somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের বিরুদ্ধে দারুন অনিচ্ছাতেও এই শয়তানদের কাছে মানে ডক্টরদের কাছে, শয়তানের কারখানা মানে হসপিটালে আর ওষুধকে কি নাম দেবো শয়তানের টোটকা নাকি শয়তানের তাবিজ.. ঠিক ভেবে পাচ্ছিনা তবে এসবের শরনাপন্ন হতেই হয়।

বেশিদিন আগে যাবো না, এই তো ২০২২ এ মনে হয় আমার নিউমোনিয়া হলো। আমি তার আগে অসুখ টসুখ পাত্তা দেওয়া তো দূরের কথা মাথা ব্যাথা হলেও একটা ট্যাবলেট খেতাম না। তাই নিউমোনিয়াতেও ১০৬ জ্বর নিয়েও কিছুতেই যাবোইনা ডক্টরের কাছে যাবোই না করছিলাম। শেষে অবশ্য শ্বাস নিতে না পারার কারণে যেতেই হলো শয়তানের দরবারে মানে হসপিটালে আর শয়তানের হাতে মানে ডক্টরের হাতে নিজেকে ছেড়ে দিতেই হলো।

তো ভালো কথা। ডক্টর মানে সেই শ... এর চেলা আমার অবস্থা দেখে আমাকে ছেড়ে আমার সাথে থাকা মানুষটাকেই বকা ঝকা শুরু করলো। বললো, বুঝতে পারছেন না উনার যে সেন্স নেই, আপনারা বাড়ির লোকজন কি করছিলেন? ধরে আনলেন না কেনো আগে?? আরে আমাকে ধরে আনবে বলে কি শয়তানের চেলা? কারো সাধ্য আছে নাকি? যাই হলো তখন শ্বাসের সাথে সাথে ব্যথায় আমি ঝগড়া করতে পারলাম না। তাই তারা ধরে বেঁধে টেস্টের আগেই ইনজেকশন দিয়ে দিলো এবং এক্কেরে সোজা হসপিটালাইজড করে দিলো।

ভালো কথা ইনজেকশন তো দিলো আরও কি কি ওষুধ দিলো আল্লাহ জানে। একটু পরেই আমি বেশ ভালো ফিল করতে লাগলাম। কিন্তু রাতে লিভোফ্লক্সাকন না লিভোফ্লক্সাসিন ইনজেক্ট করার পর আমি ঘুমাতে গেলাম আর মনে হচ্ছিলো আমার গালের মধ্যে জ্বীভসহ ফুলে যাচ্ছে। সকালে দেখি অনেক ব্যথা। আমি ভাবলাম ঘুমের মাঝে কামড় খেয়েছি হয়ত। সারাদিন আমি ব্যথায় কাতর কিছুই খেতে পারি না। এরপর রাতেও এসে ঐ ওষুধ ইনজেক্ট করার পর আমি সেদিন বসে ছিলাম। টাস করে একটা শব্দ পেলাম মুখের মধ্যে আর তাড়াতাড়ি আয়নায় দেখি ছোট্ট একটা পানি ভরা ব্লিসটার উঠেছে জীভের উপরে সামনের দিকে।

আমি সাথে সাথে বুঝে গেলাম এটা ওষুধের রিয়াকশন। সেদিন ছিলো শবেবরাত! পুরা হসপিটালে ডক্টরেরা সব নামাজ পড়তে বাসায় চলে গেছে। এইদিকে রোগীরা সব আল্লাহ আল্লাহ করছে বেডে বসেই। যাইহোক ডিউটি ডক্টর আসলো তাকে দেখে বুঝলাম! এর চাইতে আমি সাহসী তো বেশিই, জানিও মনে হয় বেশি। বললাম আমার এই ইনজেকশনের রিয়াকশন হচ্ছে, ইমারজেন্সী ডক্টর ডাকো। সে বলে না না এসব আপনার মনের ভুল!! আমিও ডাক্তার তবে জুনিয়র ডাক্তার আর কি। আরে বলে কি!!! আমি নেট ঘেটে রেয়ার রিয়াকশন দেখালাম! তখন সে এক ঘন্টা ধরে কি সব করে কই থেকে যেন এসে আমাকে ধরে নাপা খাইয়ে দিলো আর সাথে কি এক বমি বমি অয়ন্টমেন্ট সারা জীভ জুড়ে।

পরদিন ডক্টর এসে বললো হ্যাঁ এটা রিয়াকশনই তবে ইনজেকশন বাদ দিয়ে ওষুধ দাও!!! আরে!!!!!!!!!!!!!!! যা ইনজেকশনে বডিতে রিয়াক্ট করবে তা কি মুখে খেলে করবে না!!!!!!!!!! আমি তো খাবোই না খাবোই না!!!!!! কিন্তু আমার বাড়ির লোকজনও তার সাথে যোগ দিলো না না মুখে খেলে কিছু হবে না!!!!!!! আমি জানি হবে আর তারা জানে আমার নাকি কিচ্ছু হবে না !!!!!!!!!!আরে!!!!!!!!! মারে!!!!!!!! করেও লাভ হলো না তারা আমাকে ঐ ওষুধ খাইয়ে ছাড়লো। যত খাই তত জীভ পার হয়ে মাড়ি মাড়ি পার হয়ে সেই ব্যাথা কানের মধ্যেও চলে গেলো যেন তিন চার দিনেই!! ধ্যাত্তেরী!!! রেগে মেগে ছুড়ে ফেললাম ঐ ওষুধ!!! নিজেই হাতে তুলে নিলাম আইন!!

এরপর যখন ফলোআপ চেকিং এ গেলাম ডক্টর তখন আমাকে প্রেশারের ওষুধ বদলে দিলেন কিন্তু বলেননি সেটা প্রেশারের ওষুধ। আবার আগেরটাও খেতে হবে না সেটাও বলেনি। আমিও তখন বড়ই ক্লান্ত শ্রান্ত অসুস্থ বিধায় নিজে চেক করে দেখিনি সেটা কিসের ওষুধ। আমি পুরান প্রেশারের ওষুধ আর নতুন দুইটাই খেতে লাগলাম। আর অবাক হয়ে দেখি সকাল বেলা আমার গায়ে কোনো এনার্জী নেই। বিকালের দিকে একটু ভালো লাগে আবার সকাল হতেই এনার্জীলেস হয়ে পড়ি। নিজে এবার মাঠে নামলাম। সার্চ দিয়ে দেখি সেটাও প্রেশারের ওষুধ! মানে দুই দুইটা প্রেশারের ওষুধ ৭/৮ দিন ধরে খেয়েও যে আমি বেঁচে আছি সেটাই সৌভাগ্য! আর দূর্ভাগ্য হলো ডক্টর টাকা নিয়ে আর কোনো মতে ওষুধ দিয়েই খালাস। ভালো করে পড়েও দেখে না কি লিখেছে আর বলেও দেয়না খোলাসা করে কি ওষুধ দিচ্ছে আর কেনো?

এরপর ভালোই ছিলাম মাঝে দু বছর। ডক্টর মক্টর যেতে হয়নি। হঠাৎ ২০২৫ এর শেষ থেকে শুরু হলো পায়ে ব্যথা। টেস্ট মেস্ট করে ধরা পড়লো রিউমাটোয়েড আর্থারাইটিস। ফিজিও থেরাপীতে গেলাম ল্যাবএইডে। কপালের নাম গোপাল। বাচাল এক মহিলা ফিজিও থেরাপিস্টের বাক্যবাণে ফিজিও থেরাপীর আগেই ধরেই নিলাম আমার পা ভালো হয়ে গেছে। কিন্তু তার অতি শর্ট ওয়েভ থেরাপীর কারনে মাসল ডামেজ হয়ে গেলো আমার। সেই কথা তাকে যতই বুঝাতে যাই সে বলে না না আমি তো এতক্ষন আপনাকে দেইনি। আরে আমি নিজে সাক্ষী। ১০ মিনিট যেই শর্টওয়েভ থেরাপী দেবার কথা সে দিয়েছে ৮০ মিনিটস।আমি তো রিসার্চ করে বের করেছি যে সে আমাকে কত গুন বেশি শর্টওয়েভ দিয়েছে। আমি প্রায় দুই মাস হাঁটতে পারিনি। এবং ধরেই নিয়েছিলাম সারাজীবন এমনই থাকতে হবে। মাসল যে আবার রিকভারী হয় আমি জানতামও না। অনেক সাধ্য সাধনার পর এখন হাঁটতে পারছি। শুধু শুধু অকারণে ঐ বাচাল মহিলা ফিজিও থেরাপিস্টের কারণে আমার অতিরিক্ত কষ্টটা করতে হলো।

যাইহোক ৩/৪ মাস হলো মোটামুটি ওষুধ খেয়ে এক্সারসাইজ আর সি আর পি গিয়ে একটু ধাতস্থ হতেই হঠাৎ শুরু হলো ভীষণ ক্লান্তি, জীভের উপরে কালো কালো, ঠোঁটও কালচে হয়ে আসছে। মুখের স্কিনে মনে হয় যেন কেউ কালি মেড়ে দিয়েছে। ভাবছি আমার যে অসুখ এমনই হবার কথা। যাইহোক হঠাৎ ওষুধ এনালিসিস করতে গিয়ে বুঝলাম ৫০০০০ করে আমাকে ডেইলি ভিটামিন ডি দিয়েছে আমার ইউনাইটেড হসপিটালের রিউমাটোলোজিস্ট। যা আসলে ওয়ান্স ইন আ উইক একটা করে খাবার কথা। এটা উনি ভুল করে লিখেছেন আর আমি সব জানা স্বত্ত্বেও ভেবেছি আমার লেভেল দেখে তিনি এই ডোজ দিয়েছেন যখন তখন আমার জন্য এটাই লাগবে। এই অতি ওভার ডোজ আমি অন্ধের মত খেয়ে আসছি গত ১ মাস যাবৎ। ভিটামিন ডি অতিরিক্ত খাবার কারণে কি কি ক্ষতি হয় তা না জানা থাকেও সবাই জেনে নিতে পারেন। আমি জানার পর আমার রাত চারটায়ও ঘুম আসেনি। ১২ থেকে ৪ গবেষনা করতে করতে আমি কূপোকাত ছিলাম। ভিটামিন ডি টেস্ট করে দেখলাম ভিটামিন ডি টক্সিটি হয়েই গেছে। যা আমার ডক্টরের ভুলেই হয়েছে।

এখন ব্লগের সব ডক্টর আপুনি এবং ভাইয়ুরা রেগে যাবে আমার এই পোস্ট দেখে সে আমি জানি তাই নিজের মনে নিজেই ভাবছি কিন্তু উত্তর পাচ্ছিনা যে কোথায় যাবো আমি!!! এই জীবন রোগ বালাই নিয়ে টাকা পয়সা খরচ করে এসব কি হচ্ছে আমার জীবনে??? নিজের জীবন যাদের হাতে তুলে দিচ্ছি তারা তা কি একটু আমাদের জীবন নিয়ে ভাবে?

এখন আমার কি হবে!!!!!!!! :(( :(( :((

ভাবতে ভাবতে আমার ডক্টরেরও ঘাম ছুটে গেছিলো। বলছিলো হায় হায় এমন ভুল আমি কেমনে করলাম! কি করলাম!! সে ভয় পেয়ে চেহারা ফ্যাকাশে করে ফেলেছিলো আর আমার ঘুম ছুটে গেছিলো ...... :( এই বিষয়ে এতই পড়াশোনা করে ফেলেছি আমার সম্ভাব্য বিপদ আর ক্ষতি নিয়ে যে আমি এখন নিজেই ডক্টর হয়ে গেলাম কিনা ভাবছি...... মানে চিন্তায় আছি......

যাইহোক সব কিছু ভুলে ইউনাইটেড তথা নতুন নাম কন্টিনেন্টাল ডক্টরদেরকে ছেড়ে আবার গেলাম গ্রীন লাইফ হসপিটালে এই বিষয়ে বাংলাদেশের সবচাইতে সেরা ডক্টরকে দেখাতে। ডক্টরের কথা শুনে, তার ঔষধ নিয়ে তার ট্রিটমেন্ট নিয়ে এই প্রথম খুশি আমি আর বুঝলাম এই বিখ্যাত রিউমাটোলোজিস্ট ছাড়া গতি নেই আমার। আর কোনো ডক্টরের কাছেই যাবো না আমি। ডক্টরকে দেখে খুশি আমি কিন্তু পরক্ষনে ডক্টরের বয়স দেখে চিন্তায় পড়লাম। হায় হায় যে বয়স দেখা যাচ্ছে যদিও ফিট এবং ঝকঝকে তকতকে কিন্তু যদি হঠাৎ মরে টরে যায় ! তখন আমার চিকিৎসা করবে কে!!!!!!!!!!


এখন নিজের জীবনের চিন্তা রেখে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি ------ আমার এই ডক্টর যেন বাঁচে ১০০ বছর...... :)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৬
৭০টি মন্তব্য ৭২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদি আরবে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


দিন দিন সরকারপ্রধানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। তাঁর চলাফেরা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছে, এ যেন আরেক জিয়া। আর “I have a plan” কথাটার অর্থ এত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্রে এখন ভারত

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১২


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr S. Jaishankar কথা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্য বিশাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা একাগ্রচিত্তে শুনছেন।

হ্যাঁ, অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এমনই। সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×