আজ খুব ব্যস্ত হাসান, অফিসে প্রচুর কাজ। অফিসের কাজে একটু বাইরে যেতে হচ্ছে ওকে। ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। এসে দেখলো, অফিসে বস বসে আছে, সাথে আমাদের এক ডিলার, যে নিয়মিত আমাদের এখানে কাজ করিয়ে থাকে।
ও একটু ফ্রেশ হয়ে ওর চেয়ারে গিয়ে বসলো, একটু পরে ডাক পড়লো বসের রুমে। বসের সামনে দাড়াতেই শুরু হলো কালবৈশাখী ঝড়। তোমরা অফিসে কি করো, খাও দাও আর ঘুরে বেড়াও, একটা চালান লিখতে তিনটা বানান ভুল। ও কিছুই বুঝে উঠতে পারলোনা, কেননা, আজ ও কোন চালান লেখেনি, আবার মুখ ফুটে বলতেও পারছেনা। কি করবে, ও বুঝে উঠতে পারছেনা, এভাবে কতক্ষন দাড়িয়ে থাকবে, নাকি চলে যাবে। অবশেষে বস বল্লেন, যাও! এভাবে দাড়িয়ে না থেকে ভাল করে কাজ করো।
ওর মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল, বুক ভেঙ্গে কাণ্ণা আসতে লাগলো। কিন্তু কান্নাও করা যাবেনা, কেউ দেখে ফেল্লে কি ভাববে। অবশেষে বাথরুমে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে নিজের টেবিলে চলে আসলো।
এভাবে কেটে গেল কয়েকটা দিন। আজ শুক্রবার অফিস বন্ধ থাকার কথা থাকলেও কাজ থাকার কারনে, অফিস করতে হচ্ছে। অফিসে ঢুকে ও লক্ষ্য করলো, বস এখনো আসেনি। ও কাজ করতে লাগলো। দুপুর একটার দিকে ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়ে খাওয়া-দাওয়া সেড়ে আবার কাজে মন দিলো।
বিকেল চারটার দিকে বস আসলো, হোন্ডায় করে। ও লক্ষ্য করলো, বসের হাতে একটা প্যাকেট। বস সরাসরি ওর রুমে এসে বল্লো, হাসান এটা তোমার জন্য। গরম আছে, তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও, ঠান্ডা হয়ে যাবে আবার। এটা বলে বস চলে গেলো।
ও প্যাকেট খুলে দেখলো তাতে দু'টা ভাপা আর দু'টা চিঠাই পিঠা রয়েছে, সাথে একটু ধনিয়া পাতা ভর্তা। ও দীর্ঘক্ষন প্যাকেটটার দিকে তাকিয়ে থাকলো, নির্বাক বোবার মত। ভেবে পাচ্ছেনা কি করবে। মনে মনে আজকের এই ব্যবহার আর সেদিনের ব্যবহারের সাথে মিল খুঁজতে লাগলো। আসলে মানুষটা এমন কেন? একটু হলেও আজ ও শান্তি পেলো, আচ্ছা, এটাকি ভালবাসা নাকি অন্য অন্যকিছু......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


