somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে কি আমরা আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ দেখতে চাই?

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ আমার এক বন্ধুর সাথে তর্ক চলছিল। তর্কের বিষয় টা আগে একটু বলে নেই। বাংলাদেশে বর্তমানে সন্ত্রাসের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। শিবির বলেন, জামায়াত বলেন আর অন্যান্য যে কোনো রাজনৈতিক দল সবার মধ্যেই আছে সন্ত্রাস। এবং আগামী ভবিষ্যতের জন্য আমাদের আজকে এই সন্ত্রাস কে করতে হবে দমন। এই দমন করার ব্যাপারটা নিয়েই তর্ক শুরু। আমার বন্ধুটার মতে এখন জামায়াত, শিবির বা অন্যান্য সন্ত্রাসীদের ধরা সম্ভব না কারন তাদের ধরলে তাদের ছানাপোনারা খেপে যাবে। তখন তারা আবার বোমা বিষ্ফোরণ, আত্মঘাতী হামলা ইত্যাদির শুরু করবে দেশে আবার অরাজকতা আসবে। তখন আমার প্রশ্ন ছিলো যে তাহলে কিভাবে সমাধান হবে? বন্ধুটার উত্তর হলঃ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে। তার মধ্যে অনেক বড় বড় সন্ত্রাসী ধরা পড়বে যারা এখন হয়ত বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর সেটা না হলে আর কোনো উপায় নেই।
এবার বলি আমার কথা। আমার কথা হলো। বাংলাদেশ থেকে যে সন্ত্রাস দমন হচ্ছে না এটার কারন একমাত্র সরকারী দলের কোনো উদ্যোগ নাই। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে এটা একমাত্র শেখ হাসিনা এখন আওয়ামীলীগের চেয়ার পার্সন তাই। সেটা না হলে এই বিচার টাও হতো কিনা আমার সন্দেহ আছে। বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস নির্মুল করতে হবে সেটাই আসল কথা। তা সে যে মূল্যেই হোক না কেন। যদি কোনো বাংলাদেশ সরকার চায় যে এই দেশের সন্ত্রাস দমণ করতে হবে তাহলে বাংলাদেশের নিজের ক্ষমতা দিয়েই সেটা করা সম্ভব। এর প্রমাণ আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এরপরও যদি বাংলাদেশ মনে করে যে সম্পুর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বাংলাদেশের একার পক্ষে সম্ভব না সেক্ষেত্রে আর্ন্তাজাতিক প্রশাষণের সাহায্য নেয়া সম্ভব। মোট কথা হলো যে বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস দূর করতে হবে। এই পর্যায়ে আমার বন্ধুটির মতে "তাহলে তো বাংলাদেশে আবার যুদ্ধ বেধে যাবে"।
এটা আমিও মানি। হয়তো কিছু বিশৃ্ঙ্খলা হবে। কিছু সাধারণ মানুষ মারা যাবে। সে তো এখনো মারা যাচ্ছে। এখনো আমরা রাস্তায় চলতে গেলে হঠাত গুলি খেয়ে মরে যাই। কিন্তু আরেকটা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যদি আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে আমাদের বাংলাদেশের সন্ত্রাস এর মূল উতপাটন হয়েছে, সেটা হবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমাদের একটি উপহার। যেই উপহার আমাদের জন্য রেখে গিয়েছিলেন ৭১ এর শহীদেরা। তাদের ওই উপহারের যে মূল্য আমরা এখন দিচ্ছি সেটা সত্যি লজ্জার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়াটা অবশ্যই একটা বড় ব্যপার হবে। এই সরকার যদিও অনেক কিছু বলছে এই ব্যাপারে। দেখা যাক কতখানি হয়।

আমার মতামত জানলেন। এখন চাই আপনাদের মতামত। কিভাবে সম্ভব আমাদের এই সোনার দেশটাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা? যেন এই দেশের গ্রাজুয়েটরা এই দেশ কে ঘিরে স্বপ্ন দেখতে পারে। এই দেশের ব্যাবসায়ীরা এই দেশকে ঘিরেই চিন্তা করতে পারে।

গল্পে বা গানে শুনেছি আগে কফি হাউজ গুলো ছিলো তর্কের স্থান। সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছিলো বিভিন্ন মতবাদ। স্বাধীন চেতা নেতারা। এখন সেই যুগ নেই। এখন কমিউনিটি আরো বড়। বিভিন্ন বাংলা ব্লগ - যেখানে একসাথে অনেক মানুষের মতামত, ঐক্যতা জড়ো হতে পারে। আপনাদের মতামত জানতে চাই। যদি সরকার ব্যর্থ হয় সন্ত্রাস দমন করতে তাহলে কি আমরা শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবো? আর বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত সন্ত্রাস হামলায় মারা যাব? আপনারা কি মনে করেন না যে এই বাংলাদেশে সব সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে আমার, আপনার মতো সকল সাধারণ মানুষদের সাথে আরেকটা যুদ্ধ হওয়া উচিত ? সে যুদ্ধ সরাসরি সংঘাত না হোক। হতে পারে কোনো নতুন দল, কোনো নতুন মতবাদ । আর যদি সংঘাতের ফলেও আগামী প্রজন্মের জন্য একটা স্বপ্নের বাংলাদেশ রেখে যেতে পারি তাহলেও ক্ষতি কি??
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×