গাঢ় নীল অন্ধকারকে এখন আমি অভিসম্পাত দিই । যদিয়ো অন্ধকাররে সাথে বিরোধ ছিলো না কোনদিন। বিরোধ ছিলোনা নিজের সঙ্গে। অন্ধকার উৎসবে একদনি অনিবার্য ইতিহাস টেনেছিড়ে উজ্জ্বল পাপের প্রাচীরে গেঁথে দিয়েছিলাম। ইশারায় ইশারায় বহুদনি শাফি সমুদ্রকে শুনিয়েছিলাম উজ্জিবীত পরাজয়ের নির্মম সঙ্গীত। স্বর্ণের মত দ্যুতিময় সকালে জন্মরে কলঙ্কদাগ মুছে দুঃখবাড়ী থেকে বেরিয়েছি শাফি সমুদ্রের উদ্দেশ্যে। আমার অনেকদিনের আপন সত্তা। একবার পাখি হত্যার দিনে তার সাথে পরিচয়। পাখি ওর দুপুরের বন্ধু। দুপুরের খাবার টেবিলের সঙ্গি। জেগে ওঠার দিন থেকে পাখিগুলোকে ও খুব বেশি ভালোবাসে । পাখি সে তো আমার পরম শত্রু শত্রু খেলার অনুষঙ্গ। তবে কাহিনীটা বেশি দূরের নয়। খুব কাছের। যেমনটি কাছে থাকে জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুভূতি।
তাহলে কি জীবন আমাদের থেকে খুব দুরে? জীবন ও মৃত্যুর মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে কে? বন্ধু না শত্রু? আমাদরে জানা হয়নি কিছূই। বেঁচে থাকার কি কোন নাম আছ?শ্রেণী? হয়ত নেই, হয়তোআছে। নারী ও বৃক্ষের মত নির্বিকার চেয়ে থাকার নাম কি জীবন? কিংবা মৃত্যু মানেইকি আজন্ম শৈশব ঘিরে অনশ্চিয়তার দিকে হেঁটে যাওয়া? একদিন এসব প্রশ্ন রাখতে চেয়েছিলাম ঈশ্বররে পবিত্র করকমলে। কিন্তু ঈশ্বর! তিনি তো আমাকে নির্মাণ করেন নি। নির্মাণ করেছিলেন যীশুকে। যীশু, সে তো ভেড়ার পালের রাখাল। জনাব ঈশ্বর আপনিয়ো আমাকে শূকরের রাখাল বানিয়ে খেলতে পারতেন।
সমস্ত গ্রীষ্মকাল র্দীঘ সমতলভূমি জুড়ে নিরূপায় পাখিদের মত আমাকে শুধু ভাসালে দিগন্তে। দিগন্ত, যার কোন চূড়া নেই, দূর দূর সীমানায় চোখ ক্লান্ত হয়ে আসে। চোখেরও বিশ্বাস থাকে। যীশুয়ো চোখে খুঁজছিলেন বিশ্বাস। সুহৃদ অতিথি হয়ে একবার তিনি শাফি সমুদ্রের সাথে রাত্রি যাপন করেছিলেন। নির্বিকার রাতে হঠাৎ র্স্পধতি স্লোগানে তাকে শেখালেন পাখিবিদ্যা। পাখিমন্ত্র। আর আমি শিখেছি পাখি হত্যার নানান কলা-কানুন। ব্যাক্তিগত দূরত্বে নিজেই নিজের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। কেন? উত্তর সহজ-জানি না। জানতেও চাইনি কখনো। কিন্তু কেন এমন হল। কেনইবা এমন হয়। মানুষেরা কি মানুষের থেকে দূরে সরে যায় এভাবেই? ভবদহের মানুষেরা কি নিজের কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখে? জলা থেকে নৌকা লুকিয়ে রাখে? কবি ও প্রেমিকের নিস:সঙ্গতায় জলচ্ছ্বাসে নাচে না নৌকো? কেন? উত্তর তাহলে জানা হোক নিরাপরাধ জীবনবোধ। অকারণে প্রেমিকের মুখে বয়ে যাওয়া আশ্চর্য সর্বনাশ। যিনি জেগে আছেন সমস্ত আকাশ ও সুললিত অহঙ্কার বুকে নিয়ে। দীঘির জলে চাঁদের ডুব সাঁতার অথবা রূপালি আলোয় মাছের সঙ্গে স্বপ্নে বিষণ্ন অভিমান নিয়ে যে যুবক খেলা করে আমরা তার নাম বলতে পারি না। কেননা তিনিই একবার পাখির পালকে খোদাই করে লিখেছিলেন তার নাম। তারপর সেই পাখিটা উজাড় উড়াল দিলো আমাদের দৃষ্টিসীমার অনেক বাইরে। আর প্রেমিক সে পাখির খোঁজেই নিজেকে গোপন রেখেছেন নিজের থেকে। একদিন কাজী টিটোই আমাকে জানিয়েছিলো পাখি শিকার করতে হলে আগে পাখির চরিত্র কিংবা ভাষা জানা প্রত্যেক শিকারীর প্রথম শর্ত। তবে উড়ে যাওয়া পাখি নাকি একজন নারীরূপে পৃথিবীতে এসেছিলো। যার স্তন পান করে সে প্রেমিক যুবক তার সর্বস্ব খুঁইয়েছিলো। নারীর স্তনপানে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকার বিশ্বাস পেয়েছিলো রূপান্তরিত নারীর কাছ থেকে। আর চিরকাল এমন প্রেমে আচ্ছন্ন থাকবে যে দুঃখের সর্বনাম তাকে কোনদিনই স্পর্শ করবে না। দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো মুখস্তবিদ্যার মত পাঠ করেছিলো বিনম্র সখ্যতায়।
আহা! এ কেমন মাতাল স্পর্শ। ব্যথার দিনে গ্রাসের ছাই উড়ে যায় ভাঙনের ভিতরে; কোন গভীর আলো গতিপথ ভিজিয়ে পাপের বড়শীতে গাঁথে জারজ সন্ধ্যা। আবেগ মিশ্রিত অস্থির আঙুলে সামরিক ইশারায় ভাঙে প্রেম। পরস্পর ভুল জানে নিঃসঙ্গ মাছের ভিতরে। কেঁপে ওঠে গোপন গীঁট খুলে। অসংখ্য নির্জনতা স্পর্শ হয় দেহের বাকলে। শরীরের কী অসম্ভব উত্তাপ। বিষঘর মোহন অন্দর পুষেছে নিরাপদ দেয়াশলাই। বিচ্ছিন্ন গোত্র ভেঙে কামুক ঠোঁটে বসিয়ে দিলো তৃতীয় বিশ্বের খণ্ডচিত্র। ঘুমের ভিতরে অসম্ভব প্রস্তুতি শরীরের মধ্যে ঢুকে যায়। আর অন্ধের মত সমস্ত সুখ বিছানায় সারারাত খেলা করে। নানান রকমের খেলা। এপাশ ওপাশ। কুমারীপাখি পিরিতের খাটে ধান ভানে। খটখট খটকট।
প্রতি সন্ধ্যেবেলায় যুবক প্রসারিত করে রাখে তার নিঃসঙ্গতা।
আর রূপান্তরিত নারী কান্নার শব্দে বুকের ঝাঁপি খুলে দেয়।
বুকের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে অজস্র যন্ত্রণার লোনা জল।
জলতরঙ্গের খেলায়-নেশায় মাতাল হতে থাকে যুবক।
যুবক? তাকে কি আমি চিনে থাকবো? প্রশ্ন থাকে।
প্রশ্ন থাকতে থাকতে ঘুম ভেঙে যায়। উত্তর মেলে না। অজস্র স্বপ্ন। অজস্র প্রশ্ন। অজস্র ঘুম আমাকে শ্রেণীবদ্ধ সঙগ্রামের দিকে নিয়ে যায়। সঙগ্রাম? কিসের সঙগ্রাম। নিজের সঙ্গে নিজের সঙগ্রাম। যুদ্ধ। অবিরাম যুদ্ধ। দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্নের সাথে যুদ্ধ। খোলস ভেঙে বেরিয়ে আসার স্বপ্ন। উপলব্ধির ইতিহাস ভেঙে গড়ে ওঠে বিচ্ছুরিত বিষ্ময়, বৃক্ষবাসি পাখি সঙ্গীতে বঙ্শের চিহ্ন থেকে যায় ঘুমের ভিতরে। ইতিহাস? ইতিহাস আমাকে টানে না। ছুড়ে ফেলে দেয়। ছুঁড়ে ফেলে অসম্ভবের দিকে। পৃথিবীর নোঙরামীকে থু দিই। ওয়াক থু। বরঙ এর চেয়ে আরো ভালো ঘুমিয়ে থাকা।
আবার ঘুমোতে যাই। ঘুম কি আমাকে ডাকবে? হয়তো আবার ডাকবে। হয়তো ডাকবেনা। তবু আমাকে ঘুমোতেই হবে। আয় ঘুম। আয় ঘুম। ঘুম... ঘুম... ঘুম...। আসুন আমরা সকলেই এবার ঘুমোতে যাই। পৃথিবী নির্মল থাকুক। শান্তিতে থাকুক। ওঁম শান্তি। ওঁম শান্তি। ওঁম শান্তি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


