে থাকে। এছাড়াও শেয়ারিং এন্ড কেয়ারিং, অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া বা একই খেলনা বা স্টোরী বুক শেয়ার করে খেলা এবং পড়া এসব দিকগুলির বিষয়েও নানা রকম একটিভিটি করা হয়ে থাকে। ইদানিংকালে কম্পিউটার নলেজ অনেকটাই জরুরী। তাই এই বয়সে শিশুর কিছুটা হলেও কম্পি্উটার মাউস হ্যান্ডেলিং এ সবে হাতে খড়ি হওয়া উচিৎ এ সময়েই। তাই আমরা কম্পিউটারে আনন্দময় শিক্ষামূলক গেইমস ম্যাচিং কালারিং ড্রাগিং করিয়ে থাকি। কাজেই আমাদের আছে মিউজিক, লাইব্রেরী, আর্ট এবং কম্পিউটার ক্লাস যা সাধারণ ক্লাসগুলির পাশাপাশি করা হয়ে থাকে।


টুইংকল টুইংকল লিটিল স্টার হাও আই ওয়ান্ডার হ্যোয়াট ইউ আর!
নানা রকম ইভেন্ট যেমন আর্ট কম্পিটিশন, স্পোর্টস, কালচারাল প্রোগাম, বুক উইক, পয়েট্রী রেসিটেশন কম্পিটিশন, এসব তো রয়েছেই। আর এসব ক্লাসগুলোতেও নানা রকম ইন্টারেস্টিং এবং এট্রাক্টিভ ওয়েতে শেখানো হয় যে শিশুরা আনন্দ নিয়ে শেখে।
এছাড়াও Confidence built up এর জন্য আমরা presentation করিয়ে থাকি। ক্লাসরুম এবং এসেম্বলীতে বা নানা রকম ইভেনে্টে বাচ্চারা স্পীচ দেয় বা তাদের সৃজনশীল কাজগুলো উপস্থাপন করে।আমরা group activities করিয়ে থাকি যা বাচ্চাদের নিয়ম কানুন সহ ডিসিশন নিতে শেখায় এবং মিলেমিশে সকলের সকল রকম যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে একটি ফলপ্রসু কাজ করায়। যদিও প্রিপ্রাইমারী বা প্রাইমারী স্কুলের বাচ্চারা ছোট। এবং তাই এইজ লেভেল অনুযায়ী লেসনগুলোকে প্ল্যান করা হয়।


আমাদের স্কুলে প্লে গ্রাউন্ডে বানানো খেলা খেলা মার্কেটে খেলা খেলা বিকিকিনি।
Field trips - শিক্ষার সাথে জড়িত ফ্লিল্ড ট্রিপ বিশেষ জরুরী। তাই কোনো টপিকের উপরে ফিল্ড ট্রিপ যেমন প্লানটেশন শিখতে পারে শপিং মলে গিয়ে মানি কাউন্টিং। এসব হাতে কলমে শিখে আসার পরেও রিভিউ ও ফিব্যাকের ব্যবস্থা থাকে। মাঝে মাঝে আমাদের স্কুলে আনা হয় visiting speakers। যেমন doctor, army, player, author তারা তাদের এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করে।

আলোচনার আরেকটি প্রশ্ন ছিলো-
• আমাদের দেশে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে যেখানে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তেমন কোন পরিকল্পনা নেই। সকল শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কি ধরনের উদ্যোগ নেয়া যায় ?


আমার মনে হয় যত ক্রাইটেরিয়া নিয়ম নীতি প্রনয়ন হোক না কেনো যদি শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষন না দেওয়া হয় তাহলে কোনো উদ্যোগই কখনও কার্য্যকরী হবে না। কাজেই প্রয়োজন উপযুক্ত প্রশিক্ষন। কাজেই আমি মনে করি শিক্ষকের দক্ষতা বৃদ্ধির র প্রথম হাতিয়ার সঠিক প্রশিক্ষন এবং এই প্রশিক্ষনের প্রথম ব্যপারটিই এফেকটিভ লেসন প্লান রাইটিং স্কিল শেখা বা বৃদ্ধি করা। আমার জানা মতে নাম করা যে সব স্কুল রয়েছে তারা সকলেই এই লেসন প্লানিং বিষয়টির উপর জোর দিয়েছে এবং অনেকেই এই লেসন প্লানিং রাইটিং এর দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ট্রেনিং করছে। এবং এটা খুবই জরুরী।


একটি অনলাইন লেসন প্লানিং এর কিয়নদংশ।
এরপর শিক্ষকের ইতিবাচক আচরণ- শিশুদের সাথে কাজ করতে গেলে শিশুদের মত করেই ভাববার বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়। এ ক্ষেত্রে একটি শিশুর ভয় ভীতি দুঃখ বেদনা ভালোলাগা ভালোবাসার ব্যাপারটিকে মাথায় রাখতে গেলে কোন কোন বিষয়ে কাজ করতে হবে এ ব্যাপারে ট্রেইনিং বা প্রশিক্ষন প্রয়োজন। শিশুদের এইজ লেভেলের দিকটা মাথায় রেখে পড়া লেখা ও অন্যান্য সকল একটিভিটি পরিচালনা করতে হবে।

সৃজনশীলতা- আমরা জানি সকল শিশু এক ভাবে শেখে না। কেউ শিখে পড়ে পড়ে, কেউ শুনে শুনে কেউ বা খেলাধুলার মাধ্যমে কেউ বা নাচ গান কবিতা আর্টের মাধ্যমে। কাজেই একজন সৃজনশীল শিক্ষক এই সব বিষয়কে কাজে লাগিয়ে লেখা পড়াকে আরও ইন্টারেস্টিং ও সহজবোধ্য করে তুলতে পারে। এ জন্য শিক্ষকদেরকে সহজে কিছু ছবি আঁকার ট্রেনিং দেওয়া যেতে পারে, ছড়া বা কবিতা আবৃতি এবং গল্প বলা এসবের উপরে ট্রেনিং দেওয়া যেতে পারে।

খেলাধুলার মাধ্যমে পড়ালেখা- একটি খেলার উপকরণ থালাবাটিও যে টেবিল ম্যানার থেকে শুরু করে নিয়মানুবর্তিতা শেখাতে পারে এমন সব প্রশিক্ষন দেওয়া যেতে পারে।


রিসোর্স ডেভলপমেন্ট- কোনো অবস্থাই আসলে প্রতিবন্ধক নয়। যে কোনো শিক্ষাদানে উদাহরণ ও নিজে নিজে হ্যান্ডস অন একটিভিটির জন্য রিসোর্স প্রয়োজন। এই রিসোর্সের ব্যবহার বা নিজেই বানিয়ে ফেলা এই ব্যাপারে ট্রেনিং দেওয়া যেতে পারে।


ক্লাসরুম ম্যানেজমেন্ট - ক্লাসের টাইমিং থেকে শুরু করে আসবাবপত্র, ক্লাসের পরিবেশ ও ইতিবাচক ক্লাস কন্ট্রোল শিখতে হবে।


নানা প্রকার শিশু হ্যান্ডেলিং- সবাই শান্ত বাচ্চা না এ কথাটি মাথায় রেখে একেক বাচ্চাকে একেকভাবে কি করে শেখানো যায় সেদিকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। অমনোযোগী ও ডিজরাপটিভ স্টুডেন্ট ক্লাসে কিভাবে শিক্ষা পাবে ও ইতিবাচক হবে এ ব্যাপারে টিচারের ট্রেনিং থাকতে হবে। প্যারেন্টস এবং শিক্ষক দুজনের কোঅপারেশনেই আসলে শিশুর সঠিক শিক্ষা হয়। তাই প্যারেন্টস গাইডলাইন বা তাদের সাথে কি বিষয়ে ইতিবাচক সম্পর্ক রাখতে হবে । তাদের সাথে যোগাযোগ কোন কোন বিষয়ে হতে পারে এসবের উপরেও ট্রেইনিং প্রয়োজন।

শিশুর মেন্টাল ও ফিজিক্যাল বিষয়ে সেফটি বিষয়ক ট্রেনিং- একটি শিশুর মানসিক নিরাপত্তা বা তার ল্যাক অফ কনফিডেন্স কাটিয়ে কিভাবে পড়ালেখায় সহ যোগীতা করা যায় এসব ব্যাপারেও ট্রেইনিং এর প্রয়োজন আছে। ফার্স্ট এইড ও শরীর চর্চার উপরে ট্রেইনিং হতে পারে। লাইব্রেরী বা কিভাবে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যায় সে ব্যাপারে ট্রেইনিং হতে পারে। Book making বা - বাচ্চারা কিভাবে বই লিখবে বাধাবে কভার করবে এটার উপরেও ট্রেনিং হতে পারে। Flield trip training - এই ট্রেইনিং এ চেক লিস্ট কি কি নিতে হবে, কি কি শিখাতে হবে, কিভাবে গাইড করবে এসবের উপরেও ট্রেইনিং প্রয়োজন।


অনলাইন ক্লাসের স্ক্রিন থেকে।
শিক্ষানীতি প্রনয়ন, যঠিক পাঠ্যপুস্তক প্রবর্তন এসব ব্যাপারে মাথা ঘামানোর সাথে সাথে টিচার্স ট্রেইনিং বড় জরুরী বলেই আমার মনে হয়। ট্রেইনিং এবং সেই শিক্ষালদ্ধ বিষয়গুলিকে ক্লাসে ইম্প্লিমেন্ট করা এই দুই বিষয়ে মনিটরিং থাকতে হবে। কিন্তু সবচাইতে জরুরী টিচারের নিজের ইন্টারেস্ট। নিজের প্রফেশনের প্রতি দায়িত্বশীলতা ও নিজের কাজটাকে মূল্যায়ন করা নিজের কাছেই। নিজে শেখা বা কাউকে শিখাতে পারা আর তার সাফল্য দেখার আনন্দ কি সে জানে একজন সফল শিক্ষকই। আর শিশুদেরকে শিখানো তাদের হাতেখড়ি দেওয়া ও মুখে বুলি তুলে দেবার কাজটা যে কত আনন্দময় তা হয়ত নিজে শিশুদের শিক্ষক না হলে জানা হবে না কখনই কারো।


পৃথিবীর সকল শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও আমাদের দেশে সকল শিক্ষক যেন পেশাগত সঠিক প্রশিক্ষন পান সেই আমার চাওয়া।


এই লেখা একলব্যভাইয়ারকে উৎসর্গ করা হলো।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:৪৫
৮৬টি মন্তব্য ৮৮টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যদি বিখ্যাত মুভি গুলোর নাম বাংলাতে হত, তাহলে কেমন হত :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৯:৩৩

মফস্বল শহরে যারা বড় হয়েছেন তাদের স্থায়ীয় সিনেমা হলের পোস্টারের দিকে চোখ পড়ার কথা । আমাদের এলাকায় দুইটা সিনেমা হল আছে । একটা সম্ভবত এখন বন্ধ হয়ে গেছে । সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সন্তানের স্বার্থপরতার বলি বেগম জিয়া!!!!

লিখেছেন মাহফুজ, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৩:৩০




লেখাটা কে কিভাবে নেবেন আমি জানিনা তবে আমার লেখার উদ্দেশ্য মানবিক। আমি লিখছি আমার পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে। আজ পর্যন্ত লেখালেখি করে অনেক আজেবাজে ট্যাগ পেয়েছি তবে এখন পর্যন্ত কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন ও সমুদ্র ..........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২৭

জীবন ও সমুদ্র ..........


‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি
সাগরের ঢেউয়ে চেপে
নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছো,
আমি শুনেছি সেদিন তুমি
নোনা বালি তীর ধরে
বহুদূর বহুদূর হেঁটে এসেছো।’
মৌসুমী ভৌমিকের এ গান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুয়াডাঙ্গা তো ঢাকার ভেতরে। গ্রাম দেশের শিক্ষিত সমাজ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২৮



বউ বাসায় নাই। আমার সাথে অভিমান করে বাপের বাড়িতে গেছে। তাই আমার মন খারাপ। কোন কাজে মন বসে না। নিজেকে বড় একা একা লাগছে। আমার যে তার জন্য মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিষিদ্ধ অপরাধ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:২৬



মিনারা বেগমের মনে সন্দেহ ঢুকছে। তার স্বামী নাকি ভাই কে হতে পারে অপরাধী। এত চোখে চোখে রেখেও কিভাবে এরকম ঘটনা ঘটে গেল সেটাই বুঝতে পারছেনা মিনারা বেগম।

রমিলা এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×