somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাছে আসার গল্প-২

১৪ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ৮:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশটা এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বয়ানের পথে। উদ্যোক্তার হচ্ছে তরুন-তরুনীসহ নারীরাও, স্বপ্ন তাদের এখন আকাশ ছোঁয়া, প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে বাংলাদেশ, তরুন-তরুনীদের অবসর সময়টুকুও এখন কাটে ফেইসবুক, টুইটারে, কবি, সাহিত্যিকরাও এখন আর কাগজে কলমে লেখেন না। হারিয়ে যেতে বসেছে চিঠি লেখার ঐতিস্যও, ছোটবেলায় এখন বাবার কাছে চিঠি লিখতাম মায়ের পাশে বসে তখন কতটুকুই না বাবাকে লিখতে চাইতাম। আর তখন একটি চিঠি আমার তিন পৃষ্ঠায়ও শেষ হতনা। এখন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমাদের সেই আনন্দটা হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন আর প্রেমিকার চিঠি বাড়িতে লুকিয়ে রাখার ঝামেলা নেই। সেটা থাকে এখন মোবাইলে বা কম্পিউটারে যা নিজে ছাড়া কারও দেখার জোঁ’নেই। তাই এখন আর ডাক পিয়নরা আসে না। ডাকঘরগুলো এখন জরাজীর্ন। প্রযুক্তির ভারে নুয়ে থাকা এই পৃথিবীতে হঠাৎ সাদমান ও রাকিবের ইচ্ছে হল একটু পিছনে ফিরে তাকানো। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিল তারা দুজন দু’জনের কাছে চিঠি লিখবে। সাদমান থাকে ঢাকায়। আর রাকিব বরিশালে। শুরু হল তাদের চিঠি লেখা। সাদমান চিঠি পাঠায় বরিশালে আর রাকিব ঢাকায়। এভাবেই চলতে লাগল কিছুদিন। একদিন হঠাৎ করে ফুটপাত দিয়ে হাটার সময় একটি মেয়ের আইডিকার্ড কুড়িয়ে পায়। সাদমান আইডি কার্ডটি নিয়ে কি করবে ?
কিভাবে পাঠাবে তাই নিয়ে শেয়ার করে বন্ধু রাকিবের সাথে, রাকিব বলল, এটা একটা চিঠি লিখে খামে ভরে পাঠিয়ে দে। সাদমান একটা নীল খামে ভরে সেই ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়। মেয়েটির আইডি কার্ডের ছবিটি ছিল অস্পষ্ট। কিছুদিন বাদে ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়েটিও সাদমানকে একটি চিঠি পাঠায় নীল খামে। সাদমান চিঠি পাঠানোর আরেকজন বন্ধুকে খুঁজে পেল। তাই সে আবারও চিঠি পাঠাল। আর মেয়েটিও তার চিঠির উত্তর দিতে থাকল। এক পর্যায় তাদের ভিতরে প্রেমের আকাশে ঘুড়ি উড়তে লাগল। কিন্তু কেউ কাউকে আজ পর্যন্ত দেখেনি। আর দেখবেওনা বলে সিদ্ধান্ত নিল। শুধু চিঠির প্রেমেই সীমাবদ্ধ থাক না।
এদিকে মেয়েটির বিয়ে ঠিক হল। বিয়ের কথা জানালও সাদমানকে। কিন্তু সাদমান ও মেয়েটি দু’জনেই খুব কষ্ট পেল। তবু তাদের সিদ্ধান্তেই তারা অটল রইল। তারা মেনে নিল তাদের অস্পর্দন প্রেমকে। এদিকে সাদমানও জানাল তারও বিয়ে ঠিক হয়েছে। দু’জনের প্রেম চিঠির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে শুরু করল নতুন জীবনের যাত্রা। দু’জনেই ঘর-সংসার নিয়ে ব্যস্ত। সুখেই কাটছে দু’জনের সংসার। বিয়ের পরে সাদমান সেই মেঘবাড়ি ছেড়ে বউ নিয়ে চলে গেল অন্য ঠিকানায়। আর সেই মেয়েটিও তার বাপের বাড়ি ছেড়ে চলে গেল শ্বশুর বাড়িতে কিন্তু তাদের দু’জনের বিয়ে হলেও চিঠি লেখা থামেনি। মেয়েটিও সাদমানকে চিঠি লিখতে থাকল। কিন্তু কোন উত্তর পাচ্ছিল না। এদিকে সাদমান চিঠি লিখতে থাকল মেয়েটিকে। সেও কোন উত্তর পাচ্ছিল না। দু’জনের উত্তর না পাওয়া চিঠিগুলো জমা হতে থাকল যার যার পূর্বের ঠিকানায়। এদিকে স্বামীর কাছ থেকে লুকিয়ে চিঠি লিখতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় মেয়েটি। তার স্বামী জেনে যায় মেয়েটির প্রেমিকার কথা। এ নিয়ে সন্দেহের বীজ ধীরে ধীরে চারাগাছে পরিণত হয়। সম্পর্কের ভাঙন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। প্রতিদিন শুরু হয় ঝগড়া দিয়ে শেষও হয় আফসোস দিয়ে। আর পারছেনা এভাবে দুই নৌকায় পা দিয়ে জীবন কাটাতে। তাই সিদ্ধান্ত নিল স্বামীর সাথে ডিভোর্সের। তার স্বামীও মেনে নিল তাই। চলে আসল বাপের বাড়িতে। বাপের বাড়িতে এসে দেখে অনেকগুলো চিঠি এসে জমা হয়েছে। সেই চিঠিগুলো পড়ে নতুন ঠিকানার কথা জানতে পারল সাদমানের। নতুন ঠিকানায় চিঠি লিখল মেয়েটি। কিন্তু সেখান থেকে সাদমান চলে আসল। তাই সে চিঠিটিও আর সাদমান পেল না। এদিকে সাদমানের সাথে তার মেস বাড়ির পুরনো বন্ধুর সাথে দেখা। সে সাদমানকে অনেক গুলো চিঠি এসে জমার কথা জানাল। সাদমান তার বন্ধুর কাছ থেকে চিঠিগুলো নিয়ে ঐ মেয়েটিরও নতুন ঠিকানায় চিঠি পাঠালো। কিন্তু মেয়েটিওতো তার পুরনো ঠিকানায় চলে আসছে। দু’জনেই কেউই চিঠি পেল না। আবার উত্তরের অপেক্ষায়ও রয়েছে দু’জন। এভাবেই কেটে গেল প্রায় ৬ মাস। এবার সাদমান সিদ্ধান্ত নিল সে নিজেই মেয়েটির কাছে স্ব-শরীরে চলে যাবে। আর এদিকে মেয়েটিও ঢাকায় সাদমানের মেস বাড়িতে খুঁজতে গেল। সেখানে গিয়ে মেয়েটি সাদমানকে পেল না। আর এদিকে সাদমান মেয়েটির বাড়িতে এসে দেখে তার নিজের ডিভোর্স হয়ে যাওয়া স্ত্রীর বাবা-মা সাদমান তাদের দেখে অবাক হয়ে যায়। সে তখন জানতে পারে সে তার নীল খামে বন্দী প্রেমিকাই ছিল তার স্ত্রী। তারপর সেখানেই অপেক্ষা করে তার স্ত্রী তার প্রেমিকার জন্য। দু’জনেই আবার কাছাকাছি চলে আসে।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ৮:৫৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট ও বিএনপি কি একে অপরের পরিপূরক?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৭


গ্যাস নাই ,বিদ্যুৎ নাই। নিত্যদিনের নানা সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। এভাবে মানুষ বিএনপিকে কতদিন সহ্য করবে? মানুষ সহ্য করতে করতে যখন ধর্যের বাধ সহ্যের বাধ ভেঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সরকারের কাছে সোলার এনার্জি বিক্রি করা কতটা লাভজনক?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭



যারা আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম ইন্সটল করবেন, তাঁদেরকে বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক ইউনিট ইলেক্ট্রিসিটির জন্যে ১০.৫০ টাকা করে দিবে। রুফটপে সোলার এনার্জি প্ল্যান্ট বসিয়ে লাভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পর্ক ও আত্মহত্যা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭



কাউকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা অথবা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে গুরুতর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মাধ্যমে কাউকে বিয়েতে বাধ্য করা। - বিশ্বের যে কোনো দেশের আইনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২ লাখ কর্মীর খবর ভুয়া - তবে ২৫ টা সাদা হাতি আসছে!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২



স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ কর্মী নেবে ।

আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×