somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধু আমার হাতটি ধরো...

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাত্র ক'দিন আগের ঘটনা এআইইউবি ইউনিভার্সিটির ছাত্র সালমান নিজেও জানতো না পৃথিবীর সবচেয়ে আপন মানুষটি তারই সামনে ধুকে ধুকে ঢলে পড়বে চির নিদ্রায়। গগণবিদারী মা ডাকটি ডাকতে পারবে না প্রচন্ড ইচ্ছা সত্বেও। হয়তোবা প্রতিদিন রাতে রেসিপির ছলে যে সালমান ভাত খেতে চাইতো না সে সালমানের মুখে যে জোড় করে তুলে দিতেন দু'লকমা ভাত তার হাতের পরশ মাখানো প্লেটটি ধুতে হবে নিজেকেই। আদরে-আবদারে বন্ধুর বাসায় যাওয়ার পথ খরচ কিংবা হাত খরচের টাকা মায়ের মাথার ঘাম ফেলানো অর্জিত অর্থে নির্দ্বিধায় পেতে পারতো সালমান, সে সালমান হয়তো এখন প্রচ- ইচ্ছা সত্ত্বেও মায়ের আচলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেও আতকে উঠবে গভীর ঘুমের অন্তরায়। গত মাসে যখন সালমান প্রথম জানলো তার মা ভেসে বেড়াচ্ছে ব্ল্যাড ক্যান্সার নামক নীরব ঘাতকের চাদরে তখন থেকেই যেন সালমান ইমরান দুই জমজ ভাইয়ের চোখের পানি হয়ে গেছে জোয়ার-ভাটার সাধারণ নিয়ম। আর সর্বশেষ যখন গত মাসের ২২ জুলাই রাতে সালমানের মাকে ঘর থেকে উঠানো হলো অ্যাম্বুলেন্সে তখন তার মুখ দিয়ে বেরিয়েছিল একটি মাত্র কথা মা এটিই কি তোমার শেষ যাওয়া ? হয়তোবা মায়ের মলিন মুখখানি তখন সালমানকে কোনো উত্তর দিতে পারেনি কিন্তু সে এক প্রকার নিশ্চিতই ছিল এটিই তার মায়ের শেষ যাওয়া। কারণ ব্ল্যাড ক্যান্সার হওয়ার কারণে চিকিত্সা করার জন্য যে ৫০ থকে ৬০ লাখ টাকার বিশাল থলে দরকার সেটা সালমানের বাবার নেই। তবে এভাবেই কি পুত্রের সামনে সলিল সমাধি ঘটবে মায়ের? উত্তরটা এক প্রকার হ্যা-ই ছিল। চিকিত্সার টাকার অঙ্কটা শুনে যখন আত্মীয়দের কারোরই দেখা মিলছিল না তখন ঘটনাটির সমাপ্তি এখানেই ঘটতে পারতো। কিন্তু সালমানের সামনে তখন অনেকটা এক পশলা বৃষ্টি হয়েই হাজির হয় সালমানের কয়েকজন বন্ধু। আর শুরু হয় নতুন এক কাব্যের।
সালমানের কয়েকজন বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে করেই হোক বাচাতে হবে সালমানের মা, আমাদের মা সর্বোপরি আমাদেরই মতো লাখ লাখ তরুণের জন্ম নেয়া বাংলাদেশের একজন মাকে। তাদের সবার মুখেই একই কথা ছিল এমন অবস্থা আজ হয়তোবা হতে পারতো আমার মারও। আর বেডে শুয়ে থাকা আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা আমারই মা যদি আজ রক্তের কারণে ঢলে পড়তো মৃত্যু নামক ঘোড়ার পিঠে তবে আমি কি সইতে পারতাম সে দৃশ্য।
মাঠে নেমে পড়ে বুলবুল, কাশফি, পল্লব, নাফিস নামের বন্ধুরা। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আয়োজন করে ফেলে মাকে বাচানোর জন্য কনসার্ট। মাকে বাচানোর এ কনসার্টে বেশ বড় একটি ব্যান্ড লাইন আপ দাড়িয়ে যায়। শুধু একটি প্রপোজালেই রাজি হয়ে যায় মাইলস, সোলস, শিরোনামহীন, ব্ল্যাকের মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় ব্যান্ড। আর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকে বেডে শুয়ে থাকা সালমানের বন্ধুরা। বর্তমানে এ বন্ধুরাই ঘুরে ফিরছে দেশের প্রায় সবক’টি প্রিন্ট মিডিয়া থেকে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এমনকি হাজারো সন্তানের দ্বারে দ্বারে। তাদের সবার মুখেই ছিল একই কথা মাকে বাচাতে এগিয়ে আসুন। এ স্লোগানকে সামনে রেখে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সালমানের বন্ধুরা গত কয়েকদিন ঘুরে বেড়িয়েছে ঢাকা ভার্সিটি সহ এআইইউবি, ইস্টওয়েস্টসহ বেশ কিছু প্রাইভেট ভার্সিটি। তারা গিয়েছিল ঢাকা ভার্সিটির প্রতি হলে, প্রতিটি রুমে গিয়ে মাকে বাচানোর আর্তনাদ নিয়ে, বিলি করেছে হ্যান্ড বিল। আর গত কয়েকদিনে রাত জেগে তারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় করেছে পোস্টারিং। মাকে বাচানোর জন্য সালমানের বন্ধুরা আজ লক্ষ তরুনের মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে সাহায্যের অপেক্ষায়। কারণ মেসেজ থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ খরচের জন্য পাবে সালমানের পরিবার। আর বেশকিছুদিন ধরে ক্যান্সার আক্রান্ত মাকে বাচানোর জন্য সালমানের বন্ধুরা আয়োজন করে যাচ্ছে একের পর এক কনসার্ট। আর এসব হাজির থাকছেন দেশের নামকরা সব ব্যান্ড দল। এদের মধ্যে রয়েছে মাইলস, সোলস, ব্ল্যাক, আর্টসেল, শিরোনামহীন, ক্রিপটিক ফেইথ এরমত দেশ সেরা সব ব্যান্ড দল। শুধুমাত্র বন্ধুদের কল্যানে রেডিও টুডেও এ মহতি উদ্যোগে হয়েছে শামিল। প্রতি দু’ঘন্টা পর পর বাংলাদেশের অগনিত সন্তানের কাছে পৌছে দিয়েছিল মাকে বাচানোর আর্তনাদ। বন্ধুর জন্যে বন্ধুর এমন হাত বাড়িয়ে দেওয়ার নজির হয়ত বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় জায়গা হওয়ার জন্য খুব কমই আবেগপ্রবন। তবে আগামী বছর বন্ধুদিবসকে তার প্রকৃতরুপে পাবার জন্য সম্ভবত বাংলাদেশের সব বন্ধুই চাইবেন সালমানের বন্ধুদের এ প্রচেষ্টা যেন হারিয়ে না যায়। তবে শেষ পর্যন্ত এ সত্য ঘটনার ইতি কিভাবে ঘটেছে তা আমার জানা নেই। হয়তবা অনেক চেস্টার পরও জানতে পারিনি ঘটনার শেষ স্তবকটি!!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:২৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×