পক্ষেঃ মানুষের মন একটাই তাই একবারই মানুষ ভালবাসতে পারে।
বিপক্ষেঃ মানুষের মনের বিশালতা এতো বেশি যে কখনও কখনও মানুষের জীবনে দ্বিতীয় বার ভালবাসা আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
পক্ষেঃ সত্যিকার অর্থেযদি কেউ কাউকে ভালবাসে তাহলে তার মন যতই বিশাল হোক না কেন সে আর পরে কাউকে ভালবাসতে পারে না।
বিপক্ষেঃ মানুষের মন পরিবর্তন শীল,কালের বিবরতনে মানুষের জীবনের অনেক কিছুই পালটে যায় , এটা মানুষের দোষ নয়।
পক্ষেঃ তাই বলে একটার পর একটা ভালবাসা করে যাওয়াও নিঃশচয় ভালো চরিএের লক্ষণ নয়।
বিপক্ষেঃ অবশ্যই নয়,সেটা তাহলে ভালবাসাই নয়।আমি আসল ভালবাসার কথা বলছি।
পক্ষেঃ আমিও সত্যিকারের ভালবাসার কথাই বলছি।সত্যিকারভাবে দুটি মন ,একজন আর একজনকে ভালবাসলে সেই মন দুটো খরচ হয়ে যায়,সেই খরচ হয়ে যাওয়া মন থেকে আর কখনও কি সত্যিকারের ভালবাসা মেলা সম্ভব?
বিপক্ষেঃ মানুেষ র মন এমনই এক সৃষ্টি যার জীবিকার একমাত্র উপাদান বা খাদ্য হল ভালবাসা,আর তাই মানব জীবনের প্রতিটি অবস্থাতেই কোননা কোন ভাবে সে ভালবাসা দ্্বারা আবৃত থাকে,নতুবা সে বেচে থেকেও মরে যায়।সুতরাং একবার যদিওবা কারো জীবনে সত্যিকার ভালোবাসা এসেও থাকে এবং একসময় তা ভেংগে ও যায় তবুও আমি বলব যে একটা বিশাল সময়ের ব্যাবধানে অপর আর একটি সত্যিকার ভালবাসার সংস্পর্শেআবারও সেই মনে ভালবাসার জন্ম নিতে পারে বৈকি।
পক্ষেঃ তাহলে তো তার আগের ভালবাসাকে অসম্মান করা হবে না কি?প্রেমিক যদি প্রেমিকাকে কখনও বলে থাকে 'আমি তোমাকে এবং শুধু তোমাকেই ভালবাসি' তাহলে দ্্বিতীয়বার কাউকে ভালবাসতে গেলে কি তার এ কথা মনে আসবে না?যদি প্রথম প্রেয়সীকে সে কখনও চুম্বন করে থাকে তাহলে দ্্বিতীয়বার তা করতে গেলে কি তার মন একটু কেপে উঠবে না?তার ভিতরে কি একটা অনুতাপের অনুভুতি কাজ করবে না?
বিপক্ষেঃ নাঃ।কখনই না।অনুতাপ তখনই হবে যখন তার মনে কোন পাপ থাকবে।
পক্ষেঃ ধরো তুমি একজনকে প্রচন্ড ভালবাসতে কিন্ততোমার পরিবারের কারনে তোমাদের বিয়ে হল না,যেখানে তোমাদের কারও কোন দোষ ছিলনা,তাহলে ব্যাপারটা কেমন দাড়াবে?আর একজনকে ভালবাসতে গেলে তোমার তার কথা মনে পড়বে না?
বিপক্ষেঃ পড়বে ।কিন্ততখন সেটা আমাকে মেনে নিতে হবে।মেনে নিতে হবে নিজের প্রয়োজনে,সমাজের প্রয়োজনে।
পক্ষেঃ মেনে নিতে যে হবেই এমন দিব্যিই বা কে দিল?
বিপক্ষেঃ তাই বলে কি তুমি সারা জীবন আনম্যারিড থাকতে চাও?
পক্ষেঃ আহহাঃ তুমি ভালবাসা আর বিয়ে এক করে ফেলছ কেন?
বিপক্ষেঃ আচ্ছা হল।আমি সেকেন্ড ভালবাসাটা, যার সাথে বিয়ে হবে তার সাথেই ধরে নিচ্ছি আর কি।
পক্ষেঃ বিয়ে সম্পূর্ন আলাদা জিনিস।স্বামী এবং স্ত্রির সম্পর্কে অনেক কিছুই দ্বায়িত্ববোধ থেকে আসে, এই বোধ থেকে ভালবাসার একটা সম্পর্কগড়ে উঠতে পারে কিন্ত ভালবাসার একটা সম্পর্ক থেকে সবসময় স্বামী-স্ত্রিসম্পর্কনাও হতে পারে।
বিপক্ষেঃ এইতো বাছাধন এতক্ষনে লাইনে আসলা।তারমানে বলতে চাচ্ছ স্বামী-স্ত্রিসম্পর্কথেকে ভালবাসা আসতে পারে?তার মানেই তো তুমি মেনে নিচ্ছ সেকেন্ড টাইম ভালবাসা হতে পারে?কি, ঠিক কিনা?
পক্ষেঃ হ্যা তা ঠিক কিন্ত সেটাতো বলছি বিয়ের পরের কথা।যখন দুজনকে আলটিমেটলি একসাথে থাকতেই হচ্ছে।সেখানে যদি ভালবাসা তৈরী হয়েই যায় তাহলে খারাপ কি? উইথআউট ভালবাসা নিয়ে একসাথে থাকার চেয়ে ,ভালবাসা তৈরী করে নিয়ে একসাথে থাকাটাই ভাল না?
বিপক্ষেঃ ঐ হল।সেকেন্ড টাইম ভালবাসা তো হল?আর তা ছাড়া আগে ডান বাম যা ই করুকনা কেন যদি বিয়ের পরই মানুষে র ভালবাসা জন্ম নেয় সেটাই তো উত্তম ,তাই না?
পক্ষেঃ ঠিকই আছে, আমিও মানি বিয়ের পর ভালবাসা অবশ্যই তৈরী হোক,তবে সেটা সবসময় যে সাচ্চা ভালবাসা হবে তারও তো কোন মানে নেই?
বিপক্ষেঃ আরে বাবা ভালবাসা তো ?আর তো কিছু নয়?ওতেই চলবে।
পক্ষেঃ গলাবাজি করে লাভ কি?
বিপক্ষেঃ গলাবাজি নয়। একটা ভালবাসা যদি কোন কারনে সম্ভব না হয় তাহলে তার জন্য সারাজীবন বসে থাকা কতটা যুক্তিযুক্ত?
(প্রিয় পাঠক আপনারাই বলুন কোনটা ঠিক)
(লেখাটি রিপোস্ট করা হল)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


