somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা গল্প বলি শোনো

০৯ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি মেঘ।ভালোবাসি গল্প বলতে।গল্প বলা আমার নেশা।আজকে যে গল্পটা বলব,সেটা আমার নিজের গল্প।এই গল্পে দুঃখ আছে,সুখ আছে,ভালোবাসা আছে।আর ভালোবাসার একটা পরিচিত মুখ আছে।আর হেলা না করে গল্পেই চলে যাই।
বৃষ্টি সেদিন একটু দেরী করেই ক্লাসে এসেছিল।আমি ব্যস্ত গল্প বলায়।তখনো নতুন এক গল্প জুড়ে দিয়েছিলাম।বৃষ্টিকে দেখিনি তখনো।এক সময় আমার গল্প শেষ হয়।ফিরে তাকিয়ে বৃষ্টিকে দেখি।তার চোখ,তার এলো চুল।তখন শুধু এই লাইনগুলোয় মাথায় ঘুরছিল,

"প্রহর শেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস-
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ"

সর্বনাশই বটে।আমার ঘুম যে কেড়ে নিল।আর আমি হয়ে গেলাম প্রেমিক।ভালোবেসে যে খুন হতে রাজি।ভার্সিটির দিনগুলো সত্যিই মজার ছিল।কত আবেগ ছিল,কত কষ্ট ছিল,কত ভালোবাসা ছিল।ভালোবাসা ছিল বললে ভুল হয়,ভালোবাসা এখনো আছে।ভালোবাসা তো হারায় না।

বৃষ্টি আমার সাথে একই ডিপার্টমেন্টে পড়ত।ভার্সিটির প্রথম ক্লাসেই মেয়েটার জন্য আলাদা একটা অনুভূতি জন্মায়।মেয়েটা ফরসা,দুধের মত।কালো হলেই বোধ হয় ভালো হত।তাহলে অন্তত বলা যেত "কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি।.....
কালো তা সে যত কালোই হোক।
দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ"
বৃষ্টি ফরসা হলেও তার কালো হরিণ চোখ থেকে বঞ্চিত হয় নি।তার চোখে আলাদা মায়া ছিল।স্বভাব কবি আমি যেন তখন সপ্তম আসমানে,

"বর্ণনাতে তুমি যখন,
আর তোমার স্নিগ্ধ চোখ,
নতুন কোনো কাব্য আজি
তোমায় নিয়ে লিখা হোক।
একটু করে সলজ চোখে,
একটু করে মিষ্টি হাসি,
একটু করে তোমায় ঘিরে,
অনেকটুকু ভালোবাসি"

কবিতা আমার একটু অগোছালোই সবসময়।প্রেমে পড়ে সেটা আরো অগোছালো হয়ে গেল।

সময় কেটে যায়।চারটে বছর দেখতে দেখতেই কেটে যায়।কখনো চোখাচোখি, কখনোবা একটু কথা।এটুকুই তো।ভালোবাসাটা এতটুকুতেই রয়ে গেল।তবু যখন মেয়েটা একটু হাসে তখন যেন মনটা ভরে যায়।ভালোবাসা যেন ভালোবেসে ভালোবাসারই কথা বলা। আমিও ভালোবাসি,আমিও ভালোবেসেছি।প্রতিরাতে খুন হয়েছি এই ভালোবাসারই তরে।কত সুর বসিয়েছি ভালোবাসার গানে,কত তুলির আঁচড় চালিয়েছি মনের ক্যানভাসে।তারপর একটা সময় সইতে না পেরে বলেই ফেলেছি, "বৃষ্টি, আমার কবিতার শব্দ হয়ে তুমি যে আমার মনে গেঁথে গেছো।" মেয়েটা সেদিন সলজ হেসে চলে গিয়েছিল।তারপর কিছু সুখের সময় জীবনে এসেছিল।আমার কবিতাগুলো হাসতে শিখেছিল,আমার তুলির আঁচড়ে চোখগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছিল।ভালোবাসা সেদিন আমায় সত্যিই খুন করে ফেলেছিল।গল্প বলতে গেলে কত কিছুই তো চলে আসে।সেই অনুভূতিগুলো।সেই মিষ্টি হাসিগুলো।সেই গানের সুরের মত কথাগুলো
।কিন্তু সুখ তো আর সবার কপালে সয় না।এই অভাগার কপালেও সয় নি।


আজকে বৃষ্টির এংগেজমেন্ট।পাত্র কানাডায় বিশাল এক কোম্পানিতে চাকরি করে।দেখতে অনেক হ্যান্ডসাম।ছেলেটা ভালোও বটে।সব দিক থেকে পারফেক্ট।আমাকে একদিন ছেলেটার ছবি দেখিয়েছিল বৃষ্টি।বুঝতে দিই নি সেদিন আমি কিভাবে মরে যাচ্ছিলাম।আজ আমার সবকিছুই ঝাপসা হয়ে আসছে।আমার কবিতার লাইনগুলো আজ একটু ভালোবাসার জন্য কাতরায়।আমার মনের ক্যানভাসে তুলির আঁচড়ে আঁকা চোখগুলো আজ অচেনা কেমন জানি। অনুভূতিগুলো যেন ফিকে হয়ে আসে।কিন্তু ভালোবাসা একরত্তি কমে না।ভালোবাসাগুলো তো আর সিগারেটের ধোঁয়ার মত উড়ে যেতে পারে না।সিগারেটগুলো তাই অযথাই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।একদিন আমার প্রিয় মুখটা ধীরে ধীরে আমার থেকে দূরে চলে যাবে,অনেক দূরে।সে অন্য কারো হবে।সে অন্য কারো সাথে সংসার করবে।সে অন্য কেউ হয়তবা পারফেক্ট তার জন্য।গাড়ি-বাড়ি,হীরে-জহরতে মোড়ানো থাকবে হয়ত সে।সুখী হবে সে।কিন্তু আমি কি পারব অন্য কারো জন্য আবার ভালোবেসে মরতে?হয়ত না।মানুষ মরে একবার।আর আমি খুন হয়েছি আততায়ী প্রেমের হাতে।তাই তো ভালোবাসার কাব্য লিখি এখনো।এখনো মনে হয়, বৃষ্টি এসে বলবে,এই ঘুম থেকে উঠো।আর আমি ভাবব, সম্পূর্ণটা একটা দুঃস্বপ্ন ছিল।এরপর বৃষ্টিকে জড়িয়ে ধরে বলব,তুমি শুধু আমার।আর কারো না।। কিন্তু এমনটা হয় না।।সিগারেটগুলোও তাই ধোঁয়ার অবিরাম এক অনুভূতি দিয়ে চলে যায়,ভালোবাসাগুলো আর নিয়ে যায় না।আকাশ বিশাল।মনের দূরত্ব তার চেয়েও বিশাল।এক আকাশ মনের দূরত্ব কমিয়ে আমি ভালোবাসা পাব এমনটা চিন্তা করা নিছক.সত্যিই সেদিনের চৈত্রের দিনে আমি যেন তোমার চোখে নিজেরই সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম, বৃষ্টি!
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ৯:৩০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ সরকারের কাছে সোলার এনার্জি বিক্রি করা কতটা লাভজনক?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭



যারা আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম ইন্সটল করবেন, তাঁদেরকে বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক ইউনিট ইলেক্ট্রিসিটির জন্যে ১০.৫০ টাকা করে দিবে। রুফটপে সোলার এনার্জি প্ল্যান্ট বসিয়ে লাভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পর্ক ও আত্মহত্যা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭



কাউকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা অথবা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে গুরুতর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মাধ্যমে কাউকে বিয়েতে বাধ্য করা। - বিশ্বের যে কোনো দেশের আইনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২ লাখ কর্মীর খবর ভুয়া - তবে ২৫ টা সাদা হাতি আসছে!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২



স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ কর্মী নেবে ।

আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×