
"ভারাক্রান্ত মনে অনেক আশা নিয়ে আপনাদের চিঠি লিখছি। কয়েক শত শিশুকে ওরা অপহরণ করেছে। বিয়ের বাজারে ছোট ছোট মেয়েদের বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের সুন্দর দেশটাকে,দেশের মানুষকে এবং শিল্প সচেতন মানুষকে তালিবানের হাত থেকে বাঁচান। আফগানিস্তানে মানবাধিকার সঙ্কট দেখা দিয়েছে কিন্তু নীরব গোটা দুনিয়া। আমরা এই নীরবতায় অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছি। কিন্তু এভাবে আমাদের একা ফেলে রেখে চলে যাওয়াটা অন্যায়। গত ২০ বছরে আমরা যা কিছু অর্জন করেছি,সব ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। আমি এবং আমার মতো শিল্প সচেতন মানুষ এখন ওদের হিটলিস্টে ।
তালিবান শাসনের সময় স্কুলে ছাত্রীদের সংখ্যা ছিল শূন্য। গত কয়েক বছরে সব স্কুলে মেয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ লক্ষে। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর হেরাটের স্কুলগুলিতে মোট পড়ুয়ার ৫০ শতাংশই মেয়ে। কত পরিশ্রমের পর এই কৃতিত্ব অর্জন করেছি আমরা, তা কিন্তু জানে না বিশ্ব। ইতিমধ্যেই ২০ লক্ষ মেয়েকে স্কুল ছাড়তে বাধ্য করেছে তালিবান। আমি এই পৃথিবীর নিয়মনীতি বুঝি না। এই নীরবতাও বুঝি না আমি। নিজের দেশের জন্য লড়তে প্রস্তুত আমি। কিন্তু আমার একার পক্ষে তা সম্ভব নয়। আমাদের সঙ্গে যা ঘটছে, সে দিকে নজর দিতেই হবে। কিছু দিনের মধ্যেই হয়তো আর ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারব না আমরা। অন্য ভাবে যোগাযোগের রাস্তাও হয়তো থাকবে না। হয়তো আর কয়েকটা দিনই আছে আমাদের হাতে। তার আগে বিশ্বের কাছে আমাদের আর্তি পৌঁছনো দরকার।"
# আফগানিস্তানের প্রখ্যাত মহিলা চিত্র পরিচালক সাহারা করিমি
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০২১ সকাল ১০:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


