ডকুমেন্টেশন
1. ভূমিকা :
ডকুমেন্টেশন বলতেই পায়ে বুটজুতো ও বুটিদার কালো মোজা থেকে সোজা নেমে আপিস চত্বর । যার বাসডিপো ডানদিকে নেভী ব্লু ইউনিফর্মে বাঁধানো দরজা হয়ে গেলে সারা সকাল ধরে সমগ্র দোতলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এইসব শব্দাবলী থেকে খুঁটে খুঁটে ম্যান আওয়ার টুকে রাখে ম্যানেজার । বাংলা হয় না বলে তাদের শরীরে ঢাকা থাকে চৌখুপী কাঁচের মতো দু'চারটি .DOC ফাইল আর হাইলাইটে কাঁচা হলুদের রেফারেন্স দিতেই বুলেট পয়েন্টে লেখা হয় :
1.1 দক্ষিণী মহিলা
1.2 রাজুদা'র গায়ে হলুদ
1.3 যেবার জন্ডিস হলো পর পর দুইবার .....
2. প্রয়োগবিধি :
টেবিল ও টানা জানলার পাশে জমে উঠতেই ছোটোখাতা নোটপ্যাড * ক্রমশঃ বাসগুমটির মতো এক একটি সকাল হয়ে যায় ঈষৎ চুপচাপ কোনো রেসকিউ হোমের কিশোরী * আর মেয়ে কন্ডাক্টরের ডিউটি শেষ হলে তার খাকী ইউনিফর্ম নীচে গেট মুখে দাঁড়িয়ে থাকে যেন একটি কথা বলা মোটর বাইক কিছুক্ষণ পর হু-শ করে চলে যাবে পার্কে ও পাথরের কেয়ারিতে । কিছু পরে মাইসোর মাল্লিগে * ও সেদ্ধ বাদামের বিবরণ কিছুটা বিস্তৃত হয়ে উঠলে মিহি মনোযোগ ক্লোজ-আপগুলি ভরে যায় ছোটো ছোটো নির্দেশিকা ও তালিকা লেবেলে আর সেখানে কালোঢাকা কাঁচের গায়ে সরু সরু গান বাজতে থাকে ঢিক-চিকি-ঢিক-চিকি * জেন ও জানালায় ।
3. পরিশিষ্ট :
3.1 * ছোটোখাতা নোটপ্যাড : ছোটো খাতা নোটপ্যাড উভয়তঃ সুবিধাজনক ও সুলভ , তাই আপনার খুঁটিনাটি স-ব কিছু নথিবদ্ধ দেখবেন চমৎকার পেশাদারী কেতা ও কায়দায় দুরুস্ত রাখা আছে পর পর ভারী শান্ত ও শায়িত , এররহীন আর আপনিও মিলিয়ে নিতে পারছেন নম্বরের আকৃতি বিশিষ্ট এক একটি নরম সেভিং ফোম মিটিং , সহজেই আপনার টাস্কবার দেখে ।
3.2 * রেসকিউ হোমের কিশোরী : এসব কিশোরীরা নতমুখী ও আশ্চর্য ক্যামেরাব্যাপী যে স্বর্ণকেশী ছবির দোকানে চৌকো ফ্রেমের মতো হলুদ হাইলাইট হয়ে যায় বার বার , ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক দেখে না বলে তারা তাকে চিনতে পারে না । ফলতঃ এবম্বিধ কারুকার্যে এমনকি চুলের রং ও পরিবার বদলে গেলেও ধরা যায় না রংপেন্সিলের বাক্সে কিভাবে বসে থাকে কুঁড়ে ঘর ও আদিবাসী তরুণ আর এ পর্যায়ে লেন্সের দিকে তাকালে দেখা যায় বাঁধানো মেঝের মতো সেন্টারহোম জুড়ে রেসকিউ হচ্ছে কতগুলি পাখী , হাতে ফল , ছোটো ক'রে কাটা , রঙীন প্লাস্টিক , কিছু জলের বোতল ।
3.3 * মাইসোর মাল্লিগে : মাল্লিগে মানে লাল সাদা মল্লিকা ফুল যারা সকালে ও বিকালে দু'বেলাই নিয়মিত খুচরো খিদেগুলিকে রোগা হাতে গেঁথে রাখে থোকা থোকা বিনুনীতে । কারণ তারা জানে প্রতিদিনই এসময়ে বিবিধ নগরপালিয়া থেকে বেড়িয়ে আসে হিজ রয়্যাল ম্যাজেস্টি অব মাইসোরের সারিবদ্ধ পাগড়িগুলি আর তাদের পিছনে লম্বা দুলতে থাকে নারকেল তেলমাখা সিঁদুরের টিপফুল লাল সাদা - থোকা থোকা খিদে ।
3.4 * ঢিক-চিকি গান : ঢিক-চিকি ঢিক-চিকি শব্দগুলি টানা ও প্রলম্বিত হ'লে সন্ধ্যেবেলায় রাস্তা ও জোরালো ল্যাম্পপোস্ট জুড়ে ঘুরে বেড়াতে থাকে ছোটো বড়ো সীটবেলট যাদের কাঁচকালো জানালায় অনর্গল ফিতের মতো ঝুলতে থাকে যেন গান বা এরকম ফেরোমেন শব্দ ট্যাগ যার এককোনে লেখা থাকে নাম , তার পিতার মেডেল । ফলতঃ এইসব ঢিক-চিকি শব্দঋতু দিনান্তে চমৎকার এক ঝাঁক পলিথিন পাখি হয়ে উড়ে বেড়ায় রাবারে ও রাস্তায় যেহেতু আরো পাখি পলিথিন , শব্দগুলিকে আলগা শুনলে মনে হয় প্রকৃতই এক আশ্চর্য গান হচ্ছে ঢিক-চিকি ঢিক-চিকি ঢিক-চিকি ।
4. তথ্য ও যোগাযোগ : আর এখানে কোনা করে সইকোটেশনে লেখা থাকে ডাকঘর , তার বার্তায় সকলের নাম ও পদবী পরিচয় ।
(2005)
-----------
http://www.sulekhapatrika.com 2005
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৬ বিকাল ৩:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




