আমি থকি মোহাম্মাদপুরে আর আমার অফিস বাংলামটর। মোহাম্মাদপুর থেকে বাংলামটর যাবার অনেকগুলো উপায় আছে। রিক্সায় , বাসে অথবা রিক্সা-বাস মিলিয়েও যাওয়া যায়।আমি কিছুদিন আগে পুরো পথটাই যেতাম রিক্সায়। রিক্সায় ওঠার সাথে সাথেই আমার মাথার মধ্যে গুন গুনিয়ে গান বেজে উঠতো রিক্সার ঝাকির সাথে মিলিয়ে সুরগুলি চলেতে থাকতো। বেশ মজায় পার করতাম সকালটা। মাথার মধ্যে সুরের দুলুনি আর রিক্সার দুলুনি মিলিয়ে বেশ আয়েশি ভাবে অফিসে যেতাম । কিন্তু আমার সেই দুলুনি কপালে সইলো না। রিক্সা ভাড়া বাড়তে লাগলো হু হু করে সাথে রিক্সার দুঃপ্রাপ্যতা। আমি বাসে করে অফিসে আসা শুরু করলাম।লোকাল বাস। বাসা থেকে হেটে বাসস্টপ সেখান থেকে একটা ২ টাকার পত্রিকা কিনে বাস এ উঠতাম। লোকাল বাস এ অনেক ভীর হোতো, ভিরে ঘেমে যেতাম। ওই পত্রিকা দিয়ে ঘাম মুছে অফিসে যেতাম। বাস গুলো যেত ফার্মগেট হয়ে । খামার বাড়িতে প্রচন্ড জ্যাম হতো আর আমার অফিসে পৌছাতে অনেক দেরী হয়ে যেত। এর মধ্যে আমার অফিসে একটা নিয়ম করল। প্রতি মিনিট দেরী করার জন্যে এক টাকা জরিমানা। বাধ্য হয়ে আমার রুট চেঞ্জ করতে হল। এর পর আমি আসতাম অন্য আর এক রুটের বাস এ। এই বাসগুলো সাইন্সল্যাব হয়ে বাটার মোড় দিয়ে যেত। আমি যথারীতি বাসের টিকেট আর পত্রিকা কিনে বাস এ উঠতাম। এই বাস গুলাতে বেশি ভির হত না।শান্তি মতো পত্রিকা পড়ে মোবাইলে ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেট করতে করতে বাটার মোড় এ চলে আসতাম। সেখান থেকে রিক্সা নিয়ে অফিসে। তখন আর বেশি লেট হতো না। কিন্তু আমি আমার মাথার মধ্যে দুলুনিটাকে মিস করতাম। আমার ধারনা প্রতিটা মানুষই তার ভালো স্মৃতিগুলো নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। আমিই বা এর ব্যাতিক্রম হই কিভাবে?
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


