''... মাস্টার মশাই বলছেন , গাছ তোদের কুকুরের মত নির্মম মারবে । জলফল, তামাক কিচ্ছু দেবে না । অন্ধকার , ঘন , নোংরা আবর্তে চুপসে , ছোট্ট ইঁদুর, কালো নেংটি ইঁদুর হয়ে , হাঁপিয়ে , ছিন্নভিন্ন হয়ে মরবি । গাছ তোদের শেষ করে দেবে ভুবন । দুচোখ আঁধার , অন্ধ , হাতে পায়ে কুষ্ঠ , ক্রিপল ,প্যারালাইসিস , লাংদুটো ক্ষতবিক্ষত , মুখ চোখ ঠেলে হড় হড় করে শ্লেষ্মা , কফ , থুতু , ফেনা , গ্যাঁজলা , রক্ত । ওহ ভুবন , ভাবলে আমার তালু অবধি সব শুকিয়ে যায় । এতদিন যা পড়িয়েছি, সব ভুল । যা জেনেছি সব ভুল । তুমি অতিথি হয়ে গৃহস্বামীর সঙ্গে তঞ্চকতা করেছ । এই মহা নরক এবার তোমার । আয় বাবা , বোস , এক পাত্র পান কর ! দেখিস হৃদয়হীন শয়তান হয়ে যাবার আগে একবার ভাবিস । গাছ সব টুকে রাখছে ।
আমি গাছেদের অনেক অনুনয় করেছি । কেউ কথা রাখে নি । সব রেগে গেছে । এখন ওরা মানুষ নিয়ে তামাসা করবে । মনুষ্যহীন এক মহাশ্মশান, আমি দেখতে পাই । দেখি হাড়ে , কঙ্কালে , খুনি মাংসে , রক্তে , নরবসায় লেগে থাকা হিউম্যান ম্যানিউর কি বিপুল আশ্লেষে গাছ উবূ হয়ে , শুয়ে পড়ে , খিল খিল হেসে , ঝলমল নেচে গোগ্রাসে গিলছে । আর সারা পৃথিবী হয়ে উঠছে সবুজ , রঙীন , সুন্দরের তীর্থ । তোরা ভাষা , জাতি, ধর্ম, টাকা নিয়ে শেষ হয়ে যা, নরকের কীটরা , শেষ হ ' ।''
-----------
কমল চক্রবর্তীর 'বৃক্ষু' (1992) উপন্যাসের অংশ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


