somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘলা কে অমিতের চিঠি..............

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন হল ঢাকা এসেছি। প্রায়ই ইচ্ছে হয় একটি বার তোমাকে এক নজর দেখে আসি। কিন্তু পারিনা। ব্যস্ততা আমায় এমন ভাবে আকড়ে ধরেছে যে মাঝে মাঝে আমি যেন নিজেকেই ভুলে যাই। অনেক দিন ভেবেছি তোমায় লিখব। তারও আগে তোমার চিঠি পাওয়ার অভিলাষ মনে মনে পোষন করে রেখে ছিলাম অনেক দিন পর্যন্ত। অবশেষে যখন দেখলাম আমার আশা পূরণ হওয়ার নয়, তখন নিজেই বসে পড়লাম।

আজকের দিনটা কি অপূর্ব জান? মাটি ফাঁটা রৌদ্রময় এই দিনে একটু আগে এক পষরা বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে নয়, সতেজ প্রানবন্ত করে দিয়ে গেছে প্রকৃতিকে। রাস্তায় যে ক'টা গাছ দাড়েয়ে আছে, এই তো সকালেও ওগুলোর পল্লবে ছিল ধূলোর রাজত্ব। অথচ এখন তা কি সতেজ, নির্মল! আমাদের বাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গাটায় যে বেলী গাছটা প্রিয়তা এনে লাগিয়েছিল। ভিজে ভিজে সেটা একাকার। টবে এখনও জমে আছে পানি। কতগুলো কাক ঐ কৃষ্নচূড়া গাছে বসে মনের আনন্দে ভিজছিল। বিশ্বাস কর আজ তাদের কা-কা সরগোল একটুও খারাপ লাগেনি, বরং বলা যায় ........ আমি তা উপভোগ-ই করেছি। অনেক দিন পর একটা ভাললাগাময় বাতাস যেন ছুয়ে গেল আমার তনু- আমার অন্তর। তাই আজ শত ব্যস্ততাকে উপেক্ষা করেও ধরা দলাম আবেগের কাছে।

মেঘ, ভালবাসা কি, তুমি কি বলতে পার? তোমাকে দেখার আগে পৃথিবীটা যেমন ছিল এখনও তো ঠিক তেমনই আছে। তবে আমি কেন এত বদলে গেলাম? আগেও তো আমি প্রকৃতি দেখেছি, শিশির স্নাত সকাল দেখেছে, পৌষের কুয়াশা জড়ানো দিন দেখেছি, ফাল্গুনের শান্ত তটিনী দেখেছি, দেখেছি তাতে সাদা পালকের বলাকা, গোধূলীর রক্তিম সূ্র্য দেখেছি, দেখেছি শরতের সুনীল অম্বরে শুভ্র মেঘের ভেলা, হেমন্তের বিকেল দেখেছি, দেখেছি হলুদ আকাশের সন্ধ্যা......................

কতকিছুই তো দেখেছি! কই এগুলো তো আমার মনে কোন দিনই এমন করে দোলা দেয়নি? তবে এখন কেন এগুলো আমাকে এমন করে টানে! আগে এসব যেন আমি কেবল চোখ দিয়েই দেখতাম, এখন কেবল চোখই না হৃদয়ও তার সাথে যুক্ত হয়েছে। এসব যেন আমায় এখন খুব কাছে ডাকে, আমার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে থাকে। মাঝে মাঝে আমি যেন নিজের মধ্যে নিজেকে খুজে পাইনা। হৃদয়টা কখন যে উদাসীনতার কাছে ধরা দেয়, হারিয়ে যায় দূরের কোন হাত-ছানিতে বুঝতেই পারিনা।আমি তাকে ফিরিয়ে আনতে পারিনা......হয়ত চাইওনা। এভাবে থাকতেই যেন ভাল লাগে, আনন্দ পাই। প্রায়ই আমার চেতনার মাঝে অচেতনতারা এসে ভর করে। এলোমেলো করে দিয়ে যায় অনেক কিছু। আমি প্রায়ই বুঝতে পারিনা, আমি কি করছি, কেন করছি? তা কি সঠিক, অথবা ভুল?

তোমার মনে আছে.........? তুমি একদিন বলেছিলে_ "আমার সম্পর্কে তোমার যেসকল ধারনা জন্মেছে তার সবই নেগেটিভ"। বিশ্বাস কর ঐ নেগেটিভ ধারনাগুলোর জন্য আমার সজ্ঞান দায়ী নয়। আমি এখনও ভাবতে পারিনা আমার দ্বারা কি করে এমন অঘটন ঘটল। শরৎ- পাঠ করার পর মেয়েদের ব্যপারে আমার আগ্রহ জন্মালেও.......সারা জীবনই আমি তাদের এড়িয়ে চলেছি...........ভয় অথবা সংকোচে। তোমার কাছে এর অনেক কিছুই হয়ত বিশ্বাস যোগ্য নয়। কারন তুমি যে রুপে আমায় দেখেছ তাতে অবিশ্বাস করারই কথা। তবে আমার কোন কিছু বিশ্বাস কর আর নই কর শুধু এইটুকু কর যে- তোমারেই ভাসিয়াছে ভাল, তব জনম-ও-জনম।

আমি ভাল আছি কিনা জানিনা। তবে খুবই ব্যস্ত আছি। তুমি কেমন আছ_ বাড়ীর সবাই? এখনও কি খাওয়ায় অনিয়ম কর, study কেমন চলছে, ভিতু ছেলেটাকে ভেবে ভেবে রাত্রি জগরনের অভ্যাসটা কি এখনও সচল রেখেছ? কোন কিছুতে অনিয়ম করোনা। নিজের খেয়াল রেখো এবং আমার জন্য দোয়া করো।

ইতি,
তোমারই_
অমিত।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×