somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিএনপি কেন বার বার মারা খায়? এবং এবারও কেন মারা খাবে?

৩১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিএনপি কে আপন কে শত্রু এটাই চিহ্নিত করতে পারে না। আওয়ামীলীগ এ বিষয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণ। গত ১৫ বৎসর এন্টি আওয়ামীলীগ কাউকে ধার ঘেঁষতে দেয়নি। যদিওবা কেউ ঘেঁষতে সক্ষম হয়েছে তাঁকে ঘষে মেজে খাঁটি আওয়ামীলীগ বানিয়ে নিয়েছে।

কিন্তু বিএনপি আওয়ামীলীগের এই রীতি নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। বিএনপি এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। ক্ষমতার গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে চঞ্চল চৌধুরী শাইক সিরাজদের মতো আরো অনেকেই সক্রিয় হচ্ছে। বিএনপির এতে কোন মাথা ব্যাথা নেই। ভাবটা এমন বিএনপি উদারপন্থী একটা দল । বিএনপির দরজা খুলে দেয়া আছে। যারা আসতে চায় তাঁদের ওয়েলকাম জানানো হবে। চঞ্চল চৌধুরীগং এ সূযোগ কেন ছাড়বে।

৯১ থেকে ৯৬ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বেগম জিয়া ছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামীলীগ জামায়াত একজোট হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সারা দেশে আন্দোলন করছিল । ফলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার প্রয়োজনে ১৫ ফেব্রুয়ারী বেগম জিয়া কে একটি নির্বাচন করতে হয় । নির্বাচন যথারীতি সম্পন্ন হয় । বেগম জিয়ার নেতৃত্বে আবার বিএনপি সরকার গঠন করে। অবস্থাদৃষ্টে এই সরকার ৫ বৎসরের জন্য টিকে যেতো। সরকার গঠনের পর বেগম জিয়ার দূরদর্শীতা ও কঠোর অবস্থান আওয়ামীলীগ ও জামায়াতের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলন কে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিল ।

আওয়ামীলীগ এটা বুঝতে পেরেছিল বেগম জিয়ার সরকার আবারো ৫ বৎসরের জন্য টিকে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা তখন আন্দোলনের পথ ছেড়ে দিয়ে ভারতের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সচিবালয়ের কয়েকজন ডাকসাইটে সচিবকে টোপ দিয়ে জনতার মঞ্চে প্রকাশ্যে একটি নির্বাচিত সরকারকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে অসহযোগিতার বয়ান দেওয়ানো হলো। বেগম জিয়া প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের কয়েকজন সচিবের এ ধরনের অনৈতিক আচরণের কাছে হার মানতে বাধ্য হলো ।

সরকার নিরুপায় হয়েই পদত্যাগ করলো । ২০০১ সালে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসার পর দাবি উঠেছিল সচিব ম খা আলমগীর, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার । মূলতঃ এদের নেতৃত্বেই জনতার মঞ্চে প্রকাশ্যে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে সচিবরা অবস্থান নেয় । প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হয়ে একটা নির্বাচিত সরকারের পতন নিশ্চিতকারীদের বিরুদ্ধে সেদিন বিএনপি সরকার কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বরং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকার এদের কে পূনঃবাসনসহ বিভিন্ন সূযোগ সুবিধা দিয়ে লালন পালন করেছে। রাজনীতিতে শত্রু রাখতে নেই ।

এই নীতি যতদিন পর্যন্ত বিএনপি ধারন না করবে ততদিন পর্যন্ত বিএনপি জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে কিন্তু বিএনপির বিদায়টা হবে অত্যন্ত করূন এবং হৃদয়বিদারক।

আর কত লাশ চান আপনি বেগম খালেদা জিয়া?
২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এই শিরোনামে খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী-সহ আরও অনেকে একটা প্রতিবাদ জানায়ে আসছিল।
তারা শান্তির বার্তা হিসেবে তার বাসভবনের সামনে গোলাপ ফুল রেখে এসেছিল।
এগুলো কিন্তু কোনোটাই পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা গণহত্যা কিংবা ২০১৪ সালের লুটতরাজের নির্বাচন, অথবা র‍্যাবের খুন-গুম-ক্রসফায়ারের আগে না। যদিও তার সাথে সেইদিন খালেদা জিয়াকে আর কত লাশ চায় জানতে চাওয়াদের অনেকেই এখন পলাতক, জেলে বা নিশ্চুপ। চঞ্চল টিকে গেছে। শুধুই যে টিকে গেছে তা না, সে রীতিমতো ফণাও তুলতেছে!! তার মুভি সিনেমা হল তো বটেই, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির মাঠে মাঠে কেন দেখাইতে দেয় নাই বিবাড়িয়ায়, এ নিয়ে আজ সারাদিন মিডিয়াপাড়ায় মাতম!
সেই মাতমে চোখের পানি, নাকের পানি একাকার করে ফেলছে সুবোধ বাঙ্গালী।


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৯
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলা ববি হাজ্জাজের মূর্খতা নাকি অহংকার?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ৩০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন "নর্থ সাউথ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় যা গবেষণা করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০


গত রোজার ঈদে বাংলাদেশে একটা সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল, নাম "বনলতা এক্সপ্রেস"। হুমায়ূন আহমেদের "কিছুক্ষণ" উপন্যাস অবলম্বনে বানানো, মোশাররফ করিম আর চঞ্চল চৌধুরীর মতো মানুষরা অভিনয় করেছেন। সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লটারি: শার্লি জ্যাকসন

লিখেছেন নিবারণ, ৩০ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫১

২৭ জুনের সকালটা ছিল একদম পরিষ্কার আর ঝলমলে। ভর গ্রীষ্মের এক সতেজ ওম চারদিকে; ফুলের দল ফুটে আছে থোকায় থোকায়, আর ঘাসগুলো একেবারে গাঢ় সবুজ। সকাল দশটা নাগাদ গ্রামের লোকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা'র আন্তর্জাতিক খেলা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:৫২



শেখ হাসিনা- একটি নাম, একটি ইতিহাস। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন খুব কম নেতাই আছেন, যাদের নাম উচ্চারিত হলে সমর্থন ও বিরোধিতা- উভয়ই এত প্রবলভাবে সামনে আসে। দীর্ঘ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

চামড়ার দাম নেই, কিন্তু চামড়ার জুতার দাম আকাশচুম্বী- এই রহস্যের নাম কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ৩১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

চামড়ার দাম নেই, কিন্তু চামড়ার জুতার দাম আকাশচুম্বী- এই রহস্যের নাম কী?

কোরবানির ঈদ এলেই বলা হয়- "চামড়া জাতীয় সম্পদ, চামড়া দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত, চামড়া রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×