somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Adventure - নিঝুম দ্বীপ

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল নিঝুম দ্বীপ যাব, 20 ই ফেব্রুয়ারী 24 জন সহক র্মী নিয়ে রওনা দিলাম বিকাল ৫-৩০ এর টিপু ৫ লঞ্চ এ, যা আমাদের হাতিয়া পর্যন্ত নিয়ে যাবে। বিকাল ৩ টায় এলিফেন্ট রোড থেকে কিভাবে যে সদর -ঘাট গেলাম সে নিদারুণ কষ্ঠের কথা লিখব না কারন আমরা সবাই কম বেশী এ কষ্ঠের ভুক্তভুগি।টিপু-৫ এ উঠে মন টা খারাপ হয়ে গেল। আমি এর আগে বরিশালের লঞ্চ এ উঠেছি সে তুলনায় এটি খুব ই সাধারন মানের, আমরা সকাল ৮ টায় আমাদের দু জন কে পাঠিয়ে জায়গা দখল রেখে জায়গা পেয়েছিলাম, তা না হলে সবাই কে নিয়ে খোলা ছাদে এ যেতে হত। যারা আমাদের জন্য জায়গা রেখেছে ওদের অনেক ক ষ্ঠ হয়েছে কারন দুপুর ১২ – ১ টার পরপর ই লোকজন আসতে শুরু করে, যারা কেবিন এ যেতে চায় তাদের মিনিমাম এক মাস আগে বুকিং দিতে হয়। আমরা তাই কেবিন পাই নাই। টিপু ৫ লঞ্চ এ কেবিন খুব ই কম, ডেকও বড় না তাই নিজেদের পছন্দ এর জায়গা নিতে আমি সকাল ৮ টা বাজে লোক পাঠিয়ে ছিলাম।

লঞ্চ ছাড়ার পড় সব ভুলে গেলাম আড্ডায়, মুন্সিগঞ্জ ছেড়ে যাবার পড় পেলাম নদীর সাধ, আমাদের মাঝে এমন অনেক এ ছিল যারা আগে লঞ্চ এ চড়ে নি বা বড় নদী দেখেনি তারা খুব এঞ্জয় করেছে এ জারনি টা।

রাত ১০ টার পর সবাই কে নিয়ে খাবার খেতে গেলাম লঙ্কের কেন্টিন এ, আমাদের খাবারে ওর্ডার আগে ই দেয়া ছিল তাই মন মত খাবার পেলাম, দেখলাম অনেকে ই খাবার না পেয়ে যা আছে তা ই খেতে বাধ্য হচ্ছে।মুরগি , সবজি , ডাল , অসাধারন রান্না ।

খাবার শেষ করে আবার আড্ডা, গানে খেলায় সবাই মেতে উঠলো, রাত পার হয়ে ভোর তখন ই কেবল সাবাই ঘুমালো ঘন্টা দুয়েক। ভোর বেলা আমাদের ঘুম ভাংলো মনপুরা তে, এখানে লঞ্চ প্রায় খালি হয়ে গেল, আমরা ফ্রেশ হয়ে মনপুরাতে নামলাম, কারন এখানে লঞ্চ প্রায় ১ থেকে ১.৫ ঘন্টা থেমে থাকে । মনপুরাতে মষিশের দুধের চা খেলাম, অসাধারন সে চা। এর প্রায় ১ ঘন্টা পড় লঞ্চ তার শেষ ঘাট হাতিয়া তে পৌছলো। এর মাঝে আমরা খিছুরি আর ডিম দিয়ে সকালের নাস্তা সারলাম লঙ্কের কেন্টিন এ , লঞ্চ এর রান্নার ব্যাপারে আমার দারুন আস্তা জন্ম নিল ওরা আসলেই ভাল রান্না করে।

হাতিয়া থেকে নিঝুম দ্বীপ যেতে আমাদের টলার নিতে হবে। হাতিয়া থেকে টলারে নিঝুম দ্বীপ প্রায় ৩ ঘন্টার পথ। আমার ধারনা যারা নিঝুম দ্বীপ যাওয়া নিয়ে শংষয় এ থাকেন তারা সুধু এ ৩ ঘন্টার পথের জন্য ই যেতে পারেন না।টলারের বিকল্প ও আছে তা শেষের দিকে জানাব।

টলার বেশ বড় ছিল তাই দুলুনি ছাড়া আর কোন প্রব্লেম হয় নি। প্রচন্ড রোদ এ আমরা বেশ কষ্ঠ পেয়েছি। তাই ভেবে রেখেছি এরপ্ড় নিঝুম দ্বীপ গেলে টলারের ছাদে যেন তেরপাল থাকে তা অবশ্যই আগেই বলে নিব।

নিঝুম দ্বীপ এর ছোট খালটাতে যখন আমাদের টলার প্রবেশ করেছে নিঝুম দ্বীপ এর সৌন্দর্য সবাই কে গত তিন ঘন্টার কষ্ঠ ভুলিয়ে দিল। আমার আইডিয়া তে নিঝুম দ্বীপ সফর, আমি আগে কখন সেখানে যাইনি তাই আমার মনে অনেক সংশয় ছিল নিঝুম দ্বীপ কেমন হবে, ভাল লাগবে কিনা এ নিয়ে তাই সবচেয়ে খুশী মনে হ্য় আমি ছিলাম।

নিঝুম দ্বীপ এর নামা বাজারে দু থেকে তিন টি থাকার জায়গা আছে অবকাশের নিঝুম রিসোর্ট, বন বিভাগের ডাক বাংলো আর মসজিদ বডিং।আমরা মসজিদ বডিং আর নিঝুম রিসোর্ট এর দুটা ডরমিট্ররিয়াম আগে ই বুকিং দিয়েছিলাম, খাবার দাবার সব দায়ীত্ব অবকাশের ছিলো।কারন ওখানকার রেস্টুরেন্ট গুলর রান্না কেমন হবে জানতাম না, যা জানতাম তা হল রেস্টুরেন্ট গুলুতে মোটা চাউলের ভাত খেতে হবে। অবকাশের আমাদের ঠকায় নি ওদের রান্না ভাল আর খাবারের মান ও বেশ ভাল ছিল। আমরা দুপুরে খেলাম সবজি, ইলিশ মাছ, মোরগ ভুনা, ডাল দিয়ে।

একটু রেষ্ঠ নিয়ে আমরা গেলাম মেঘনা আর বঙ্গপো সাগরের মিলন দেখতে স্থানিয়রা এটা কে বলে বিচ। তারপর আমরা আমাদের মেইন মিশন এ নামলাম। হরিণের পাল দেখা। আমাদের গাইড বলছিল সন্ধার আগে আগে গেলে হরিণের দেখা পাবই পাব।সে অনুযায়ী আমরা একটু দেরি করে ই রওনা দিলাম চৌধুরি খাল এলাকাতে। চৌধুরি খাল নেমে ই আমরা এক কেওরা বনের ভিতর একটি হরিণের দেখা পেলাম।সে ছুটে বেড়াচ্ছে যেনো বাঘ আক্রমন করেছে।আমরা একটু পরেই টের পেলাম বাঘের চেয়ে ভয়ঙ্গর প্রানীর (মানুষ) দেখা পেয়ে সে দিক বেদিক ভুলে দৌড় দিয়েছে।গাইড আমদের বলল্লো এক জায়গা তে ঘাপ্টি মেরে বসে থাকতে…আমরা তাই করলাম...এর অনেক পরে আমরা টের পেলাম আজ কিছুতেই আর হরিনের দেখা মিলবে না কারণ আমাদের আগেই অনেক টুরিষ্ঠ ওখানে জঙ্গলের অনেক ভিতর এ দাবড়ে বেরাচ্ছে। সুতরাং আজ আর হরিণ ঘাস খেতে এ অঞ্চলে আসবে না।মন খারাপ করে বেশী পাকনা টুরিষ্ঠ দের গালমন্দ করে এ এলাকা টা ঘুরে দেখতে বের হলাম। চৌধুরি খাল সংলগ্ন এলাকা টি অনেক সুন্দর আর ক্যাম্পিং এর জন্য সর্গ-রাজ্জ্য।

মন খারাপ করে ফিরতই পথ ধরলাম, এরপর নামা-বাজারে চা আর আড্ডা এর ফাকে কেউ কেউ অতি কম দামে হরিণের সিং কিনে আনলো।রাতে ফিরে বারবিকিউ দিনার এরপর ছোট একটা পার্টি এবং যে যার বিছানায়। এ পর্যন্ত আমরা সবাই খুশি তখনও জানি না কি বিশাল একটা দিন আর কি দারুন এডভেনচার আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে………… (চলবে)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×