ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের আবাসন সমস্যা কমাতে ] বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে ছয় মাস আগে। ৯৫ জন ছাত্রী এখানে থাকতে পারবেন। শুধু গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও পয়ঃসুবিধা না থাকায় ভবনটি ব্যবহার করতে পারছেন না ছাত্রীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলেই আবাসন-সংকট প্রকট। পর্যাপ্ত আবাসনসুবিধা না থাকায় বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়। ভবনটি চালু হলে শতাধিক ছাত্রীর আবাসন সমস্যা দূর হতো।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সিকদার গ্রুপ বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের এই বর্ধিত ভবনটি তৈরি করে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জয়নুল সিকদার তাঁর স্ত্রীর নামে ভবনের নামকরণ করা হবে—এমন শর্তে অর্থ-সহায়তা দেন। শর্ত অনুযায়ী ভবনটির নামও রাখা হয়েছে ‘সিকদার মনোয়ারা ভবন’। ২০০৬ সালে ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে শেষ হয়েছে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু এরপর আর গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও পয়ঃসুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়নি সিকদার গ্রুপ।
চলতি মাসের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিকদার গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক করে ভবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার অনুরোধ জানায়। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার নিশ্চয়তা দিলেও আজ পর্যন্ত কাজ শুরু করেনি। ভবন নির্মাণ প্রকল্পের প্রধান ও সিকদার গ্রুপের প্রকৌশলী কামরুল হুদা এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো আলোচনার সিদ্ধান্ত আমাদের জানায়নি। এ ছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ পেতে দেরি হওয়ায় কাজ এগোচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।’
তিনতলা ভবনের নিচতলায় রয়েছে মিলনায়তন ও খাওয়ার ঘর। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আবাসিক শিক্ষক ও ছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা। সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের কোনো কক্ষে আসবাব নেই। ছাদ ও সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানিতে দেয়ালে এরই মধ্যে শ্যাওলা পড়ে গেছে। এসব দেখার জন্য লোকবলও নিয়োগ হয়নি।
কুয়েত মৈত্রী হলের একাধিক আবাসিক শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেছেন, ভবনটি চালু হলে আবাসিক সমস্যা কিছুটা হলেও কমবে। হলের প্রাধ্যক্ষ ফরিদা বেগম বলেন, পানি, বিদ্যুৎসংযোগ ও পয়োনিষ্কাশনের সমস্যা ছাড়াও ভবন এলাকায় প্রচুর আবর্জনা পড়ে আছে। এ ছাড়া আসবাব সরবরাহ করতে হবে।’ তিনি বলেন, এসব কাজ দ্রুত করতে সিকদার গ্রুপকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এ বিষয়ে বলেন, হলের কাজ সমাপ্ত করার দায়িত্ব সিকদার গ্রুপের। কাজ শেষ করতে সিকদার গ্রুপকে তাগাদা দিতে হল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে মোট শয্যা মাত্র ৩৭৮টি। সেখানে থাকছেন প্রায় দেড় হাজার ছাত্রী। হলে গণরুম আছে চারটি। চারজনের এসব কক্ষে থাকছেন ১৭ জন করে। এ কক্ষগুলোতে দেওয়া আছে দোতলা খাট। দুজনের জায়গায় একটি দোতলা খাটে থাকেন চারজন করে। এ ছাড়া মেঝেতেও থাকেন কয়েকজন করে। হলের প্রায় সব খাটেই থাকেন দুজন করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৩:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


