somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সংহতি প্রকাশনের নতুন বই: জাতীয় সম্পদ বহুজাতিক পুঁজি ও মালিকানার তর্ক

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বই: পুজির অন্তর্গত প্রবনতা; মানুষ সম্পদ প্রকৃতি
লেখক: কল্লোল মোস্তফা, মাহবুব রুবাইয়াৎ, অনুপম সৈকত শান্ত
প্রকাশন: সংহতি প্রকাশন
প্রকাশ কাল: ২০১১, অমর একুশে গ্রন্থ মেলা


একুশে বইমেলায় সংহতি প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে “জাতীয় সম্পদ বহুজাতিক পুঁজি ও মালিকানার তর্ক”। ভূমিকা লিখেছেন, অধ্যাপক আনু মুহম্মদ।


আনু মুহম্মদের ভূমিকা থেকে কিছু অংশ -

গ্রন্থটি গত দুই বছরে লিখিত খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তথ্যবহুল ও বিশ্লেষণমূলক কয়েকটি প্রবন্ধের সংকলন। প্রবন্ধগুলির রচয়িতা, কখনও এককভাবে কখনও যৌথভাবে, কল্লোল মোস্তফা, মাহবুব রুবাইয়াৎ এবং অনুপম সৈকত শান্ত। এই তরুণ লেখকেরা সকলেই বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শাস্ত্রের শিক্ষাপ্রাপ্ত। সেই শিক্ষার সঙ্গে সমাজ অর্থনীতি ও রাজনীতি সম্পর্কে আগ্রহ ও অঙ্গীকার মিলে তাঁদেরকে সক্ষম করে তুলেছে বেশ কিছু জটিল বিষয় মোকাবিলা, উন্মোচন ও বিভ্রান্তি দূরীকরণে।

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে জনগণ ও তার জগতকে বিপর্যস্ত করে আধিপত্য স্থাপন এবং লুণ্ঠন ও পাচারের প্রকল্পকে ‘উন্নয়ন প্রকল্প’ হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থিত করার বেশ কিছু পথ আছে। জনস্বার্থবিরোধী নীতি, ঘুষ দুর্নীতি ছাড়াও আরও যেসব পথ এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তার মধ্যে অন্যতম হল, তথাকথিত বিশেষজ্ঞদের ব্যবহার করে এসব প্রকল্প মহিমান্বিত করা এবং মিডিয়ার উপর আধিপত্যের সুযোগে তার পক্ষে প্রচারণা চালানো। বিশ্বব্যাংক প্রভৃতি আন্তর্জাতিক সংস্থা এসব অপকর্মের গুরু, তারা বহুজাতিক ও দেশীয় লুটেরা পুঁজির প্রধান মাধ্যম ও মুখপাত্র, আর সরকার হচ্ছে বাস্তবায়নের মেশিন। এই দুষ্ট বিশ্বজোটের কাজে ভাড়া খাটার জন্য উদগ্রীব কনসালটেন্ট তাই সবসময়ই সুলভ। এরাই বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এ কথাটা সবসময় মনে রাখা দরকার যে, কোন ডিগ্রীপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ যখন ভাড়ায় খাটেন কিংবা কোম্পনির কর্মচারী হন তখন তিনি আর বিশেষজ্ঞ থাকেন না, হয়ে পড়েন কোম্পানি প্রচারক। তখন তাকে সেভাবেই চিনতে হবে।

এসব কোম্পনি প্রচারক ও প্রচারণা দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশে অনেক সর্বনাশা প্রকল্প ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রচারণার ধারে মানুষও অনেক ক্ষেত্রে এগুলোকে তাদেরই প্রকল্প বলে গ্রহণ করেন। কিন্তু এগুলোর সর্বনাশ যখন জনগণের সামনে স্পষ্ট হয় তখন এর জন্য দায়ী ব্যক্তি, কোম্পানি, কনসালট্যান্ট বা আন্তর্জাতিক সংস্থা কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায় না। দায় টানতে হয় দেশ ও দেশের জনগণকে।
এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা দেশি-বিদেশি অপশক্তির বিরুদ্ধে জনগণের সংগঠিত শক্তির বিকাশ অপরিহার্য। কিন্তু এই শক্তির বিকাশের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে, কোম্পানি প্রচারকদের তৎপরতা ও মিডিয়া প্রচারণায় সমাজে উন্নয়ন-প্রগতি সম্পর্কে যে ভুল বিশ্বাসগুলো তৈরি হয়, তার বিরুদ্ধে তথ্য ও জ্ঞানের লড়াই। প্রতিষ্ঠিত বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ এখন শত্রুপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, সুতরাং তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের ঘাড়ে এর বড় দায়িত্ব নিতেই হবে। তথাকথিত ডিগ্রী এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির চাইতে এখানে গুরুত্বপূর্ণ নির্মোহ জ্ঞান, পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ ও জনগণের পক্ষে সক্রিয় অবস্থান। বর্তমান গ্রন্থটি এরই একটি নমুনা।


সূচি:

অল-ক্লিয়ার নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ ?

সাগরের গ্যাস ব্লক ইজারা: এবার সাগর লুটের লাগল ধুম

কনোকো-ফিলিপস, শেভরন ও এশিয়া এনার্জির হয়ে বাংলাদেশকে মার্কিন চাপের মূল উইকি দলিল

জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স/পেট্রোবাংলার সক্ষমতা, সংকট ও সম্ভাবনা প্রসঙ্গে

এবার সিসমিক সার্ভের কাজও তুলে দেয়া হচ্ছে বিদেশী কোম্পানির হাতে!

গ্যাস উৎপাদন কে করবে

উন্মুক্ত কয়লা খনন: বৈদেশিক দাওয়াই এর গুণবিচার

আনু মুহম্মদের প্রবন্ধ, জোবায়ের জামানের "বিশেষজ্ঞ" প্রতিক্রিয়া এবং "দেশের স্বার্থ"

প্রস্তাবিত খসড়া কয়লানীতি ২০১০ সম্পর্কে জ্বালানী মন্ত্রণালয় বরাবর প্রেরিত অভিমত

বড়পুকুরিয়া: মাটির নীচের উন্মুক্ত খনি, মাটির উপরের দু:খ

ল্যাটিন আমেরিকার তাম্বোগ্রান্দে- আরেক ফুলবাড়ি

ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির লাভ-লোকসান

বৈষম্য মুক্ত লোডশেডিং চাই!

বাংলাদেশে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ নিয়ে প্রশ্নোত্তর

সাগর লুট নিয়ে প্রশ্নোত্তর


পৃষ্ঠা ১৪৪। গায়ের দাম ১২০ টাকা। পাওয়া যাবে বাংলা একাডেমির গেটের বাইরে সংহতি’র স্টলে (স্টল নং ৪৩৮) আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১১ থেকে।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:২০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×