somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সানাউল্লাহ সাগর
প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৩ টি। (১০টি কবিতার বই, ২টি উপন্যাস ও একটি ছোটগল্পের বই।)

‘গুহা’ যৌন বিশ্বাস, ব্যক্তি চিন্তার স্বাধীনতা, সমকালীন পীড়া ও নারীবাদ-নারী সামাজ চিন্তা ভিত্তিক একটি রোমান্টিক পত্রোপন্যাস...

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তখন মিরপুর-১১ তে থাকতাম। বাসার পরিবেশটা শিল্প চর্চার অনুকূলে ছিলো। যেটা ছিলো আমার মতো শিল্প আগ্রহী মানুষের জন্য বাড়তি পাওয়া। বাসার অন্যান্য সদস্যরাও ছিলো শিল্প চর্চার সাথে যুক্ত। আর প্রতিবেশী সাহিত্য যোদ্ধা বন্ধুরাও ছিলো আড্ডা প্রবণ। মিরপুর থেকে সপ্তাহে ছয়দিন ধানমন্ডি-৫ এ এসে অফিস করতাম। যে কারণে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে সাড়ে তিনঘন্টা জার্নি করতে হতো। তবে এই জার্নির সময়টা পেইনের হলেও বৃথা যায়নি। বাসে ঝিমুনির সাথে সাথে তৈরি হয়েছে ‘গুহা’র মতো উপন্যাসের খসড়া। প্রথমে মাথায়। তারপর কাগজে কলমে। তারপর কম্পিউটারে। পঁয়ত্রিশ হাজার শব্দের এই উপন্যাস [ পত্রোপন্যাস ] তেরোটি আবেগঘন চিঠি দিয়ে সাজানো হয়েছে। যার পুরাটাই লেখা হয়েছে আমার কর্মক্ষেত্রে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে। লেখাটি শেষ হওয়ার পর পেড়িয়ে গেছে প্রায় তিন বছর। এই তিন বছরে এডিট করেছি অন্তত চৌদ্দ বার। হয়তো আরো ভালোভাবে এডিট করতে পারলে কিংবা আরো সময় নিয়ে কাজ করতে পারলে ভালো হতো। শিল্পে যেমন স্রষ্টার তৃপ্তি থাকে না। ঠিক তেমনই মনের মধ্যে এক ধরণের খুঁতখুঁত রয়েই গেলো। ইস্‌ যদি আর একবার এডিট করতে পারতাম ! সেটা হয়তো পরবর্তী সংস্করণে করা যাবে। কারণ ‘গুহা’র প্রিন্ট ভার্সন আর মাত্র দুই দিনের মধ্যেই হাতে পেয়ে যাবো। দীর্ঘ যন্ত্রণা থেকে বের হয়ে আসবে ‘গুহা’। অথবা সময়ের যন্ত্রণা...

‘গুহা’ উপন্যাসের ফ্ল্যাপে ব্যবহার করা আমার প্রিয় একটি আলোকচিত্র ২০১৭ সালে তুলে দিয়েছিলেন কবি শামীম আরেফীন। বইয়ের ফ্ল্যাপে ছবিটির যুক্ত হওয়া প্রিয় এই ছবিটির একটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা হলো। আর অসাধারণ প্রচ্ছদটি করে দিয়েছে প্রিয় ছোট ভাই Al Noman। বরাবরই যার কাজের মুগ্ধ দর্শক আমি। আর পিছন থেকে স্বঘোষিত না-পাঠক কিন্তু পাঠ শ্রোতা আমার বউ তৃষা হক সব সময় উৎসহ দিয়েছে, বাধ্য করেছে এই উপন্যাস প্রকাশ করতে। এবং সকল আয়েজন সার্থক করে গুহাকে অালোর মুখ দেখাতে সাহস করেছেন অনুপ্রাণন প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী আবু মোহাম্মদ ইউসুফ যার কাছে অগণন কৃতজ্ঞতা। এমন অশ্লীল অভিধা পাওয়া ও মুক্তবোধের একটি চিন্তাকে অালোতে আনার ব্যবস্থা করার জন্য।
.............

‘গুহা’ উপন্যাস থেকে...

‘‘এই কুত্তা ! এতো আবেগী কথা বলছি বলে মনে করিস না—আমি তোর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি। আমার এখন একটাই রাজকুমার। ওই পাগলাটা। যে কোনো কিচ্ছু ভয় পায় না। আমার মতো রাগী মহিলাকে কে কি করে যে বশ করে ফেলেছে সেটা ভেবে মাঝে মাঝে হাসি। হায়রে ভালোবাসা। যেখানে কোনো জাত পাত নেই বয়স যেখানে কোনো ব্যাপারই না। কেবল কাছে টানার মন্ত্র জানলেই হয়ে যায়। কি হয় রে ! তোর তো জানার কথা। তুই জানবি না তো কে জানবে। তুই তো আমার মাষ্টার। তোর হাতেই তো আমার হাতেখড়ি।
জানিস? জামাই মাঝে মাঝে আমাকে গান শোনায়। সে তো ভালো গান গায়। ছাত্র জীবনে গান গেয়ে অনেক প্রাইজ পেয়েছে। কিন্তু তার কণ্ঠে যখন ‘এসো প্রিয়া তোমার খোঁপায় দিবো তারার ফুল...’
আমি হারিয়ে যাই। সেখানে পাগলার মুখ থাকে। সেখানে তোর মুখ থাকে। সেখানে শাদা চামড়ার টানে কপোকাত হারামিটার মুখও থাকে। তুই কেনো এতো জ্বালাস আমাকে বলতো? তোকে তো আমি বারবার মন থেকে বিদায় করে পুত পবিত্র হতে চাইছি। চেষ্টা করছি। পারছি না কেনো বলতো! তোর কাছে কি কোনো আলাদিনের যাদু আছে? ‘’

'' আমি বলে এসেছিলাম সে মারা গেলে যেন অন্তত একবার আমাকে খবর দেয়। তাকে যেন আমি দেখতে পারি। তার ছেলেরা সে কথা রেখেছিলো। আমি ঢাকা থেকে ছুটে গিয়ে তাকে নিজ হাতে কবরে শুইয়ে দিয়েছিলাম। সেদিন আমি কাঁদিনি। একটুও কাঁদিনি। আজ কেনো এতো কান্না পাচ্ছে বলো তো। আমি মাকে আসলে সত্যিই অনেক ভালোবাসি। সেতু অনেক ভালোবসি। মাকে জোর করে কি ঢাকা নিয়ে আসা উচিত ছিলো? মায়ের বিপক্ষে যেমন অনেক অভিযোগ আছে। তেমন তার পক্ষেও অনেক যুক্তি আছে। যেগুলো নিয়ে আমি অনেক বছর ধরেই ভেবেছি। আজ সারাটি বিকেল মায়ের গোসল করার পর মারহীন কাপড়ে জড়ানো দাঁত পড়ে যাওয়া মুখটা আমার সাথে কথা বলেছে। আমি শুধু কেঁদেছি। একটুও কথা বলতে পারিনি। একটা কথার জবাব দিতে পারি নি। কি হয়েছে আমার—বলো তো। তোমাকেও বা আজ কেনো এতো মিস করছি। তুমি আসলে প্রেমিকার পাশাপাশি একটু একটু করে আমার মা হয়ে উঠতে ছিলে! যেখানে আমি নিঃসঙ্গ একা। যেখানে আমি কাউকেই দাঁড় করাতে পারি না। সেখানে তুমি নিজের যোগ্যতায় অকপটে ঢুকে গিয়েছিলে। আমি তোমাকে স্বাগত জানিয়েছি। তোমার মুখে নাকঘষে শরীর থামিয়েছি। আবার তোমার বুকে মাথা রেখে ঘন্টার পর ঘন্টা কেঁদেছি। ''

‘‘...এতো তাড়াতাড়ি তোমার চিঠি পাবো বুঝতে পারি নি। হঠাৎ করে তুমি আবার কেনো আমার কাছে খুলে পড়ছো! সেটা হিসেব করছি। আমি যুক্তিবাদী মানুষ। সব কিছুকে যুক্তি দিয়ে বিচার করতে চেষ্টা করি। তোমার এই খুলে পড়ার অভ্যাসটা প্রথমবার যখন আমাদের রিলেশনটা ভেঙে গিয়েছিলো তখন পেয়েছিলাম। এইবার আবার দেখি তেমন করে তুমি খেলছো। তোমাকে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি। তোমার মায়ের কথা বলো আর যাই বলো বউ বিদেশে পিএইচডি করছে এই সুযোগে আমাকে বাড়তি পাওনা হিসেবে লাগানোর ধান্দা করলে ভুল করবে শুভ্র। তোমার প্রতি এখনো আমার টান আছে। সেটা আমি অস্বীকার করছি না। তোমার মতো একজন মানুষের শূন্যতা আমি সব সময় ফিল করি। এর মানে এই নয় যে আবার তোমার বুকে আমার বুক খেলাবো। অন্য পুরুষের কাছে সব বিলিয়ে দিলেও আমি আর তোমার সাথে আর শুবো না। সেটা আবার ভালো করে বলে দিলাম। তাতে যদি তুমি আমাকে নারীবাদী বলো তো বলতে পারো। অপমানে যোগাযোগ না রাখতে চাও—সেটাও করতে পারো। ’’
...................................
গুহা উপন্যাসের ফ্ল্যাপ

সৌখিন ফটোগ্রাফার শুভ্র। তার পৃথিবী মমতাহীন শূন্যতায় ভরা। একে একে কাছের মানুষদের প্রস্থান তার জীবনকে ক্যামেরার ক্লিকের সাথে বন্দি করে ফেলে। এক সময় তার নিঃসঙ্গ জীবনে আসে দুঃখ ভাগ করে নেয়ায় আগ্রহী মানুষেরা। হয়তো তারা একই মানুষ। ভিন্ন তাদের নাম। তারা সেতু-ঋতু-রূপা অথবা স্বাতী। যারা শুভ্র’র মনস্তাত্ত্বিক ভাবনা-যৌন বিশ্বাস-উড়ন্ত নেশা ও বিপন্ন ক্ষতের সাথে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় জড়িয়ে যায়। অথবা তারা কেউ না। শুধু শুভ্র। শুধু নিঃসঙ্গ একজন মানুষ। নিজস্বতায় নিমগ্ন। যে ক্রমশ ঢুকে যায় অচেনা এক জগতে! নিষিদ্ধ ভাষা ও চিঠির ভাঁজে...

‘গুহা’ যৌন বিশ্বাস, ব্যক্তি চিন্তার স্বাধীনতা, সমকালীন পীড়া ও নারীবাদ-নারী সামাজ চিন্তা ভিত্তিক একটি রোমান্টিক পত্রোপন্যাস...

প্রকাশনী: অনুপ্রাণন প্রকাশন
প্রচ্ছদ : আল নোমান
ধরন : পত্রোপন্যাস
পৃষ্ঠা : ১১২
মলাট মূল্য : ২৪০ টাকা

‘গুহা ’ ঘরে বসে পেতে চাইলে ক্লিক করুন এই লিংকে-

#rokomari.com থেকে'গুহা' প্রি-অর্ডার করতে...
লিংক: https://www.rokomari.com/book/176452/guha

#Boibazar.com থেকে 'গুহা' প্রি-অর্ডার করতে...
লিংক: https://www.boibazar.com/book/guha-hardcover?

#boiutshob.com থেকে 'গুহা' প্রি-অর্ডার করতে...
লিংক:https://www.facebook.com/…/a.10115318423…/1275560069263978/…

#bibidhshop.com থেকে'গুহা' প্রি-অর্ডার করতে...
লিংক:https://www.facebook.com/…/a.36917129981…/2403099339760389/…

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৪১
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×