somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্লাসমেটের সাথে প্রেম !! বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা (সম্পূর্ণ নিজস্ব মতামত)পর্ব-১

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রেম, ভালবাসা, প্রণয়, LOVE । এগুলো শুধু কতগুলো অক্ষরের সমাবেশ নয় । এ এক অনুভূতি । বহুমাত্রিক আবেগের সংমিশ্রণ । প্রেমের সাথে মনের বা হৃদয়ের জোরালো correlation আছে বলে মনে করা হলেও বৈজ্ঞানিকদের মতে মানুষের প্রেম বা ভালবাসার জন্ম হয় মাথা বা মস্তিষ্ক থেকে , হার্ট বা হৃদয় থেকে নয় । তারপরও আমরা কাউকে বলার সময় বলি “আমি তোমাকে হৃদয় দিয়ে ভালবাসি” ... কখনই বলি না “ আমি তোমাকে মাথা দিয়ে ভালোবাসি”(একথা বললে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না” B-))।
প্রেম যেকোন সময় যেকোন পরিস্থিতিতে, যে কারো সাথে হতে পারে । আমাদের দেশে সাধারানত স্কুল, কলেজ বা ভার্সিটিতে পড়ার সময় প্রেমে পড়ার ঘটনা বেশী । স্কুলের প্রেম বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টিকেনা । কারন আমার মতে এসময় মানুষের maturity কম থাকে । অবশ্য এর ব্যতিক্রমও আছে । কলেজের প্রেম টেকার সম্ভাবনা আরও কম । কারন এসময় পড়ার প্রচন্ড চাপ অধিকাংশ সময় এই প্রেমের মাঝে বাধা হুয়ে দাঁড়ায় । একজন আরেকজনের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে খুবই কম । ফলে জন্ম নেয় অভিমান । এবার আসি ভার্সিটির প্রেমের প্রসঙ্গে । আমি যখন ছোট ছিলাম তখন চিন্তা করতাম, বড় হয়ে ভার্সিটিতে যাব, আর ভার্সিটিতে গিয়ে প্রেম করব ;)। আসলেই ভার্সিটি প্রেম করার উৎকৃষ্ট স্থান । এসময় পড়ার চাপ থাকে তুলনামূলক কম । আর আরেকটা কারন , এসময় বেশ maturity আসে ছেলে মেয়ে উভয়ের মধ্যে । তাই শুধু হাত ধরে ঘুরা, পার্কে বসে বাদাম- ফুসকা খাওয়া ছাড়াও অন্য চিন্তা মাথায় থাকে । অন্য চিন্তা বলতে চাকরি,ক্যারিয়ার, বিয়ে, ফ্যামিলি ইত্যাদি ।
সাধারণত সব মেয়েরাই প্রেমিক হিসেবে তার চেয়ে কিছুটা বয়সে বড় ছেলে পছন্দ করে । আর ছেলেরা করে বয়সে ছোট মেয়েদের । তবে আমি দেখেছি সমবয়সী বা ক্লাসমেটদের মধ্যে প্রেম হওয়ার probability যেন একটু বেশী । এর কারনও রয়েছে কয়েকটি ।
১. ক্লাসের মেয়েদের সাথে তুলনামূলক সময় বেশী কাটানো হয় যার ফলে ঘনিষ্টতা বৃদ্ধি পায় ।
২. ক্লাসের ছেলে-মেয়েরা একে অপরের সাথে সময় বেশী কাটানোর ফলে একজন আরেকজনের ব্যপারে বেশি জানতে পারে । একে অন্যের দোষ-গুণ সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত থাকে ।
৩. মেয়েরা যত ভাল স্টুডেন্টই হোক না কেন, নোটের ব্যপারে তারা ছেলে বন্ধুদের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল (কারন মেয়েরা মেয়েদের নোট সাধারনত দিতে চায় না, **ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি)। তাই ঘনিষ্টতা তো বাড়বেই ।
৪. ক্লাস, পরীক্ষা, নোট ইত্যাদির কারনে একে অপরের উপর নির্ভরশীলতা চলে আসে । আর এই নির্ভরশীলতা থেকেই একসময় ভালবাসা জন্ম নেয় ।
….. এরকম আরও অনেক কারন আছে । আর ক্লাসমেটের সাথে প্রেম করার কিছু সুবিধাও আছে । যা আমার মতে কিছুটা লোভনীয় । যেমনঃ
১. প্রেমিক বা প্রেমিকা ক্লাসমেট হলে তারা একসাথে কাটানোর মত প্রচুর সময় পায় । আলাদা করে সময় বের করার দরকার হয় না । ক্লাসই হতে পারে উত্তম ডেটিং স্পট । স্যারের বিরক্তিকর লেকচারের সময় যদি একটু ঘাড় ফিরিয়েই প্রিয় মুখখানি দেখতে পারেন তাইলে আর কি লাগে ?
২. একসাথে পড়াশোনা তো হয়ই । আর দেখা যায় সে আপনাকে পড়া বুঝিয়ে দেবে, অনেক আন্তরিকতার সাথে আর পড়া মনেও থাকবে ভাল ।
৩. পড়াশোনার খাতিরে তাকে ঘনঘন বাসায় নিতে পারবেন, ফলে আপনার পরিবারের কাছে সে ঘনিষ্ট হতে পারবে । আর বাবা- মাকে impress করার এমন সুযোগ আর পাবেন না ।(২টা ফ্রি টিপস দেই, প্রেমিক-প্রেমিকার বাসায় গিয়ে তার বাবার শরীরের খোঁজখবর নিলে, আর মায়ের রান্নার প্রশংসা করলে তারা অনেক খুশি হয় ... বুদ্ধিটা কাজে লাগাতে পারেন )।
৪. একসাথে সময় অনেক পাচ্ছেন, তাই সময়টাকে উপভোগ করার সাথে সাথে ব্যবহারও করতে পারেন । একে অন্যের পরিবার সম্পর্কে বেশ ভাল আইডিয়া করা যায় । ক্লাসমেটদের মধ্যে এক লাফেই প্রেম হয়ে যায় না সাধারনত । প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম । তাই sharing জিনিসটা অনেক বেশী থাকে ।
বেশি বোরিং লাগছে ? তাহলে আজ থাক । কাল বা পরশু ক্লাসমেটদের মধ্যে প্রেমের কিছু সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করব । তবে একটা কথা হল, সমস্যা ও সমাধান পরিবার ভেদে ভিন্ন হতে পারে । আবার একই সমস্যার সমাধান একেক পরিবারে একেকভাবে করতে হবে । তাই সমাধানগুলো সবার পছন্দ নাও হতে পারে ।
২৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×