somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছাত্র!

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। প্রতিদিন ক্যাম্পাসে আসি। আমাকে নিয়মিত বিভিন্ন দোকানে, ঝুপড়িতে আড্ডা দিতে দেখা যায়। ক্যাম্পাসের সর্বত্র আমার বিচরণ, কিন্তু শ্রেণীকক্ষে আমার দেখা মেলে না। ঐ একটি জায়গার প্রতি আমার ভীষণ এলার্জি। ক্লাস করতে ভীষণ অনীহা। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের বক্তব্য আমার কাছে কানের অত্যাচার বলে মনে হয়। তাই শ্রেণীকক্ষে মাঝে-মাঝে বেড়াতে গেলেও শিক্ষক ক্লাস শুরু করার দু’মিনিটের মাথায় শিক্ষকের অনুমতি না নিয়েই তাঁর সামনে বের হয়ে আসি। মাঝে-মাঝে সহপাঠীদের মধ্যে অনুরক্ত ভক্ত কিংবা বন্ধুদের দিয়ে প্রক্সি দেওয়াই। কোন শিক্ষক তা ধরে ফেললে বন্ধুর কাছে শিক্ষক কর্তৃক নাজেহাল হওয়ার বিবরণ শুনে শিক্ষককে গালমন্দ করি।
বছর শেষে পরীক্ষা আসে। উপস্থিতির হার সন্তোষজনক না হওয়ায় ফরম পূরণ করতে না পেরে রেগে যাই। একবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পাঁচ বা সাত মাস ক্লাস হয়, সেগুলো না করার সুবাদে যে জরিমানা আসে তা লাঘবের চেষ্টা করি। বাধ্য হয়ে জরিমানা দিতে হলে বিভাগের নামে বদনাম করি।
একেবারে পরীক্ষা দিতে না পারার মত উপস্থিতির হার যখন দেখতে পাই তখন শিক্ষকদের দ্বারস্থ হই, অনুনয়-বিনয় করে পরীক্ষা দেবার অনুমতি চাই, শিক্ষকদের ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করি। নিজে অসৎ; শিক্ষকদেরও অসৎ করার জন্য মোটামুটি যা যা করা দরকার তাই করি। আর আশা করি সারাবছর ক্লাস না করার পরও শিক্ষকদের প্রভাবিত করে পরীক্ষা দিতে পারব। শিক্ষক অসৎ হতে বাধ্য হলে আমার খুশি দেখে কে!
কিন্তু শিক্ষক যদি রাজি না হন, মনে মনে গালি দিয়ে তার চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করি। প্রভাবশালী কোন বড় ভাই/মামা বা রাজনৈতিক কোন দলের সাথে সৌজন্য সম্পর্ক থাকলে তাদের দিয়ে শিক্ষককে প্রভাবিত করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করি। আর কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী হলে তো কথাই নেই! হুমকি-ধামকি, শোডাউন, মিছিল যাবতীয় যা যা সম্ভব, করি। বিভাগে কাজ না হলে ডীন, হাত যদি লম্বা হয় ভিসি পর্যন্ত চলে যাই।
পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য এত ছুটোছুটি করছি, অথচ সেই পরীক্ষা দেবার মত ন্যূনতম যোগ্যতা আমার আছে কিনা, তাও ভেবে দেখি না। যত দোষ শিক্ষকদের!
তাহলে আমার মত ছাত্রের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, সর্বোপরি দেশ কী আশা করবে? আমি কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার উপযুক্ত?
শ্রেণীকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হয়। ভাল ফলাফল তো দূরে থাক, ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত হবার মাধ্যমে ন্যূনতম সেই শৃঙ্খলা বজায় রাখবার চেষ্টাও যদি ছাত্রের মধ্যে না থাকে, তবে তাকে না ছা্ত্র না বলাই ভাল।।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি হল অথর্ব আর ইডিয়েটদের দল। বর্তমানে এদের দেশ পরিচালানার করার কোন যোগ্যতা ই নেই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেয়াটা নিন্দনীয় কিন্ত তার বিচার হবে কিসে? রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায়?? রিমান্ডে নিয়ে?

চৈতালি চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সে আইন বুঝে। প্রায় প্রতিদিন জুলাই, আবু সাইদ, বাংলাদেশ সব কিছু সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×