somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘এনজিও’ এবং ‘সুশীল’: আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের দুই দশকের প্রাপ্তি

১০ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগস্ট মাস এসে গেছে। গতকাল সারা বিশ্ব পালন করেছে বিশ্ব আদিবাসী দিবস। প্রতিবছর ৯ আগস্ট পুরো বিশ্ব পালন করে বিশ্ব আদিবাসী দিবস। বাংলাদেশেও তার প্রভাব পরেছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হবেনা।ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহের আদিবাসী বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। কেউ মানববন্ধন করছে, কেউ বিক্ষোভ মিছিল করছে, সমাবেশ করছে আবার কেউ বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জানান দিচ্ছে তাদের উপস্থিতি।আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহটা গত দুইদশক ধরে এমনই স্টেরিওটাইপ আনুষ্ঠানিকতার চাকচিক্যে ভরে থাকছে। কোন বছর এর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।লাখো টাকা খরচ করে বড় কোন মিলনায়তনে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, ব্যস্ত ঢাকার পথে পথে বর্ণাঢ্য র্যালী, আজীবন অবহেলিত বঞ্চিত আদিবাসী মানুষকে গাড়ী করে নিয়ে এসে জনসমাগম নিশ্চিত করা, দিন শেষে অভিমান নিয়ে সেই মানুষদের ফিরে যাওয়া আবারও সেই প্রকৃতির কাছে, বছরের বাকি ৩৬৪টা দিন সয়ে যাওয়া অবর্ণনীয় অবহেলা, এইতো গত দুইদশক ধরে চলে আসা আদিবাসী দিবস উদযাপনের চালচিত্র।

এই স্টেরিওটাইপ আনুষ্ঠানিকতাই আধুনিকতার জ্ঞান প্রসুত ‘আদিবাসী অধিকার আন্দোলন’ এর মত কাগুজে নাম পেয়েছে; সভা-সেমিনার, কাগজ-টিভি সবখানে সমান ভাবে হয়েছে সমাদৃত। কিন্ত, দিবস উদযাপন সর্বস্ব এই আন্দোলন আদিবাসী জীবনে কি দিয়েছে, কতটুকু দিয়েছে তার হিসেব কষা হয়নি গত দু’দশকে। আদিবাসী মানুষ কি সত্যিকারের আদিবাসী হয়ে উঠতে পেরেছে কিনা, দেশিয় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনেতিক উন্নয়নে তার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হয়েছে কিনা তার হিসেব আজও করা হয়নি।মৌলিক অধিকারগুলো কি পাওয়া হয়েছে যেভাবে পাওয়ার কথা ছিল? তাদের জীবনের মানবাধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রকে, সরকারকে কতটুকু দায়িত্বশীল ও জবাবদিহি করা গেছে? এমন অনেক প্রশ্ন আছে যেগুলোর উত্তর আজও আমাদের জানা নেই। তবে, কিছু বিষয় এই দু’দশকে পরিস্কারভাবে জানা হয়েছে।আদিবাসী জীবনের জন্য কিছু পাওয়া হোক বা না হোক, দু’টি জিনিস আমরা এই দু’দশকের প্রাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত করতেই পারি। একটি হলো ‘এনজিও’র অপার সম্ভাবনা, অপরটি হলো ক্রমবর্ধমান আদিবাসী দরদী ‘সুশীল’ সমাজ। এই দু’টি অর্জনের জন্যই ‘আদিবাসী’ শব্দটি অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে খুবই সম্ভাবনাময়। এই শব্দটি দিয়ে বেশ সুক্ষ্মভাবে লাভজনক ব্যবসা করা যায়।দাতা গোষ্ঠীদের পছন্দের তালিকায় প্রথম সারিতেই থাকে এই শব্দটি। তাই আদিবাসীদের জন্য দেশের এনজিওগুলোর উথলে পড়া দরদ চোখে পড়ে এখনও।এর বাইরেও আরো অনেক ক্ষেত্রেই এই শব্দটির উপযোগিতার চাহিদা অসাধারণভাবে চোখে পড়ে। আদিবাসী জীবনের সুখ-দুঃখকে পাশ কাটিয়ে নিছক আনুষ্ঠানিকতা, সামাজিক পদমর্যাদা এবং ব্যক্তি জনপ্রিয়তার অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠার দুই দশকের এই আদিবাসী বিষয়ক ‘ডিসকোর্স’ নিয়েই কিছু আলোকপাত করার প্রয়াস এই লেখাটি।

এনজিও বা বেসরকারি সংস্থা সমূহ বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে তা অনস্বীকার্য। দারিদ্রের অন্ধকার থেকে অবহেলিত জনগণকে বের করে নিয়ে আসা, শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে যেটুকু অর্জন কাগজে লিপিবদ্ধ আছে তার সিংহভাগই বেসরকারি সংস্থার অবদান বললেও খুব বেশি বলা হবে না। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও বেসরকারি সংস্থার অবদানকেই এগিয়ে রাখতে হবে। আদিবাসীদের সামগ্রিক জীবন মানের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তাদের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু, গত দুই দশকে আদিবাসীদের নিয়ে বেসরকারি সংস্থাসমূহের তৎপরতা কিঞ্চিৎ হলেও দৃষ্টিকটুর পর্যায়ে পৌঁছেছে। পার্বত্যাঞ্চল থেকে শুরু করে সমতলের আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে যে সকল বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রম চলমান আছে সেগুলোর প্রতিটাই আদিবাসীদের জীবন, সংস্কৃতি, সমাজ উন্নয়ন, শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে প্রকল্প পরিচালনা করছে। ক্ষুদ্রঋণ থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক বিকাশ, শিক্ষা বৃত্তি, সক্ষমতার উন্নয়ন বিষয়ক প্রকল্প, কি নেই? কিন্তু, খুব আশ্চর্যের বিষয় এই যে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ আদিবাসীদের জীবনের গুণগত মান উন্নয়নে এই প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা কতটুকু তার পরিমাপ আজও অজানা। আদিবাসী জীবনের মৌলিক পরিবর্তনের কোন লক্ষণ কিন্তু বাস্তবে কোথাও চোখে পরে না। কাপেং ফাউন্ডেশন প্রতিবছর যে আদিবাসীদের মানবাধিকারের অবস্থা শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সেখানেও আদিবাসী জীবনের মৌলিক কোন উন্নয়নের চিত্র পাওয়া যায় না। বরং ২০১৪ সালের প্রতিবেদন বলছে মানবাধিকার পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকেই যাচ্ছে। মুলধারার জীবনের সাথে সম্পৃক্তকরণের যে বিভিন্ন প্রকল্প বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাসমূহ পরিচালনা করছে তার সুফল আদিবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে পরছে না বলেই মনে হচ্ছে।

উন্নয়নের বিষয় বা ক্ষেত্র নির্বাচনেও আদিবাসীরা উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দাতা সংস্থাগুলোর চাহিদা অনুযায়ী প্রকল্প প্রণীত হয়। সেখানে স্থানীয় আদিবাসীদের প্রকৃত পক্ষেই কি প্রয়োজন তা গ্রাহ্য হয় না। গত দু’টি আদিবাসী দশকের উন্নয়নের প্রতিপাদ্য বিষয় সমূহ এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর দিকে দৃষ্টি দিলে এটাই প্রমাণিত হয় যে, উন্নয়ন জাতিসংঘ বা বিদেশি দাতা সংস্থা হতে আদিবাসী সমাজের দিকে প্রবাহিত একটি নিম্নমুখি স্রোতধারা। সেখানে আদিবাসী জীবন একটি উন্নয়ন বিষয়ক ‘উপাত্ত’। আদিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর প্রকল্পগুলো বেশির ভাগই আদিবাসীদের ‘উপাত্ত’ হিসেবে অথবা বিনোদন কেন্দ্রিক জীবনোন্নয়ন হিসেবে গণ্য করেছে। প্রায় সবগুলো প্রকল্পই কোন না কোন ভাবে আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক জীবনকে বানিয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজি। নাচ-গানের প্রতীক করে তোলা হয়েছে আদিবাসী সাংস্কৃতিক জীবনকে। অথচ, তাদের ভাষা, প্রথগত জ্ঞান, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, প্রথগত বিচার ব্যবস্থা ইত্যাদি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পুরোপুরি ভাবেই উপেক্ষিত রয়ে গেছে। টাকা দিয়ে লোক এনে গুটি কয়েক সেমিনার, দিবস উদযাপন, রঙচঙে পোস্টার ছাপানো, নাচ-গান, দু’চার ফর্মার ম্যাগাজিন প্রকাশ ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রায় শতভাগ বেসরকারি সংস্থাসমূহের আদিবাসী বিষয়ক প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম এই। এতে আদিবাসী জীবনের কি উন্নয় হচ্ছে, কতটুকু হচ্ছে তা আমার জানা নেই, তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর পোয়া বারো। বছর শেষে বেশ মোটা করে, রঙিন ছবি সংবলিত চকচকে বার্ষিক প্রতিবেদন ছাপা হচ্ছে, একটার পর একটা সফল প্রকল্প পোর্টফোলিওতে যোগ হচ্ছে। আর কি চাই! আদিবাসীদের জীবনের উন্নয়নের নিয়ামক তো তাদের গান আর নাচ! ওটাই তো তাদের উন্নয়নের মাপকাঠি!!

গত দুই দশকের আদিবাসী উন্নয়ন ডিসকোর্সের আরেকটি অনন্য মাত্রা হলো ক্রমবর্ধমান আদিবাসী দরদী সুশীল সমাজ। এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে আদিবাসীদের শোষণ-বঞ্চনার কথা বর্তমানের দেশে যেভাবে গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয় তার পেছনে দেশের সুশীল সমাজের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই এনজিওর মতই এক্ষেত্রে দরদের মাত্রাটা কোন কোন ক্ষেত্রে অতিরিক্তই মনে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে আদিবাসীদের প্রতি দরদী সুশীল গুণে শেষ করা যাবে না। সুযোগ পেলেই যে কেউ বনে যাচ্ছেন আদিবাসী দরদী। লেখক গবেষকরা তো আরো একধাপ এগিয়ে। কোনরকম দু’চার কলম লিখলেই নামের পাশে জুড়ে দিচ্ছেন ‘আদিবাসী গবেষক’, ’আদিবাসী বিষয়ক লেখক’ ‘বিশেষজ্ঞ’ ইত্যাদি ইত্যাদি। আদিবাসীরা এখানেও নেহাত গবেষণা ও লেখার ‘উপাত্ত’ ছাড়া আর কিছুই হতে পারেনি। কারণ আদিবাসীদের বিষয়ে গবেষণার চেয়ে গবেষক ও বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বেশি। বাংলাদেশের আদিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন বিষয়ের উপর বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার যে আকাল, তথ্য উপাত্তের স্বল্পতা তারই এক অকাট্য প্রমাণ। সাংবাদিকরাও কিন্তু কম যান না। অনেক সাংবাদিককেই দেখেছি এবং বলতে শুনেছি ‘আদিবাসী বিষয়ক সাংবাদিক’। আদিবাসী শব্দটা যোগ করে দিতে পারলেই অনেক বিষয় অনুকূলে চলে আসে বা আসবে এমন ধারনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সংগঠন নেতা, সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের অনেকের মধ্যেই প্রকটভাবে প্রচলিত হয়ে গেছে এবং এখনও চলমান আছে। এক্ষেত্রেও আদিবাসী জীবন উপাত্তই থেকে গেছে, জীবন হয়ে উঠতে পারেনি।

সবশেষে ‘আদিবাসী’ শব্দটির উপর কিঞ্চিৎ আলোকপাত করতে চাই। অনেক বিতর্ক আছে এই শব্দটি নিয়ে। কারা আদিবাসী, কারা অ-আদিবাসী এই নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক লেখা হয়েছে, আগামী দিনেও চলমান থাকবে। এটি দু’য়েক কথায় শেষ করে দেবার মত আলোচনা নয়। তাই বিতর্কের বিষয়টা আর এই লেখায় টানছি না। শুধুমাত্র এই শব্দটির আন্তর্জাতিক ও দেশিয় পরিমন্ডলে প্রায়োগিক বিষয়ের উপর কিছু কথা লিখতে চাই। যে দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা হোক না কেন ’আদিবাসী’ শব্দটি আমরা যে ইংরেজী শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করি সেই Indigenousশব্দটি আন্তর্জাকিত পরিমন্ডলে প্রণীত। ১৯৯৩ সালে ৯ আগষ্টকে আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ। সেই থেকে আজ অবধি প্রতিবছর এই দিবসটি সারা পৃথিবীতে পালন করা হয়। প্রতিবছর এই দিবসের জন্য প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়। শুরু থেকে এই ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়কে আবার দইটি দশকে ভাগ করে জাতিসংঘ দুইটি আদিবাসী দশকও ঘোষণা করেছিল। জাতিসংঘে আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের তৎপরতাও চোখে পরার মতই। কিন্তু এই দুই দশকের পুরো সময়টা জুড়ে আদিবাসী বিষয়টি যতখানি না আদিবাসীদের তার চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবেই আলোচিত ও সমালোচিত ছিল। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে নতুন এক মাত্রা যোগ হয়েছিল এই বিষয়টার আবির্ভাবের সাথে সাথে। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, অক্সফাম সহ বিভিন্ন দাতা দেশ তাদের উন্নয়ন এজেন্ডার প্রথমভাগেই রেখেছিল এই বিষয়কে। সেই হিসেবে এটি বলা যায় যে আন্তর্জাতিক তহবিল চ্যানেলের এক গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হয়েছিল এই আদিবাসী বিষয়টি। কিন্তু, মাঠ পর্যায়ে আদিবাসীদের জীবন মানের মৌলিক উন্নয়ন আজও পর্যন্ত প্রশ্ন সাপেক্ষ থেকে গেছে। তাই এটি বললে হয়ত খুব বেশি ভুল বলা হবে না যে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন রাজনীতির প্রয়োজনেই আদিবাসীদের বিষয়টি রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে দেশিয় পরিমন্ডলে সরকারি কিংবা বেসরকারি ক্ষেত্রে আদিবাসী উন্নয়ন বিষয়টির গুরুত্ব নিরুপণে সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কৌশলগত কোন বাস্তবমুখি পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

দেশিয় রাজনৈতিক পরিমন্ডলেও আদিবাসীদের উন্নয়ন বিষয়টি স্রেফ একটি রাজনৈতিক উপাদান হিসেবেই পরিগণিত হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচন জয়ের গুটি হিসেবে ব্যবহার করতেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিল। প্রতিবার জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহুর্তে নির্বাচন ইসতেহারে আদিবাসীদের উন্নয়নের জোয়ার দেখা গেছে। নির্বাচনের পর আদিবাসীদের কপালে জুটেছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আর সীমাহীন অবহেলা। সেই সুযোগে আলোচনার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোও আদিবাসীদের ইস্যু করে তাদের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের পায়তারা করেছে। আর সুশীলদের কথাতো বলেইছি। এভাবে ডান থেকে বাম, মধ্যপন্থীসহ যে পন্থীই হোক না কেন আদিবাসীরা গত দশকের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সব পন্থীদের দ্বারা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ‘উপাত্ত’ বললেও খুব বেশি বলা হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:৫৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাবধানের মার্ নেই

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩১


নিউ ইয়র্ক থেকে ফিরার পথে নিউ আর্ক্ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যখন এরোপ্লেনে উঠে নির্দিষ্ট সীটের কাছে পৌঁছলাম দেখলাম এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক জানালার পাশের সিটটাতে অলরেডি বসে আছেন। আইল ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×