বিএনপি কে আপন কে শত্রু এটাই চিহ্নিত করতে পারে না। আওয়ামীলীগ এ বিষয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণ। গত ১৫ বৎসর এন্টি আওয়ামীলীগ কাউকে ধার ঘেঁষতে দেয়নি। যদিওবা কেউ ঘেঁষতে সক্ষম হয়েছে তাঁকে ঘষে মেজে খাঁটি আওয়ামীলীগ বানিয়ে নিয়েছে।
কিন্তু বিএনপি আওয়ামীলীগের এই রীতি নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। বিএনপি এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। ক্ষমতার গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে চঞ্চল চৌধুরী শাইক সিরাজদের মতো আরো অনেকেই সক্রিয় হচ্ছে। বিএনপির এতে কোন মাথা ব্যাথা নেই। ভাবটা এমন বিএনপি উদারপন্থী একটা দল । বিএনপির দরজা খুলে দেয়া আছে। যারা আসতে চায় তাঁদের ওয়েলকাম জানানো হবে। চঞ্চল চৌধুরীগং এ সূযোগ কেন ছাড়বে।
৯১ থেকে ৯৬ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বেগম জিয়া ছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামীলীগ জামায়াত একজোট হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সারা দেশে আন্দোলন করছিল । ফলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার প্রয়োজনে ১৫ ফেব্রুয়ারী বেগম জিয়া কে একটি নির্বাচন করতে হয় । নির্বাচন যথারীতি সম্পন্ন হয় । বেগম জিয়ার নেতৃত্বে আবার বিএনপি সরকার গঠন করে। অবস্থাদৃষ্টে এই সরকার ৫ বৎসরের জন্য টিকে যেতো। সরকার গঠনের পর বেগম জিয়ার দূরদর্শীতা ও কঠোর অবস্থান আওয়ামীলীগ ও জামায়াতের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলন কে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিল ।
আওয়ামীলীগ এটা বুঝতে পেরেছিল বেগম জিয়ার সরকার আবারো ৫ বৎসরের জন্য টিকে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা তখন আন্দোলনের পথ ছেড়ে দিয়ে ভারতের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সচিবালয়ের কয়েকজন ডাকসাইটে সচিবকে টোপ দিয়ে জনতার মঞ্চে প্রকাশ্যে একটি নির্বাচিত সরকারকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে অসহযোগিতার বয়ান দেওয়ানো হলো। বেগম জিয়া প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের কয়েকজন সচিবের এ ধরনের অনৈতিক আচরণের কাছে হার মানতে বাধ্য হলো ।
সরকার নিরুপায় হয়েই পদত্যাগ করলো । ২০০১ সালে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসার পর দাবি উঠেছিল সচিব ম খা আলমগীর, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার । মূলতঃ এদের নেতৃত্বেই জনতার মঞ্চে প্রকাশ্যে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে সচিবরা অবস্থান নেয় । প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হয়ে একটা নির্বাচিত সরকারের পতন নিশ্চিতকারীদের বিরুদ্ধে সেদিন বিএনপি সরকার কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বরং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকার এদের কে পূনঃবাসনসহ বিভিন্ন সূযোগ সুবিধা দিয়ে লালন পালন করেছে। রাজনীতিতে শত্রু রাখতে নেই ।
এই নীতি যতদিন পর্যন্ত বিএনপি ধারন না করবে ততদিন পর্যন্ত বিএনপি জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে কিন্তু বিএনপির বিদায়টা হবে অত্যন্ত করূন এবং হৃদয়বিদারক।
আর কত লাশ চান আপনি বেগম খালেদা জিয়া?
২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এই শিরোনামে খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী-সহ আরও অনেকে একটা প্রতিবাদ জানায়ে আসছিল।
তারা শান্তির বার্তা হিসেবে তার বাসভবনের সামনে গোলাপ ফুল রেখে এসেছিল।
এগুলো কিন্তু কোনোটাই পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা গণহত্যা কিংবা ২০১৪ সালের লুটতরাজের নির্বাচন, অথবা র্যাবের খুন-গুম-ক্রসফায়ারের আগে না। যদিও তার সাথে সেইদিন খালেদা জিয়াকে আর কত লাশ চায় জানতে চাওয়াদের অনেকেই এখন পলাতক, জেলে বা নিশ্চুপ। চঞ্চল টিকে গেছে। শুধুই যে টিকে গেছে তা না, সে রীতিমতো ফণাও তুলতেছে!! তার মুভি সিনেমা হল তো বটেই, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির মাঠে মাঠে কেন দেখাইতে দেয় নাই বিবাড়িয়ায়, এ নিয়ে আজ সারাদিন মিডিয়াপাড়ায় মাতম!
সেই মাতমে চোখের পানি, নাকের পানি একাকার করে ফেলছে সুবোধ বাঙ্গালী।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

