somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোবাইল ফোন

২২ শে নভেম্বর, ২০০৬ ভোর ৬:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় মোবাইল কোম্পানীর গ্রাহক সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। চোদ্দ কোটির দেশে শুধু একটি কোম্পানীর গ্রাহক সংখ্যাই এক কোটি। কে বলে আমাদের দেশ গরীব। ঐ মোবাইল কোম্পানীটি আমাদের দেশকে এক দশকে কোথায় পৌছে দিয়েছে এটা তারা বেশ ফলাও করে প্রচার করছে। মোবাইল ফোন আসার পর দেশে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপলব সাধিত হয়েছে এ কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। কিন্তু মোবাইল কোম্পানীগুলি গ্রাহকের স্বার্থ দেখার চেয়ে নিজেদের স্বার্থ দেখতেই বেশী ব্যস্ত থাকে।

একবার এক দৈনিক পত্রিকা দেশের কিছু বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে একটি কাল্পনিক গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। যার বিষয়বস্তু ছিল আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোনের ব্যবহার।

নিচে তাঁদের মূল্যবান বক্তব্যসমূহ তুলে ধরা হল-

সাবেক প্রধানমন্ত্রী : বর্তমান সরকারের আমলে ভিক্ষুকের হাতেও শোভা পাচ্ছে মুঠোফোন। এটাই প্রমান করে দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে। আর এই সাফল্য এসেছে একক ভাবে আমাদের চেষ্টায়। এই সরকার আবার ক্ষমতায় এলে ইনশাল্লাহ মানুষের দুই হাতে দুটি মোবাইল শোভা পাবে। বিরোধী দল আমাদের এই উন্নয়নে বাধা দিলে এর সমুচিত জবাব দেয়া হবে।

সাবেক বিরোধী নেত্রী : বর্তমান সরকারকে রক্ত চোষা ভ্যাম্পায়ারের সাথে তুলনা করা চলে। ভিক্ষুকরাও এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। দেশের মানুষ খেতে পাচ্ছে না আর সরকার মোবাইল ফোন নিয়ে বিলাসিতা করছে। আসুন আমরা সরকারের এই চক্রন্তের বিরোদ্ধে রোখে দাড়াই। আর সবাই মিলে শ্লোগান তুলি-

'ভাত নাই পেটে-
মুঠোফোন ফোন আছে হাতে।'

সাবেক মহাসচিব : দেশের আনাচে কানাচে আমরা যে ভাবে মুঠোফোন পৌছাই দিছি তা কল্পনারও অতীত। এখন বিরোধী দল দাবি করছে এই কৃতিত্ব তাদের একার। তারা ভাল কইরাই জানে তাদের এই দাবির কোন ভিত্তি নাই। এটাতো হইল গিয়া এই এরকম যে, বিচার মানিলাম কিন্তু তাল গাছটা আমার।

সাবেক বিরোধী দলীয় মহাসচিব : দেশে মুঠোফোনের ব্যবহার যে ভাবে দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে করে দেশের যুব সমাজ বিপথগামী হচ্ছে। তারা লেখাপড়া বাদ দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করছে। বাপের পকেটের টাকা চুরি করে ফোনের বিল দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের ভবিষ্যত ধ্বংসের মুখে পড়বে। আমি বর্তমান সরকারের প্রতি আনুরোধ করব আপনারা অচিরেই এই ধ্বংসের খেলা বন্ধ করেন, নচেত হরতাল ডেকে দেশ অচল করে দেয়া হবে। দেশের জনগণ আমাদের সাথে আছে।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : দেশ গড়ার কাজে মুঠোফোন খুব ইম্পর্টেন্ট ভূমিকা রাখছে। প্রিভিয়াস সরকারের আমলে যোগাযোগের জন্যে আমাদের মান্ধাতা আমলের টি এন্ড টি ফোনের উপর ডিপেন্ড করতে হত। কিন্তু আমাদের সরকারের আমলে আমরা আধুনিক সিস্টেম মোবাইল ফোনের প্রচলন করেছি । এতে করে আমাদের ফোর্সরা অল টাইম আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারছে। লেট সি, দেখি মুঠোফোনকে আর কি কি কাজে ইউটিলাইজড করা যায়।

সাবেক আইনমন্ত্রী : আমি এটাকে মুঠোফোন বলব না। কারণ আগে আমাদের দেখতে হবে এটাকে মুঠোফোন বলা যায় কিনা। এ ব্যপারে সংবিধানে কি বলা আছে। সংবিধান বর্হিভূত কোন কিছু তো আমরা করতে পারি না। কারণ আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আমি তো বুঝতে পারছি না বিরোধী দলের সমস্যাটা কোথায়।

সাবেক ধর্মমন্ত্রী : এটা হচ্ছে খৃস্টান ইহুদীদের তৈরী একটা জিনিস। প্রত্যেক মুমিন বান্দার প্রয়োজন এটাকে বর্জন করা। প্রাক ইসলামিক যুগে কোন টেলিফোন ছিল না, তারপরও মানুষের খবর আদান প্রদানে কোন সমস্যা হয়নি। সময় একটু বেশী লাগত এই যা। মাফ করবেন, আমার এই মাত্র একটি কল এসেছে, সম্ভবত ম্যাডামের। আমি কথা বলে আসছি।

সাবেক অর্থমন্ত্রী : বাংলাদেশ অর্থনীতিতে দিনকে দিন আগাই যাচ্ছে। সেই দিন আর বেশী দূর নাই যেই দিন দেশের প্রত্যেইক নাগরিকের হাতে হাতে শোভা পাইবে মুটোফোন। এর থেইকা হামরা যে টেক্স পাইব তা দারাই দেশের অর্থনীতির চাক্কা বনবন কইরা ঘুরতে শুরু কইরা দিবে।

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী : দেশের লোকজন মার্কেটগুলিতে যে ভাবে লাইন দিয়ে মোবাইল ফোন কিনছে যা ইউরোপ আমেরিকার মার্কেটগুলিতেও দেখা যায় না। আল্লাহর অশেষ রহমতে আর আমাদের দলের দোয়ায় এটা সম্ভব হয়েছে।

সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী : বর্তমানে দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক কোটির উপরে। আগামী এক বছরের মধ্যে এই সংখ্যা গিয়ে দাড়াবে দশ কোটির উপরে। পরের বছর গিয়ে এই সংখ্যা দাড়াবে বিশ কোটি। তার পরের বছর-------

সাবেক বিদু্যতমন্ত্রী : বর্তমানে মোবাইল ফোন আমাদের দেশের এক নম্বর সমস্যা। কারণ যেভাবে আমাদের দেশে ফোনের সংখ্যা বাড়ছে এতে করে এই ফোনগুলি চার্জ করতে দেশে বিপুল পরিমাণে বিদু্যত ঘাতটি দেখা দিচ্ছে। এটাই এখন লোডশেডিং এর অন্যতম প্রধান কারণ। আমি অনেক কষ্ট করে এই মূল্যবান তথ্যটি আবিস্কার করেছি।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী : মোবাইল কোম্পানীগুলি যে ভাবে ফ্রি কলের অফার দিচ্ছে এতে করে মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা কানে ফোন লাগিয়ে কথা বলছে যা তাদের মস্তিষ্কের সেল গুলিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ফলে আমাদের দেশে পাগলের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে মানুষ পুষ্টিকর খাবার কিনে খাওয়ার পরিবর্তে মোবাইল কার্ড কিনছে । ফলে দেশের লোকজন অপুষ্টিতে ভূগছে।

অবশেষে মুঠোফোনের পক্ষে বিপ েপ্রচুর তর্ক বিতর্কের পর কোন ধরনের মিমাংসা ছাড়াই গোল টেবিল বৈঠকের সমাপ্তি ঘটে। বর্তমানে সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে জটিল কাজ হচ্ছে সরকার এবং বিরোধী দলকে এক সাথে বসতে রাজী করানো এবং কোন একটি ব্যাপারে একমত হওয়া।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:০৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

উপরোধের আগে

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



একটা ক্ষণ,
ক্ষীণ, তবুও অবয়,
আমাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখবে সবুজ অটবীর আলেখ্যে,
তুমি এলে,
সেই পুরোনো মায়া হয়ে।

কতকাল পরে সম্মুক্ষে দু জোড়া চোখ?
সে প্রশ্নের প্লাবনে আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি আধুনিক যুগের জন্য প্রস্তুত।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৩

২০০৯ সাল থেকে সম্ভবত সকল সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংকে বেতন হয়। এবং এই বেতন দেওয়ার পক্রিয়া ১০০% কম্পিউটার বেইস। সরকারি কর্মচারীদের বেতন সিজিএ অফিস হ্যান্ডেল করে। আর সম্ভবত আইবিবিএএস+ সার্ভার বেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫৫ বছরে কেন আরেকটা রিফাইনারি হলো না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৪


রাশিয়া থেকে তেল আনতে হলে আমেরিকার অনুমতি লাগবে। এই একটা বাক্য পড়লে অনেকে ভাববেন এটা কোনো রাজনৈতিক ভাষণের অংশ, কিংবা অতিরঞ্জন। কিন্তু এটা ২০২৬ সালের বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লেগেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আছছে পিনু ভাই

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০২


ঘরের ছোল নাকি ঘরত আছছে
পুটি, বওল, টেংরা মাছ কুটিরে?
পাতিলত ভরে পুরপুরি ছালুনের
বাসনা যেনো আকাশত উরে-
কি সখ ছোলপল নিয়ে হামি এনা
যমুনাত যামু গাওধুমি, সাতরামু;
কে বারে শুন শুন হামাগিরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২০



নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

এখানে ছবি আছে ক্লি করে দেখতে হবে, যেহেতু আমাকে ছবি আপলোডে ব্লক করেছে এডমিন।

দেশের রাজনীতিতে একটি পুরোনো প্রবণতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে- জনগণের বাস্তব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×