somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছায়া:|

১২ ই অক্টোবর, ২০১২ ভোর ৪:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাটার সময় আমার ছায়ার দিকে তাকালাম।একটা নয় দুইটা ছায়া আমার পেছনে হেটে আসছে। ভাল করে তাকালাম, কারন আমার পকেটে প্রাইভেটে পাওয়া টাকা। সামনের মাসের জন্য আমার ভাঙ্গা নৌকার ছেড়া পালের কাজ করবে। তাই এখন আমার পাশে দুইটা ছায়া অবশ্যই সন্দেহজনক। আমি আড়চোখে তাকালাম,সরাসরি তাকানো ঠিক হবে না। তাহলে ছায়ার মালিক কোন ছিনতাইকারী হলে আর রাখঢাক না রেখে পেটে এসে সরাসরি পেটে চাকু ধরে বলবে এই মাসের প্রাইভেটের টাকা দে। নাহ তার তো জানার কথা না যে আমি প্রাইভেট পড়াই। তবে বড় একটা ভুল হয়ে গেল। উচিত ছিল টাকাটা আন্ডারপ্যান্টের পকেটে রাখা। ছাত্রীর বাসায় যেয়ে বাথরূম কোথায়? জিজ্ঞাসা করা কি খুব অভদ্রতা হত? নাহ, এখন ভেবে কোন লাভ নেই। আসলে ভদ্রভাবে সব দিয়ে দেওয়াটাই ঠিক হবে। অবশ্য সব বলতে এই মাসের টাকাটাই আছে। আর শার্টের পকেটে একটা ছেড়া পাঁচ টাকার নোট আছে। একটু বেশিই ছেঁড়া। তিনটা দোকানে সিগারেট কেনার জন্য এই পাঁচ টাকা দিলাম দুই দোকানে বলল পাল্টায় দেন। আর এক দোকানদার সিগারেট টা ধরানোর ঠিক আগে বলল, খারান এই ট্যাকায় বিড়ি হইব না ,'হের থন এইডার মইদ্যে তামুক হান্দায়ে হোগা টানেন।' অপমানকর কথা। উচিত ছিল ভয়ংকর কিছু করা। না থাক আজ টাকাটা হাতে পেলে ওর দোকান থেকে এক প্যাকেট বেনসন কিনে দেখায় দেওয়া দরকার। কিন্তু হাইজ্যাকার যদি এখন সব নিয়ে যায় তবে জবাবটা আর দেওয়া হবে না। হাইজ্যাকারকে যদি বলি, ভাই এক প্যাকেট সিগারেট খাব কিছু টাকা দয়া করে দিবেন? নাহ সিগারেট খাওয়ার জন্য এরা টাকা দিবে না। এরা যে জিনিসটা ফেরত দেয়, মোবাইলের সিম। আমার মোবাইল নাই। এইটা শুনলে হয়ত তারা বিশ্বাস করবে না। চড়থাপ্পরও দিতে পারে। কিছু করার নেই। আমি পূর্ন দৃষ্টিতে ছায়া দুটোর দিকে তাকালাম। উহু, ফলস এলার্ম। দুইটাই আমার ছায়া। একটা রোডল্যাম্পের আলোতে আমার যান্ত্রিক ছায়া আরেকটা চাঁদের আলোয় আমার ছায়া। একটা সামনে লম্বালম্বি অনেক বড় আরেকটা আমার পাশে। টাকাটা যখন আমার কাছেই আছে মেছে যাওয়ার আগে বেশ কিছু জিনিস করতে হবে। হঠাৎ নাকে এসে একটা গন্ধ ধাক্কা মারল। তাকিয়ে দেখলাম বিরানি হাউজের সামনে দাঁড়ানো আমি। আমার পেটে বেশ জোরে মোচড় দিয়ে উঠল। কারন অবশ্য আছে। আজ ছাত্রীর আম্মু কিছু খেতে দেননি। প্রতিদিন দেন আজ দেননি। আমার পকেটের যে অবস্থা ছিল, আজ বেতন না দিলে আমাকে হয়ত বলতে হত,নাস্তা দিবেন না? তাদের অবশ্য জানার কথাও নয় যে তাদের প্রাইভেট টিউটর তাদের দেওয়া চানাচুর বিস্কিট আর চা দিয়ে ডিনার করেন। নাহ মাথা থেকে বিরিয়ানির গন্ধটা বের করতে হবে। কালকে মাকে হাজার তিন মানি অর্ডার করতে হবে। বাকি টাকা মেছভাড়া। অন্তত দুশটা টাকা হাতে রাখতে হবে। কাল ওকে নিয়ে একটু রিকশায় ঘুরাঘুরি করব। মাসে দুই তিনবারের বেশি ওকে নিয়ে বের হওয়া হয় না। ওর কেনাকাটার বাতিক খুবই বেশি। বড় বড় মল গুলোতে দোকানগুলোর দিকে যেভাবে তাকায়। ইচ্ছা হয় ব্যাগভর্তি টাকা এনে ওর হাতে দিয়ে বলি আজ এই ব্যাগের সবটাকার কেনাকাটা করবা। কোন জিনিস পছন্দ হলে যত খুশি হয় তার দামের ট্যাগের দিকে তাকিয়ে চুপসে যায়। ওহ আর একটা চটপটির দোকানও কিনতাম। একটা মানুষ ঝালে হাপাতে হাপাতে কিভাবে বলতে পারে মামা আরেক প্লেট দেন, এটা ভাল করে বোঝা দরকার। মেছের কাছে চলে আসছি হাবিজাবি ভাবতে ভাবতে। বাড়িওয়ালার ছেলেটা এখানে আড্ডা দেয়। ছেলেটা মেধাবি ছিল। যেকোন অঙ্ক তিন চার ভাবে করত। ইদানিং দেখি রাতের বেলাও ঘোরাফেরা করে। ওর আব্বাকে বলতে হবে ব্যাপারটা।
দাদা ভালো আছেন?
হ্যাঁ। তুমি ভালো?
হ্যাঁ। আমিও ভালো। বেশ ভালো।
ওর হাসিটা সুস্থ মানুষের হাসি না। সত্যি বলতে মানুষের হাসি না।
আমি নিজের অজান্তে পকেটে হাত দিলাম।
বিরিয়ানির গন্ধটা এখনও নাকে ধাক্কা দিচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ১২:১২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×