somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইডিয়েট ব্লগারদয় জায়নামাজ বলতে কি বুঝেছে? পশ্চিমা আর ইসরাইলদের সাথে শান্তির একমাত্র পথ হচ্ছে অস্র। এর বাইরে কিছু নাই।

০৭ ই এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৯৪ সালে ইউক্রেন রাশিয়ার সাথে চুক্তির টেবিলে বসেছিলো। সামনে ছিল একটি কাগজ আর ইউক্রেনের কাঁধে ছিল বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। তাদের বোঝানো হয়েছিলো যে দেখো! নিরাপত্তা অস্ত্রের ট্রিগারে নয় বরং কাগজে স্বাক্ষরে নিহিত। তারা অস্ত্র ছেড়ে দিল, পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার হস্তান্তর করলো। কাগজে স্বাক্ষর করে সবাই চলে গেলো। বহু বছর পর যখন ইউক্রেন সেই স্বাক্ষর খুঁজতে ফিরে এলো তখন আর কিছুই পেলো না — শুধু আক্রমণকারী সেনা। ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর আর বাষ্প হয়ে যাওয়া প্রতিশ্রুতিই মিললো।
আমেরিকা - যারা তখন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা(!) দিয়েছিলো তারা দাঁড়িয়ে রইলো দূর থেকে।

সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলো আবার সেই সহায়তাকে ব্যবহার করলো ইউক্রেনের অবশিষ্ট সম্পদের বিনিময়ে। যখন সেই সম্পদও শেষ হয়ে এলো তখন প্রেসিডেন্টকে ডেকে এনে গালি দিলো ট্রাম্প। যে শক্তি একসময় ইউক্রেনের ছিলো তা হয়ে গেল শুধুই অতীত স্মৃতি। আর সেই চুক্তি এখন কেবল রাজনীতিকদের গোপন কক্ষের রসিকতা।

কয়েক বছর আগে এরকম আরেকটি কক্ষে তালেবান প্রতিনিধিরা বসেছিলো আমেরিকানদের সাথে। একজন আমেরিকান তাদের অস্ত্র ফেলে দিতে বললো। জবাবে একজন তালেবান প্রতিনিধি হেসে বললেন: এই অস্ত্রই তো আপনাদের এখানে এনেছে। এটা না থাকলে তো আপনারা আমাদের দিকে ফিরেও তাকাতেন না। তাহলে আমরা এটা কেন ফেলব?

আজ দখলদার যা য়ো রাও একই কৌশল নিচ্ছে। তারা হা মা [স] কে বলছে: স্বাক্ষর করো। অস্ত্র ফেলে দাও। নতুন দুনিয়ায় প্রবেশ করো—যেখানে কোনো প্রতিরোধ নেই। কোনো শক্তি নেই। কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তারা বলছে শান্তি আসবে কেবল অস্ত্র ত্যাগের পর। নিরাপত্তা আসবে তখনই যখন ফিলিস্তিন তাদের একমাত্র আত্মরক্ষার উপায় ছেড়ে দেবে।
কিন্তু ইতিহাস নিজেকে ভুলে যায় না যখন সে নিজেকে পুনরাবৃত্ত করে।

যখন রেড ইন্ডিয়ানরা তাদের তরবারি ও ধনুক ফেলে দিয়েছিলো তখন এসেছিলো গণহত্যা যা তাদের প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিলো। যখন লিবিয়ানরা ইতালির প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করেছিলো তখন এসেছিলো ফাঁসি ও শিরচ্ছেদ। আর যখন আন্দালুসের নেতারা শহরের চাবি তুলে দিয়েছিলো তখন তারা পেয়েছিলো ইনকুইজিশন কোর্ট যা তাদের ছাইয়ে পরিণত করেছিলো।

যে হাত নিজের অস্ত্র ত্যাগ করে সে নিজের ভাগ্য লেখে না—তা তার শত্রুই লেখে। লাল কালি দিয়ে লেখে। আর হা [মা] স এই শিক্ষা ভালোভাবেই জানে। তারা জানে আজ যে অস্ত্র ফেলা হবে কাল তা তাদের দিকেই উঠবে। তারা জানে অস্ত্রত্যাগের চুক্তিতে স্বাক্ষর মানে আত্মসমর্পণের প্রশংসাপত্রে স্বাক্ষর। এ কারণে তারা ইসরাইল এবং পুরো পৃথিবীকে বলছে:

আমরা নতুন রেড ইন্ডিয়ান হবো না। আমরা আমাদের অস্ত্র ফেলে দিয়ে জবাইয়ের জন্য যাবো না। যে অস্ত্র সমীকরণ তৈরি করেছে সেটাই তা রক্ষা করবে। যে বন্দুক নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে তা ছলনায় ভুলে ফেলা যাবে না। আর এই অস্ত্র শুধু তখনই রাখা হবে যখন নতুন এক প্রজন্ম তা হাতে তুলে নেবে এবং পথ চলা চালিয়ে যাবে।
وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ تَغْفُلُونَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُم مَّيْلَةً وَاحِدَةً
অবিশ্বাসীরা কামনা করে যেন তোমরা তোমাদের অস্ত্র এবং মালপত্র থেকে গাফিল হও যাতে তারা তোমাদের ওপর হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ১১:৩৬
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×