somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাণিজ্যে বসিত: পহেলা বৈশাখের একি দুর্গতি

১৫ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মফস্বল থেকে পাকাপাকিভাবে ঢাকায় আসা ১৯৯৯ সালে। পরের বছরই পহেলা বৈশাখ- বন্ধুদের সেকি প্রস্তুতি! কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম ছুটি আমাকে পাঠিয়ে দিলো খুলনায় মায়ের কাছে। পরের বছর কিছুটা থিতু হলাম। নাড়ীর প্রতি টান ছিলো, কিন্তু রমনায় ছায়ানটের অনুষ্ঠান আর চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা টানছিলো ভীষণভাবে। খুব কাছ থেকেই দেখলাম মৃত্যুকে। বোমা হামলায় ঝরে গেলো ১০টি প্রাণ। যার বিচার হয়নি এখনো।
এরপর প্রতি বছরই পহেলা বৈশাখে মেতে উঠেছি প্রাণের উৎসবে। কিন্তু চেষ্টা করেছি ভীড় থেকে দূরে থাকতে। মৃত্যুকে যে কাছ থেকে দেখে সেই জানে মৃত্যু ভয় কি জিনিস। বছরখানেক হলো ফটোগ্রাফির নেশায় পেয়েছে আমাকে। সেই থেকে আবারো ভীড়ভাট্টায় মিশে যাওয়া। গত বছরো তুলেছি অনেক ছবি। তবে তা ছিলো শুধুই রাজু ভাস্কের্যর পাশে স্থাপিত বিশাল জেনারেটরের ওপর থেকে তোলা। এবার ছবি তুললাম আরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে। অনেক জায়গায় ঘুরে ঘুরে।
কিন্তু প্রায় প্রতিটি স্থানেই ছবি তুলতে গিয়ে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। শোভায়যাত্রায় ঠাই পাওয়া বিশালাকৃতির কুমির, কিংবা কাকাতুয়া, বাঘের মুখের প্রতিচ্ছবি অথবা প্রাণোচ্ছল মানুষের প্রতিকৃতি তুলবো না কি যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন তুলবো? ছবি তুলতে গেলেই অবধারিতভাবে ফ্রেমের মধ্যে ঢুকে পড়বে হয় কোনো পণ্যের পোস্টার, নয়তো সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্যের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি পেশাদার কিংবা শৌখিন ফটোগ্রাফারদের ভালো এককিট ছবি নষ্ট করার কাজটিও বোধকরি কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি হিসেবেই নিয়েছে। কেউ থাকছেন কাছে, কেউ জ্বালিয়ে দিচ্ছেন আপন শক্তিতে কেউবা বেছে বেছে খুঁজে বের করছেন দিন বদলের চেষ্টাগুলোকে। কিন্তু ব্যবসার আড়ালে তারা আসলে বদলে দিচ্ছেন আমাদের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি পালনের চিরচেনা সেই ধারা, হাজার বছরের আঙ্গিক।
ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গায় এখন কাকচক্ষু জল। তবে সে জলে কেবলই বিষ। নদী থেকে অনেকটা খালে অবনমন হয়েছে তুরাগ, বালুর। শীতলক্ষ্যারো একই অবস্থা। মুঠোফোন সেবা দেয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান তাই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনলো ধানমন্ডি লেকে। নদী দখল আর দূষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে ধরলে এই উদ্যোগে সাধুবাদ জানাতেই হয় বৈকি। অন্যভাবে ভাবলে, ইট পাথরের আধুনিক এই শহরে এই প্রথম নৌকাবাইচ দেখলো নগরের মানুষ। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো স্বচক্ষে দেখলো প্রথমবারের মতো। দেখে চোখও জুড়ালো তারা। কিন্তু ফটোগ্রাফারেরর চোখ আর জুড়ায় না। কারণ যেখানে লেন্স তাক করি, সেখানেই কেবল বাংলালিংক। মনে প্রশ্ন জাগে, নগরে ঐতিহ্যের প্রদর্শন না কি পণ্যের বিজ্ঞাপন? আমি ভালোভাবে ছবি তুলতে পারেনি, তাই হয়তো অনেকেই ভাববেন ব্যক্তিগত কষ্ট কিংবা ক্ষোভ থেকে বিষয়টিকে বিচার করছি। এমন কেউ ভাবলে তাতে দোষ দেবো না খুব একটা। কিন্তু একবার ভাবুনতো, হাজার বছরেরর ঐতিহ্য আর কৃষ্টিকে পৃষ্টপোশকতা দিতে গিয়ে মুফতে কত বড় প্রচারণা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো?
অমুক কোম্পানি, তমুক কোম্পনির লোগো আর শুভ নববর্ষ লেখা কাগুজে পাখা বিকোতে দেখলাম দেদারছে। হাতে হাতে শোভা পাওয়া এই কাগুজে হাত পাখাগুলো কিক্রি হয়েছে পাঁচ থেকে দশ টাকায়। অথচ তাল পাখা নিয়ে বসে থাকা দোকানীর অধিকাংশকেই দেখলাম সারা দিন কেবল নিজের পাখাতে বাতাস করতে। যে কয়টি পাখা নিয়ে বসেছিলেন তারা, তার প্রায় সবগুলোই নিয়েই সন্ধ্যা বেলা ঘরে ফিরতে হয়েছে তাদের। হাত পাখার ব্যবসাতেও কর্পোরেট থাবাটা দেখলাম ভালোই পড়েছে।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×