somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিতর্কঃ মানুষ একবারই এবং কেবলমাত্র একবারই ভালবাসতে পারে

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পক্ষেঃ মানুষের মন একটাই তাই একবারই মানুষ ভালবাসতে পারে।
বিপক্ষেঃ মানুষের মনের বিশালতা এতো বেশি যে কখনও কখনও মানুষের জীবনে দ্বিতীয় বার ভালবাসা আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

পক্ষেঃ সত্যিকার অর্থেযদি কেউ কাউকে ভালবাসে তাহলে তার মন যতই বিশাল হোক না কেন সে আর পরে কাউকে ভালবাসতে পারে না।
বিপক্ষেঃ মানুষের মন পরিবর্তন শীল,কালের বিবরতনে মানুষের জীবনের অনেক কিছুই পালটে যায় , এটা মানুষের দোষ নয়।

পক্ষেঃ তাই বলে একটার পর একটা ভালবাসা করে যাওয়াও নিঃশচয় ভালো চরিএের লক্ষণ নয়।
বিপক্ষেঃ অবশ্যই নয়,সেটা তাহলে ভালবাসাই নয়।আমি আসল ভালবাসার কথা বলছি।

পক্ষেঃ আমিও সত্যিকারের ভালবাসার কথাই বলছি।সত্যিকারভাবে দুটি মন ,একজন আর একজনকে ভালবাসলে সেই মন দুটো খরচ হয়ে যায়,সেই খরচ হয়ে যাওয়া মন থেকে আর কখনও কি সত্যিকারের ভালবাসা মেলা সম্ভব?
বিপক্ষেঃ মানুেষ র মন এমনই এক সৃষ্টি যার জীবিকার একমাত্র উপাদান বা খাদ্য হল ভালবাসা,আর তাই মানব জীবনের প্রতিটি অবস্থাতেই কোননা কোন ভাবে সে ভালবাসা দ্্বারা আবৃত থাকে,নতুবা সে বেচে থেকেও মরে যায়।সুতরাং একবার যদিওবা কারো জীবনে সত্যিকার ভালোবাসা এসেও থাকে এবং একসময় তা ভেংগে ও যায় তবুও আমি বলব যে একটা বিশাল সময়ের ব্যাবধানে অপর আর একটি সত্যিকার ভালবাসার সংস্পর্শেআবারও সেই মনে ভালবাসার জন্ম নিতে পারে বৈকি।

পক্ষেঃ তাহলে তো তার আগের ভালবাসাকে অসম্মান করা হবে না কি?প্রেমিক যদি প্রেমিকাকে কখনও বলে থাকে 'আমি তোমাকে এবং শুধু তোমাকেই ভালবাসি' তাহলে দ্্বিতীয়বার কাউকে ভালবাসতে গেলে কি তার এ কথা মনে আসবে না?যদি প্রথম প্রেয়সীকে সে কখনও চুম্বন করে থাকে তাহলে দ্্বিতীয়বার তা করতে গেলে কি তার মন একটু কেপে উঠবে না?তার ভিতরে কি একটা অনুতাপের অনুভুতি কাজ করবে না?
বিপক্ষেঃ নাঃ।কখনই না।অনুতাপ তখনই হবে যখন তার মনে কোন পাপ থাকবে।

পক্ষেঃ ধরো তুমি একজনকে প্রচন্ড ভালবাসতে কিন্ততোমার পরিবারের কারনে তোমাদের বিয়ে হল না,যেখানে তোমাদের কারও কোন দোষ ছিলনা,তাহলে ব্যাপারটা কেমন দাড়াবে?আর একজনকে ভালবাসতে গেলে তোমার তার কথা মনে পড়বে না?
বিপক্ষেঃ পড়বে ।কিন্ততখন সেটা আমাকে মেনে নিতে হবে।মেনে নিতে হবে নিজের প্রয়োজনে,সমাজের প্রয়োজনে।

পক্ষেঃ মেনে নিতে যে হবেই এমন দিব্যিই বা কে দিল?
বিপক্ষেঃ তাই বলে কি তুমি সারা জীবন আনম্যারিড থাকতে চাও?

পক্ষেঃ আহহাঃ তুমি ভালবাসা আর বিয়ে এক করে ফেলছ কেন?
বিপক্ষেঃ আচ্ছা হল।আমি সেকেন্ড ভালবাসাটা, যার সাথে বিয়ে হবে তার সাথেই ধরে নিচ্ছি আর কি।

পক্ষেঃ বিয়ে সম্পূর্ন আলাদা জিনিস।স্বামী এবং স্ত্রির সম্পর্কে অনেক কিছুই দ্বায়িত্ববোধ থেকে আসে, এই বোধ থেকে ভালবাসার একটা সম্পর্কগড়ে উঠতে পারে কিন্ত ভালবাসার একটা সম্পর্ক থেকে সবসময় স্বামী-স্ত্রিসম্পর্কনাও হতে পারে।
বিপক্ষেঃ এইতো বাছাধন এতক্ষনে লাইনে আসলা।তারমানে বলতে চাচ্ছ স্বামী-স্ত্রিসম্পর্কথেকে ভালবাসা আসতে পারে?তার মানেই তো তুমি মেনে নিচ্ছ সেকেন্ড টাইম ভালবাসা হতে পারে?কি, ঠিক কিনা?

পক্ষেঃ হ্যা তা ঠিক কিন্ত সেটাতো বলছি বিয়ের পরের কথা।যখন দুজনকে আলটিমেটলি একসাথে থাকতেই হচ্ছে।সেখানে যদি ভালবাসা তৈরী হয়েই যায় তাহলে খারাপ কি? উইথআউট ভালবাসা নিয়ে একসাথে থাকার চেয়ে ,ভালবাসা তৈরী করে নিয়ে একসাথে থাকাটাই ভাল না?
বিপক্ষেঃ ঐ হল।সেকেন্ড টাইম ভালবাসা তো হল?আর তা ছাড়া আগে ডান বাম যা ই করুকনা কেন যদি বিয়ের পরই মানুষে র ভালবাসা জন্ম নেয় সেটাই তো উত্তম ,তাই না?

পক্ষেঃ ঠিকই আছে, আমিও মানি বিয়ের পর ভালবাসা অবশ্যই তৈরী হোক,তবে সেটা সবসময় যে সাচ্চা ভালবাসা হবে তারও তো কোন মানে নেই?
বিপক্ষেঃ আরে বাবা ভালবাসা তো ?আর তো কিছু নয়?ওতেই চলবে।

পক্ষেঃ গলাবাজি করে লাভ কি?
বিপক্ষেঃ গলাবাজি নয়। একটা ভালবাসা যদি কোন কারনে সম্ভব না হয় তাহলে তার জন্য সারাজীবন বসে থাকা কতটা যুক্তিযুক্ত?

(প্রিয় পাঠক আপনারাই বলুন কোনটা ঠিক)


(লেখাটি রিপোস্ট করা হল)
১৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×