কোন কথা হবেনা আজ শুধু মিষ্টি খাওয়ার দিন,আজ ঘরে ঘরে আগুন জ্বলবে তবে অবশ্যই চুলায়................
রাজাকার মীর কাশেম আলীর ফাঁসির রায়ের প্রতিক্রিয়ায় লেখা তার মেয়ের একটি নোট চোখে পড়ল। কাকে নিয়ে লিখেছে সেটা যদি অজানা থাকতো, স্রেফ এটা যদি অন্য আর দশটা সাধারণ অপরাধীর কন্যার লেখা হতো, যেখানে একজন পিতার প্রতি তার আদরের কন্যার ভালোবাসা ফুটে উঠেছে লাইনে লাইনে তাহলে যে কারো চোখ আদ্র হয়ে উঠত। কিন্তু পড়ার সময় চোখ আদ্র হয় ঠিকই, তবে ভিন্ন কারনে।
সেখানে মীর কাশেমের কন্যা লিখেছে-
"আব্বু তার জামাকাপড়ের ব্যাপারে খুব সতর্ক। মানুষ তাকে সৌখিন বলে।ভাইয়া বললো কাল তাকে নাকি কয়েদির ড্রেস দেয়া হবে!
আমার আব্বুর রুম গোছানো,বিশেষ করে ঘুমানোর আগে তার বিছানা আমি করতাম।সে খুব টিপটপ।তাই,তার বিছানা চাদর ঠিক না রাখলে তার পছন্দ হতো না।সেই মানুষটাকে আজ একটা ছোট কনডেম সেলে ঢুকিয়ে দিলো!বিছানা তো দুরের কথা,ঠিকমত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার জায়গাটাও নাই!
আব্বু গল্প করতে খুব মজা পেতো। মানুষকে হাসাতে তার ভালো লাগতো। নিজেও সারাক্ষণ হাসিমুখেই থাকতো,মানুষকে ঘিরেই তার সকল চিন্তা। আজ তাকে একা একা ঘরে রেখে দিলো...,কেউ নাই কথা বলার....কিভাবে থাকবে??"
এই মেয়েটি কি জানে একাত্তরে এরকম লক্ষ লক্ষ কন্যার বুকে হাহাকারের আগুন জ্বেলেছে তার পিতা? তাকে কেউ বলে দেবেন, শহীদ আজাদের মা প্রায় ত্রিশ বছর ভাত মুখে দেননি শুধুমাত্র ছেলের মুখে শেষবারের মতো ভাত তুলে দিতে পারেননি বলে? ছেলে টর্চার সেলের ফ্লোরে স্থান পেয়েছিল বলে আজীবন তিনিও ফ্লোরেই শুয়েছেন? এখনও চট্টগ্রামের বীর মাতা রমা শহরের পিচঢালা তপ্ত রাস্তায় হাঁটেন নগ্ন পায়ে শুধুমাত্র এই চিন্তায় যে তার পুত্রেরা যে মাটির সাথে মিশে আছে সেই মাটিতে তিনি কিভাবে স্যান্ডেল পায়ে হাঁটবেন?সে কি জানে শহীদ রুমির মা জাহানারা ইমাম একটা জীবন কাটিয়ে গেছেন পুত্র আর স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে চেয়ে?
রাজাকার মীর কাশেমের কন্যার এই আবেগময় লেখা তাই আমার চোখ আদ্র করেনা। বরং এই লেখা পড়ে আমার চোখে ভেসে ওঠে শহীদ আজাদের মায়ের তিন যুগ ভাত না খেয়ে থাকার দৃশ্য। আমার চোখে ভাসে চট্টগ্রামের পিচঢালা তপ্ত রাস্তায় রমাদির নগ্ন পদযুগল। আমার কানে গমগম করে আওয়াজ তোলে শহীদ রুমির মায়ের দৃপ্ত শ্লোগান- জয় আমাদের হবেই...
তাই রাজাকার কন্যার লেখা আমার চোখ আদ্র করার বদলে বরং ক্রোধের আগুন জ্বালে...
চিৎকার করে বলি স্বাধীন বাংলায় রাজাকারের ঠাই নাই
কৃতজ্ঞতা: ড. আতিকুল হক
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৫:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



