আমার কাছে কেউ চিঠি লিখতো, এভাবে-
সুপ্রিয় নিরবতা,
আজ এমন দিনে কাউকে ধন্যবাদ দেওয়ার ইচ্ছে আমার নেই। সকাল বেলার পত্রিকাবাহক আসাদ, যার প্রতিদিনের কাজ একটাই-সারা দুনিয়ার খবর আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া।কাল সেই-তো আমার চলে যাওয়ার খবর সারা দুনিয়ার কাছে পৌঁছে দেবে।ধন্যবাদের ভাষায় তাকে আমি রিক্ত করবো কেন ? বন্ধু ফয়সাল, হোটেলে চা-পানরত অবস্থায় বলেছিলো-'চল দোস্ত বিদেশ যাইগা'।মনের গভীর থেকে অস্ফুট স্বরে কে যেন বলেছিলো-'নষ্ট রাজার দেশের চাইতে নষ্ট মেয়ের দেশ অনেক ভালো'।আমি শুধু হেসেছিলাম। আমার চৌদ্দ গোষ্টির কেউই মুক্তিযুদ্ধে যায়নি। হয়তো সে কারণেই কৃত্রিম দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়নি। আমি না হয় কৃত্রিম ভালোবাসায় তার মাশুল দিলাম।ফয়সালকে সেদিন 'নো থ্যাংকস' বলা হয়নি। দৈনিক বাজারে যাওয়া জনৈক ব্যক্তিকে আলুর দর জিজ্ঞেস করতেই চেঁচিয়ে বলেন-'কৃষককুল কি তোর খালু ?' এ প্রশ্নের উত্তর কি ধন্যবাদ দিয়ে হয় ? ভেবেছিলাম জননেত্রী ও দেশনেত্রীকে ধন্যবাদের বাণীটুকু পৌঁছে দেবো। ভোটের মৌসুমে মৌসুমী বক্তব্যে প্ররোচিত হয়ে আমাকে আর নিজের হাতে ভোট দিয়ে তথা দেশের স্বপ্নীল উন্নয়নে (!) (প্রকারান্তরে বারোটা বাজানো) অবদান রাখতে হবে না। হয়ে উঠেনি। 'নিওসেপটিন আর' আমার বুকব্যথার সঙ্গী ছিলো। কখনও বাম বুকের দ'আঙ্গুল নিচে চিন চিন করতো। মনে হতো এই বুঝি এটাক হবে। তখনই চালান করে দিতাম। নিত্য রাতের সঙ্গী 'রিল্যাক্নিন ফাইভ' আজ একটু আগেও খেয়েছি।অন্যদিনের মতো একটি কিংবা দু'টি নয়।বিশটি। ইদানিং ঘুম কম হচ্ছে তো ! পরোপকারী ওষুধগুলো কি শুধুই ধন্যবাদের যোগ্য ? আমার প্রেমিকার সাথে দেখা হয়না অনেকদিন।ও চায় না বলে হয় না।প্রার্থনা করতাম-'হে প্রভু সাধনায় না-কি পাথরেও ফুল ফোটে।ভালোবাসার পানি দ্বারা ঐ গাছে কি জীবন দেয়া যায় না ?' ওকে চেয়েছিলাম । কামনা করিনি। ভালোবাসি বলা হয়নি।। আমাকে ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদও দেয়া হয়নি।ভালোবাসা আর ধন্যবাদের বিরহ না হয় তোলা থাক অন্য কোন মহান ভালোবাসার জন্য !
মা আর মাটিকে কখনই ধন্যবাদ দেয়া যায় না।নিয়ম নেই। আজ জীবনের শেষ রাতে আমরা দু'জন। আমি এবং আমি। যৌবনের করি ডোরে বাতি দেওয়ার জন্য কেউ কারো মুখাপেক্ষি নই। অধিকার এখানে অপাঙক্তেয়। একজন আমি আর একজন আমাকেই শুধু ধন্যবাদের ভাষায় সিক্ত করবো।আমি, আমার আমাকে। পৃথিবীর কোমল মৃত্তিকায় সর্বনাশের সর্বনাশের ছন্দিত ঝংকারে আমি কালোনিদ্রা ভাংতে পারিনি। ঘুমন্ত আমি বিষের পেয়ালা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছি বার বার। আজ এই নির্বাচিত দিনে আমাকে ধন্যবাদ। ধন্যবাদ বন্ধুকে স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্য, ওষুধ নামধারী শত্রুকে মাথা পেতে নেয়ার জন্য। ধন্যবাদ বিগত ৩৭ বছর ধরে যারা আমাদের এই আস্তাকুঁড়ে তিলে তিলে পৌঁছে দিয়েছে তাদের ঘৃণ্যবাদ দেয়ার জন্য।অসংখ্য ধন্যবাদ অবাস্তব অন্ন-বস্ত্রহীন জীবনে শুধুমাত্র শ্বেত সরস্বতীকে খারাপ না বাসার জন্য।
ইতি-আমি।
আমি কোনোটির জবাব দিইনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


