somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুনাজির
"রব হিসেবে আল্লাহকে, দীন হিসেবে ইসলামকে ও নবী হিসেবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পছন্দ করেছি।"কোনো দল পছন্দ করি না, তবে সরকারের হিতাকাঙ্খী ও তার ভালো কাজের সহযোগী হওয়া পছন্দ করি।

১—১০জিল হজের ফজিলত সম্পর্কে দুর্বল, জাল ও ভিত্তিহীন হাদীসসমূহ।

২৩ শে জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

1- عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال : ( ما من أيام أحب إلى الله أن يتعبد له فيها من عشر ذي الحجة ، يعدل صيام كل يوم منها بصيام سنة ، وقيام كل ليلة منها بقيام ليلة القدر ) رواه الترمذي
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এমন কোন দিন নেই যে দিনগুলোর (নফল) ইবাদাত আল্লাহ্ তা'আলার নিকট যিলহাজ্জ মাসের দশ দিনের ইবাদাত হতে বেশী প্রিয়। এই দশ দিনের প্রতিটি রোযা এক বছরের রোযার সমকক্ষ এবং এর প্রতিটি রাতের ইবাদাত কাদরের রাতের ইবাদাতের সমকক্ষ।” যঈফ, তিরমিযি (৭৫৮), ইবনু মাজাহ (১৭২৮)
হাদীস সম্পর্কে সংকলকের উক্তি :
১—আবূ ঈসা ইমাম তিরমিযি হাদীসটি বর্ণনা শেষে বলেন, “এই হাদীসটি গারীব। আমরা হাদীসটি (মাসউদ ইবন ওয়াসিল তিনি নাহহাস থেকে) সূত্র ছাড়া অন্য কোনো সূত্রে জানতে পারিনি।”
পর্যালোচনা : এটি হাদিসের একটি দোষ। কেননা গুরুত্বপূর্ণ হাদীস গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনাকারীদের নিকট থাকাটা স্বাভাবিক। এটির ক্ষেত্রে সেরূপ ঘটেনি।
২— ইমাম তিরমিযি আরও বলেন, “আমি মুহাম্মাদ (ইবন ইসমাইল বুখারী)-কে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি এই সনদ ছাড়া অন্য কোনো সনদে এই জাতীয় হাদীস জানেন না।”
পর্যালোচনা : ইমাম তিরমিযি এ কথা উল্লেখ করে হাদীসটির আরেকটি দুর্বলতা প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ
কোনো রাতকে কদরের রাতের সমকক্ষ প্রমাণকারী হাদীসই নেই। অধিকন্তু এটি মানলে হাদীসটিকে সূরা কদরের সমতূল্য মর্যাদা প্রদান করা হয়!
এ কারণে কতক লোক লোক কুরআনের বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে দুর্বল, জাল, ভিত্তিহীন কথাবার্তাকে গুরুত্ব প্রদান করছে। অনুরূপভাবে কুরআনুল কারীমের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ দু’টি কিতাবের প্রতিও বৃদ্ধাঙ্গী প্রদশন করা হয়েছে যে, তারা এই হাদীসটি উল্লেখ করেননি, কিংবা তারা এটি জানতেন না। এখান থেকে আমাদের এক শ্রেণীর লোকের বুখারী-মুসলিমের ওপর অন্যান্য গ্রন্থাদিকে প্রদান্য দেয়ার মানসিকাত তৈরি হয়েছে।
৩—ইমাম তিরমিযি আরও বলেন, “বুখারী বলেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব থেকে তিনি নবী সা. থেকে মুরসাল হিসেবে এই হাদীসের অংশ বিশেষ বর্ণনা করা হয়েছে।”
৪— ইমাম তিরমিযি আরও বলেন, “ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ নাহহাস ইবন কাহমের স্মৃতিশক্তি বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন।”
আলেম হিসেবে আমাদের একটি দোষ হচ্ছে, আমরা মুহাদ্দিসের বর্ণিত হাদীস দেখি, কিন্তু তিনি কী উদ্দেশ্য হাদীস বর্ণনা করেছেন সেটা দেখি না। হাদীস শেষে চোখ বন্ধ করে নেই। এমনটি করেছেন আমাদের মসজিদের ইমাম হাফিজ, মাওলানা ও মুফতি... সাহেব। ঢাকার মিরপুরের প্রসিদ্ধ এক মাদ্রাসার উস্তাদ।
প্রশ্ন জাগে : এ জাতীয় দুর্বল, জাল ও বানোয়াট হাদীসগুলো কী করব : ছুড়ে ফেলে দিব, না বুকে আগলে রাখব, যদিও তার কারণে কুরআন ও সহীহ হাদীসগুলো ছুটে যায় ও তাতে সন্দেহের সৃষ্টি হয়?
আবার ইমাম তিরমিযি কেনই বা এটি উল্লেখ করেছেন?
এসব প্রশ্নের উত্তর একটু দীর্ঘ, তবে সংক্ষেপে বলছি যে, ইমাম তিরমিযি তার সুনান গ্রন্থে সব সহি ও আমলযোগ্য হাদীস বর্ণনা করবেন এমন শর্ত করেননি, বরং তার শর্ত হচ্ছে, তিনি মানুষের আমল যার ওপর রয়েছে সে সম্পর্কে হাদীস উল্লেখ করবেন। অতঃপর কোনটি সহীহ ও কোনটি সহীহ নয় সেটি বর্ণনা করে যাবেন। এই নীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষ চোখ-কান খোলা রেখে সহীহ হাদীসের ওপর আমল করবে আর দুর্বল, জাল ও বানায়োট কথা-বার্তাগুলো পরিহার করবে।
এই হাদীসটি লক্ষ্য করুন, তিরমিযি প্রথম হাদীস সম্পর্কে নিজের মত গরীব প্রকাশ করেছেন। অতঃপর তার উস্তাদ ইমাম বুখারীর মত উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারী তাকে আরেকটি কথা বলেছেন যে, হাদীসটি কাতাদাহ থেকে মুরসাল হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। আর মুরসালে সাহাবীর উল্লেখ থাকে না। তারপর হাদীসটির রাবী নাহহাস সম্পর্কে বলেন, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ তার স্মৃতিশক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এই চারটি দোষ তিনি হাদীসটির উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ তিরমিযি চেয়েছেন মানুষ যেন জেনে-বুঝে হাদীসটির ওপর আমল করা পরিত্যাগ করুক।
প্রিয়পাঠক, আপনি চাইলে এটিকে বুকে আগলে রেখে কুরআন ও সহীহ হাদীসকে অবজ্ঞা করতে পারেন, আর চাইলে কুরআন ও সহীহ হাদীস বুকে আগলে রেখে এটিকে ছুড়ে ফেলতে পারেন। তবে আমি হাদীসটির দুর্বলতা বর্ণনা করা ছাড়া এটিকে রাসূল সা. এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হালাল জানি না।
১—১০জিল হজের ফজিলত সম্পর্কে দুর্বল, জাল ও ভিত্তিহীন হাদীসসমূহ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×