এক দেশে ম্যানহাটন, ইন্ডিয়া আর ভারত
শান্তনু দে
এখানে বাতাসে বিশুদ্ধ অক্সিজেন।
জিরো পলিউশান। বর্জ ও জলের সম্পূর্ণ রিসাইক্লিংয়ে সর্বাধুনিক ব্যবস্থা। স্বনিয়ন্ত্রিত। বিস্তৃত এলাকাজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্মার্ট গ্রিড। চব্বিশ ঘন্টা ইলেকট্রিসিটি। দিনভর জল। এনার্জির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিজিট্যাল ব্যবস্থা। স্মার্ট মিটার। চওড়া মসৃন রাস্তা। আধুনিক গণপরিবহন। বাইসাইকেল ও পথচারীদের জন্য আলাদা লেন। অবধারিত অনুষঙ্গ ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর।
অসম্ভব পরিবেশ বান্ধব।
এই ভারতে ঘিঞ্জি বস্তি আর বহুতলের সহবস্থানে বেড়ে ওঠা এক ‘নিও লিবারেল হেভেন’।
অতি-আধুনিক, ঝকঝকে স্মার্ট-সিটি — বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নগর।
বিশ্ব-মানের এই কেতাদুরস্ত ফিটফাট নগর গড়ে তুলতে চাইছে খোদ সরকার। এরমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে পাইলট প্রকল্প তৈরির কাজ। দেড় বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে দিল্লি মনে করছে। নকশা তৈরি থেকে নির্মাণের দায়িত্বে থাকবে হিতাচি, মিৎসুবিশি, তোশিবার মতো জাপানি সংস্থা।
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী আনন্দ শর্মা জাঁক করে জানিয়েছেন, ‘চন্ডীগড়ের পর, আধুনিক নগর নির্মাণে এটাই প্রথম আন্তরিক পদক্ষেপ।’
কেন্দ্রের পরীক্ষাতেই যখন ডাহা ফেল দেশের অধিকাংশ শহর, মল-শপিং কমপ্লেক্সের ভিড়ে বিবর্ণ রঙচটা বুনিয়াদী পরিকাঠামো, একশ’য় ৯০তুলতে পারেনি কেউ, তখন ঝকঝকে ‘স্মার্ট সিটি’র বাহারি প্রজেক্ট।
শর্মা না জানলেও, অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিং বিলক্ষণ জানেন, এই ভারতেই রয়েছে একটি সাব-সাহারান আফ্রিকা। আমাদের গ্রামীণ জনসংখ্যার অর্ধেক, সংখ্যায় ৩৫কোটির বেশি মানুষের দৈনিক খাদ্যগ্রহনের পরিমাণ সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলির চেয়েও কম।
এবং এটাই দস্তুর।
মার্কিন ‘টাইম’, ব্রিটিশ ‘ইকনমিস্ট’ পত্রিকায় ‘শাইনিং ইন্ডিয়া’। পত্রিকার পাতায়-পাতায় প্রাচুর্য্য আর বৈভবের কভার স্টোরি। বাড়ছে ‘বিজনেস ক্লাস’ অর্থনীতি। শহর ছাপিয়ে মফঃস্বলে শপিংমলের ব্যাপ্তি। বিগ বাজারে উড়ছে মধ্যবিত্তের টাকা। দিল্লিতে সংস্কারের খাঁটি টিম। প্রধানমন্ত্রী সংস্কারের ঘোরে বুঁদ।
এখানে কর্পোরেট দুনিয়া পায় ভরতুকি। তিন কিস্তিতে পায় সাড়ে ৩লক্ষ কোটি টাকা ত্রাণ। অন্যদিকে, সারের ওপর থেকে ভরতুকি ছাঁটাই করে সরকার।
বাড়ছে কৃষকের আত্মহত্যা। প্রতি বত্রিশ মিনিটে একজন কৃষকের আত্মহত্যা — এতদিন এই ছিল। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত। এখন প্রতি তিরিশ মিনিটে একজন।
আগে ছিল শুধু মহারাষ্ট্র। এখন মহারাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে ছত্তিশগড়, অন্ধ্র প্রদেশ, কর্নাটকে। আগে ছিল শুধু তুলো চাষীদের মধ্যে। এখন তাতে যুক্ত হয়েছেন তাঁত ও বস্ত্র শিল্পের শ্রমিক।
এ এক আত্মমরণের অর্থনীতি।
অন্যদিকে, এক বছরে, ২০০৯-’১০এ বিলিওনেয়ারের সংখ্যা বাড়ে দ্বিগুন। ফর্বসের ‘ধনীদের মধ্যে ধনীশ্রেষ্ঠ’র তালিকায় ভারত থেকে বিলিওনেয়ারের সংখ্যা ৪৯, যেখানে গত বছর ছিল ২৪। শুধু ধনী নয়, এই সময়ে উচ্চ মধ্যবিত্তরা কিনছেন অতিরিক্ত ২৫শতাংশ গাড়ি। গাড়ি বিক্রি হয়েছে ১৫,২৬,৭৮৭।
বি পি এল, এ পি এলে না নিও লিবারেল মিডিয়া ব্যস্ত আই পি এলে।
বলা হয়েছিল বছরে ১কোটি ২০লক্ষের কর্মসংস্থান। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০০৯এ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গিয়েছে মাত্র দেড় লক্ষ। মাত্রই দেড় লক্ষ। মন্দায় খালি সৃষ্টি হয়নি কর্মসংস্থান। অথচ, মন্দায় কর্পোরেটের মুনাফা বেড়েছে। বিলিওনেয়ারের সংখ্যা হয়েছে দ্বিগুন।
দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকার। শপথ গ্রহনের মুহূর্তে ইকনমিস্টের মতো পত্রিকাও দিল্লিকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে একটি রূঢ় সত্য, ‘প্রায় ২কোটি ৭০লক্ষ ভারতীয়ের জন্ম হবে এবছর। পরিস্থিতির উন্নতি নাহলে, এদের মধ্যে প্রায় ২০লক্ষই মারা যাবে পরের ভোটের আগে। আর যারা বেঁচে যাবে, অপুষ্টির কারণে তাদের ৪০শতাংশই হবে শারীরিকভাবে বাড় বন্ধ হওয়ার শিকার। অধিকাংশই হয়তো স্কুলে ভর্তি হবে। কিন্তু ওই পর্যন্তই। স্কুলে মাস্টার পাবে না। পাঁচ বছর পর, এদের ৬০শতাংশেরও কম ছোট গল্প পড়তে পারবে, ৬০শতাংশেরও বেশি সরল পাটিগনিত করতে গিয়ে হোঁচট খাবে।’
দিল্লি নির্বিকার। স্মার্ট-সিটির উন্নয়ন মডেলে বুঁদ।
সংস্কারের দেড় দশক অতিক্রান্ত। বাড়ছে অসম বিকাশ। বাড়ছে রাজ্যগুলির মধ্যে। বাড়ছে গ্রাম-শহরের মধ্যে। বাড়ছে বৈষম্য। ধনী-দরিদ্রের মধ্যে। পুরুষ-মহিলার মধ্যে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দেড় দশকে বৈষম্য বেড়েছে, শেষ ৫০ বছরের তুলনায়ও দ্রুতহারে।
গ্রাম-শহরের বিভাজন আজ এতটাই প্রকট যে আমজনতার লেন্সে একই দেশে যেন দুই-রাষ্ট্র — ইন্ডিয়া এবং ভারত।
এবারে ‘স্মার্ট-সিটি’র নামে জন্ম নিতে চলেছে আরেকটি — ম্যানহাটন।
এবারে একই দেশে যেন তিন রাষ্ট্র — ম্যানহাটন, ইন্ডিয়া এবং ভারত।
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?
হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।