somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি দুঃখের কথা ও পরামর্শের আবেদন

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলেজের আমলে তোলা বেশ কিছু ছবি দেখছিলাম । দেখে ভালই লাগছিল । কত্ত মজাই না করেছি সে সময় । সবাই স্কুল আর ভার্সিটি লাইফে বেশি মজা করে আর আমি করেছি কলেজে । কারন সে সময় বেশ কিছু ভাল বন্ধু জুটেছিল । সে অন্য কথা । ছবি দেখতে দেখতে হঠাৎ একজনের ছবি প্রবল দৃষ্টি আকর্ষন করল । প্রত্যেকটা ছবিতেই আছে এর উপস্থিতি । সেই ৫ বছর আগের সাথে এখনকার চেহারার কোন মিল খুজে পেলাম না । আফসোস হল । প্রবল আফসোস । এতটাই পরিবর্তন !!! পরিবর্তন স্বাভাবিক , কিন্তু তাই বলে এতটা ??? প্রকৃতপক্ষে "পরিবর্তন" না বলে বলা উচিৎ “ পরিবর্ধন” । কি শুকনা, চিকন , ছিলিম স্বাস্থ্য !!! দেখতেই ভাল্লাগে । আর এখন দেখতে ... রীতিমত “কুমড়াকৃতি” । বলাই বাহুল্য সেই ছবিটা “আমার” ।

এখনও মনে আছে কলেজে থাকতে আত্মীয়- স্বজন যারাই বাসায় আসত তারাই জিজ্ঞেস করত “ বাবা, খাওয়া দাওয়া কর না বাসায় ?” । আর এখন , বাসায় এলে প্রথমে শুধু আমার আপাদমস্তক একবার চোখ বুলায় । এর মধ্যে তার দৃষ্টি আমার ভুঁড়ির উপর স্থির থাকে কয়েক সেকেন্ড বেশি । তারপর বলে “বাহ ! স্বাস্থ দেখি আগের চেয়ে ভাল হয়েছে” । কিন্তু চোখ দেখে বোঝা যায় “ আর খাইস না বাবা, ফাইট্টা যাবি” কইতে পারলেই শান্তি পাইত ।

কি করুম বুঝতে পারতাছি না । বন্ধুরা আগে যেখানে দেখা হলে হ্যান্ড-শেক করত , তেমনি আজকাল দেখা হলে তারা তাদের হ্যান্ড দিয়ে আমার ভূঁড়ি শেক করে । তার চেয়ে বড় দুঃখের কথা, ইদানিং আমার ইয়েও চান্স পেলে আমার ভূঁড়িতে ডুগডুগি বাজায় । কইচেন দেহি কই যাই ? মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে ভূঁড়িতে দড়ি বেঁধে ঝুলে পড়ি । খাওয়া কমাতে হবে । কিন্তু কিভাবে ? খেতে বসলে হুশ থাকে না । নরমাল পেটুকরা পাকস্থলি পূর্ণ করে খায় । আর আমি সম্ভবত আমার খাদ্যনালীও বাদ রাখি না । ছোটবেলায় যেসব তরকারি খেতাম না , আজকাল সেসবও গোগ্রাসে গিলি । প্যান্টের বোতাম লাগে না , ঢোলা শার্ট সব স্কিন টাইট হয়ে গেছে । এমনকি আজকাল পাঞ্জাবি পরলেও আমার ভূঁড়ি তার অস্তিত্ব সরবে প্রকাশ করে । এমনকি সেদিন আমার ডিপার্টমেন্টের এক সিনিয়র আপু দূর থেকে ডেকে বলল, “তুমি এরকম গোল হয়ে যাচ্ছ কেন ?” ... মোটা বললেও না হয় একটা কথা ছিল । “গোল” বলার কি দরকার ছিল ?

কয়েক মাস আগে খাওয়া কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলাম । ভাবলাম এখন থেকে রাতে সালাদ খাব । খেলাম । কিন্তু রাতে ঘুমাতে গিয়ে দেখি ঘুম আসে না ক্ষুধার চোটে । সব সালাদ হজম হয়ে গেছে । সুতরাং ২-৩ দিনের বেশী তা আর চলল না । এরপর উদ্যোগ নিলাম সকালে জগিং করার । কিন্তু সেটাও বেশিদিন করা হল না । কারন প্রথমত, জগিং করে পা প্রচন্ড ব্যথা করত, দ্বিতীয়ত, জগিং সেরে বাসায় এসে যে পরিমান রুটি খেতাম এতে বাসার অন্যদের নাস্তায় টান পড়ত , আর তৃতীয়ত, কয়েকদিন পরেই পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছিল । গত কয়েকদিন ধরে আবার চেষ্টা করছি । একবেলা ভাত খাচ্ছি না । সাধারনত দুপুরে । কারন রাতে ভাত না খেলে ঘুম আসতে সমস্যা হবে । যদিও আজ রূটিন ভঙ্গ করেছি । সকালে ৪ খানা তন্দুর রুটি খাওয়ার পর দুপুরে অল্প ভাত খেয়েছি । কারন লাউ শাক ভর্তা আর শিম ভর্তা দেখে লোভ সামলাতে পারিনি । আল্লাহই জানে কতদিন চালাতে পারব ।

এ লেখার উদ্দেশ্য সকলের পরামর্শ নেয়া । খাওয়া কমানো আর ব্যায়াম ছাড়া ভূঁড়ি কমানোর কোন উপায় জানা আছে ? আমি সকলের দোয়া ও সাহায্যপ্রার্থী ।


৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×