
নেতৃত্বহীন তালেবান কার্যত অচল গেল চারদিন । প্রথমদিন ব্যাংকে ঢুকে তালেবান মহিলা ব্যাঙ্ক কর্মীদের কাল থেকে কাজে না আসার নির্দেশ দিল । একদিন বাদেই ঘোষণা এল সকল নারী পর্দা করে অফিস আদালতে আসবে । কাবুলের মহিলা মেয়র কার্যত প্রস্তুত ছিলেন মৃত্যুর জন্য । অনেক অনুরোধে তিনি পালাননি । কাবুল এয়ারপোর্ট খুলে দিয়েছে । এর আগে মানুষের হুড়োহুড়িতে রানওয়ে কার্যত অচল ছিল । একটি প্লেন উড়ে যাবার সময় চাকা ধরে বসে থাকা দুজন পড়ে গেল মাটিতে । হাজার মানুষ ভিড় করেছে কাবুল এয়ারপোর্টে । একটি পন্যবাহি বিমানে ৬৪০ জন ফ্লোরে বসে পালিয়ে গেল । সিট নেই বেল্ট নেই , তারা কেমন আছে জানার উপায় নেই । বুরকার দাম চড়া । সেলুন ওয়ালাদের মাথায় বাড়ি , কোন শেভ টেভ চলবে না । একমাত্র তালেবান অফিসিয়াল বার্তা পাঠক তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, সাবেক আফগান সরকারের হয়ে কাজ করত বলে কাউকে হেনস্থা করা যাবে না। আজ সকালে সদর রাস্তায় চার বুরকা পরা মহিলা চারটি কাগজে হাতে লেখা কিছু ধরে ছিল । জানা যায়নি কি লেখা ছিল তাতে । তালেবান সদস্যরা মহিলাদের বরং সুবিধাই করে দিচ্ছিল যাতে তারা সবাইকে দেখাতে পারে । গেল চারদিন কোন সরকার আসেনি বা তালেবান ঘোষণাও করেনি কে হচ্ছে আফগানিস্তানের নতুন শাসক বা আমির অথবা আমিরুল মুমেনিন । এদিকে আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে তাদের কর্মস্থলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে তালেবান। কাতারের দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক দপ্তরের উপপ্রধান আব্দুস সালাম হানাফি সোমবার (১৬ আগস্ট) বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদেশি কূটনীতিক ও সেনাবাহিনীর সদস্যসহ সরকারি কাজে নিয়োজিত সব চাকরিজীবী কোনো ধরনের শঙ্কা ছাড়াই নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যান।এমনকি তিনি নারী চাকরিজীবীদেরও কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। হানাফি বলেন, কারো প্রতি অবিচার করা হবে না এবং নারীরা তাদের হিজাব রক্ষা করে কর্মস্থলসহ সব কাজ স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে পারবেন।
তালেবানের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা নারীদের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবেন।মুখপাত্রটি বলেন, নারীদেরকে একা বাড়ির বাইরে যেতে দেয়া হবে, এবং তাদের শিক্ষা ও কাজের সুযোগও বহাল থাকবে। প্রথম ঘোষণা ছিল একা নয় যে কোন আত্মীয় পুরুষ সঙ্গী সাথে থাকলেই হবে ।
অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে কাবুল দখলের প্রস্তুতি একদমই ছিল না তালেবানদের । পালিয়ে যাওয়া প্রেসিডেনট গনি এই সুযোগ করে দিয়ে গেছেন । যাবার আগে স্টেট ব্যাঙ্কের সব ডলার চারটি গাড়িতে ভরে তাজিকিস্তানে পালিয়ে গেছেন । তালেবান কার্যত বেকায়দায় , কার কাছ থেকে ক্ষমতা নেবেন তারা । মনে হচ্ছে দোহা'ই তালেবানদের প্রবাসী রাজধানী ।
জবিউল্লাহ মুজাহিদ যা বলেছেনঃতালেবান সরকার গঠনের লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। “সব পক্ষ, সব গোষ্ঠী, সবার অন্তর্ভুক্তি আমরা নিশ্চিত করব, কাজ সম্পূর্ণ হলে আমরা সরকার ঘোষণা করব,” বলেছেন মি. মুজাহিদ।
তিনি বলেছেন, “নারীরা আমাদের সমাজে খুবই সক্রিয় ভূমিকা রাখবে” এবং তারা বাইরে কাজ করতে পারবে, সেটা হবে “আমাদের শরিয়া আইনের কাঠামোর মধ্যে,”। তিনি সেই কাজের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু ব্যাখ্যা করেননি।
যেসব চুক্তি-ভিত্তিক কর্মী বা দোভাষী বিদেশিদের হয়ে কাজ করেছিল, তাদের ভবিষ্যত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মি. মুজাহিদ বলেছেন “কারোর বিরুদ্ধে কোনরকম প্রতিশোধ নেয়া হবে না” এবং তালেবান “আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা ও শান্তির কথা মাথায় রেখে সবাইকে ক্ষমা করেছে।”
তিনি বলেন তালেবান সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাকে সম্মান প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এবং অঙ্গীকার করেছে “বেসরকারি মিডিয়া স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে।”
কিন্তু মি. মুজাহিদ সতর্ক করে দিয়েছেন যে “মিডিয়া আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারবে না।”
তালেবান শাসনের অধীনে আফগানিস্তান আল-কায়দা বা অন্য চরমপন্থী যোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠবে কিনা- এই ঝুঁকি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মি. মুজাহিদ বলেছেন যে “আফগানিস্তানের মাটি কারোর বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।”
তিনি আরও দাবি করেন যে তালেবান তাদের অগ্রযাত্রা “কাবুলের প্রবেশ দ্বারগুলোতে এসে থামানোর পরিকল্পনা করেছিল, যাতে ক্ষমতার হস্তান্তর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হতে পারে,” কিন্তু তিনি বলেন পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়ায় “শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে” তারা কাবুলে ঢুকতে বাধ্য হন।
মনে হচ্ছে ক্ষমতার রুটি ভাগাভাগির প্রক্রিয়া চলছে ।
তালেবানের রাজনৈতিক দপ্তরের প্রধান মোল্লা বারাদার তালেবান শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আফগানিস্তানের কান্দাহারে পৌঁছেছেন।
মি. বারাদার তালেবানের সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতাদের একজন।তারা কোথা থেকে সেখানে পৌছেছে তা স্পষ্ট জানা যায়নি। তবে বেশিরভাগ নেতাই কাতারের দোহায় ছিলেন এবং মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর দেশ শাসনের রূপরেখা নিয়ে আমেরিকানদের সাথে আলোচনা করছিলেন।
এই সেই বারাদার যে মোল্লাহ ওমরকে মোটর সাইকেলের পেছনে বসিয়ে পালাচ্ছিল । বারাদারের বিদেশী সম্পর্ক খুব শক্ত । অন্যদিকে ওমরের ৩০ বছর পুত্র ইয়াকুব সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছে । রাষ্ট্র শাসনে তার নামও শোনা যাচ্ছে । আকুঞ্জাদা তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা , ডেপুটি হচ্ছেন বারাদার , ইয়াকুব আর হাক্কানি ।
আমরা অপেক্ষায় কারা আফগানিস্তান শাসনে আসছেন ।
লেটেসট - জালালাবাদে তালিবানরা তাদের কলেমা খচিত পতাকা উড়ালে স্থানীয়রা ক্ষেপে গিয়ে আফগানের আগের পতাকা ওড়ায় । এ নিয়ে দুই পক্ষের তুমুল গোলমালে তালিবানের গুলিতে দুজন নিহত আজ বিকালে । জালালাবাদিরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে ।










সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ১০:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


