সালমানের কয়েকজন বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে করেই হোক বাচাতে হবে সালমানের মা, আমাদের মা সর্বোপরি আমাদেরই মতো লাখ লাখ তরুণের জন্ম নেয়া বাংলাদেশের একজন মাকে। তাদের সবার মুখেই একই কথা ছিল এমন অবস্থা আজ হয়তোবা হতে পারতো আমার মারও। আর বেডে শুয়ে থাকা আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা আমারই মা যদি আজ রক্তের কারণে ঢলে পড়তো মৃত্যু নামক ঘোড়ার পিঠে তবে আমি কি সইতে পারতাম সে দৃশ্য।
মাঠে নেমে পড়ে বুলবুল, কাশফি, পল্লব, নাফিস নামের বন্ধুরা। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আয়োজন করে ফেলে মাকে বাচানোর জন্য কনসার্ট। মাকে বাচানোর এ কনসার্টে বেশ বড় একটি ব্যান্ড লাইন আপ দাড়িয়ে যায়। শুধু একটি প্রপোজালেই রাজি হয়ে যায় মাইলস, সোলস, শিরোনামহীন, ব্ল্যাকের মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় ব্যান্ড। আর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকে বেডে শুয়ে থাকা সালমানের বন্ধুরা। বর্তমানে এ বন্ধুরাই ঘুরে ফিরছে দেশের প্রায় সবক’টি প্রিন্ট মিডিয়া থেকে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এমনকি হাজারো সন্তানের দ্বারে দ্বারে। তাদের সবার মুখেই ছিল একই কথা মাকে বাচাতে এগিয়ে আসুন। এ স্লোগানকে সামনে রেখে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সালমানের বন্ধুরা গত কয়েকদিন ঘুরে বেড়িয়েছে ঢাকা ভার্সিটি সহ এআইইউবি, ইস্টওয়েস্টসহ বেশ কিছু প্রাইভেট ভার্সিটি। তারা গিয়েছিল ঢাকা ভার্সিটির প্রতি হলে, প্রতিটি রুমে গিয়ে মাকে বাচানোর আর্তনাদ নিয়ে, বিলি করেছে হ্যান্ড বিল। আর গত কয়েকদিনে রাত জেগে তারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় করেছে পোস্টারিং। মাকে বাচানোর জন্য সালমানের বন্ধুরা আজ লক্ষ তরুনের মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে সাহায্যের অপেক্ষায়। কারণ মেসেজ থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ খরচের জন্য পাবে সালমানের পরিবার। আর বেশকিছুদিন ধরে ক্যান্সার আক্রান্ত মাকে বাচানোর জন্য সালমানের বন্ধুরা আয়োজন করে যাচ্ছে একের পর এক কনসার্ট। আর এসব হাজির থাকছেন দেশের নামকরা সব ব্যান্ড দল। এদের মধ্যে রয়েছে মাইলস, সোলস, ব্ল্যাক, আর্টসেল, শিরোনামহীন, ক্রিপটিক ফেইথ এরমত দেশ সেরা সব ব্যান্ড দল। শুধুমাত্র বন্ধুদের কল্যানে রেডিও টুডেও এ মহতি উদ্যোগে হয়েছে শামিল। প্রতি দু’ঘন্টা পর পর বাংলাদেশের অগনিত সন্তানের কাছে পৌছে দিয়েছিল মাকে বাচানোর আর্তনাদ। বন্ধুর জন্যে বন্ধুর এমন হাত বাড়িয়ে দেওয়ার নজির হয়ত বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় জায়গা হওয়ার জন্য খুব কমই আবেগপ্রবন। তবে আগামী বছর বন্ধুদিবসকে তার প্রকৃতরুপে পাবার জন্য সম্ভবত বাংলাদেশের সব বন্ধুই চাইবেন সালমানের বন্ধুদের এ প্রচেষ্টা যেন হারিয়ে না যায়। তবে শেষ পর্যন্ত এ সত্য ঘটনার ইতি কিভাবে ঘটেছে তা আমার জানা নেই। হয়তবা অনেক চেস্টার পরও জানতে পারিনি ঘটনার শেষ স্তবকটি!!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


