
গত ৫ দিনে আঠারো হাজার আফগান আমেরিকান পণ্যবাহী বিমানের মেঝেতে বসে পৃথিবীর বিবিধ দেশে শরণার্থী হিসাবে গেছে । কাবুল বিমান বন্দর তিন হাজার মার্কিনী সেনার হেফাজতে । আগামি কদিনে আরও পাচ হাজার আফগান শরণার্থীকে নেওয়া হবে । তালেবান এয়ারপোর্ট আসার রাস্তা বন্ধ করেছে , সংঘর্ষ চলছে উভয় পক্ষে । একটি ছ মাসের শিশুকে তার মা তারকাটা বেড়ার উপর দিয়ে মার্কিনী সেনাদের হাতে দিল । প্লেনের ল্যান্ডিং গিয়ারের সাথে ঝুলতে থাকা যারা পড়ে গিয়ে মারা গেছে তাদের একজন আফগান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় । কেন তিনি এই বোকামি করলেন আমার মাথায় আসছে না ।
জালালাবাদের আগুনের ফুল্কি কাবুলেও লেগেছে । ১৯ তারিখ ছিল আফগানিস্তানের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস । পিকাপে চড়ে আফগানরা তাদের পতাকা নিয়ে মিছিল করেছে কাবুলে । আফগান ভাইস প্রেসিডেন্ট পালাননি , তিনি কাবুলের আশপাশের গোপন আস্তানা থেকে তালেবানের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে আহবান জানাচ্ছেন । ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ তার গোপন আস্তানা থেকে ঘোষণা করেছেন দেশের সংবিধান অনুযায়ী তিনিই এখন আফগানিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রেসিডেন্ট এবং তিনি তালেবানের সরকার মানবেন না।
মি সালেহ, যিনি একসময় আফগানিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন, তালেবানের বিরুদ্ধে জোট তৈরি করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার সাথে রয়েছেন প্রয়াত তালেবান বিরোধী কিংবদন্তী তাজিক নেতা আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমেদ মাসুদ এবং সাবেক আফগান সেনা প্রধান ইয়াসিন জিয়া। টুইটারে এক পোস্টে আমরুল্লাহ সালেহ জাতীয় পতাকা নিয়ে এসব মিছিলের প্রতি তার সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, ''যারা জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় প্রতিবাদ করছে তাদের প্রতি স্যালুট।'' পরিস্থিতি খুব গোলমেলে ।
আমেরিকান রিলিফ খাদ্য অফিস প্রচুর খাদ্য প্লেন থেকে ছুড়ে দিচ্ছে । ইউনাইটেড নেশন রিফিউজি অফিস বলছে আপনারা ভয় পাবেন না , আমরা আপনাদের ছেড়ে যাচ্ছি না । আমেরিকা , কানাডা চল্লিশ হাজার রিফিউজি নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে । অস্ট্রেলিয়া তিন হাজার নেবে ।
আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন সত্যিই আতঙ্কে সংশ্লিষ্টরা ।



আপডেটঃ আজ পাঞ্জশির থেকে আফগান নেতারা প্রতিরোধ শুরু করেছে । তিন জেলা তালেবান মুক্ত। আহমেদ শাহ মাসুদের পুত্র নেতৃত্ব দিচ্ছে । তারা একটি হেলিকপ্টার জোগাড় করেছে আরও আছে অত্যাধুনিক রাইফেল।
যে শিশুটিকে মা আমেরিকানদের হাতে তুলে দিয়েছে তাকে শান্ত করতে ব্যাস্ত এক আমেরিকান সেনা

বরিস জনসন বলেন, ‘আমি মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, আফগানিস্তানের জন্য একটি সমাধান বের করতে আমাদের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থাকবে। প্রয়োজন হলে অবশ্যই তালেবানের সঙ্গেও আমরা কাজ করব।’
এর আগে তিনি বলেছিলেন, তালেবানদের মূল্যায়ন করা হবে তাদের কাজের মাধ্যমে, কথার মাধ্যমে নয়।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০২১ সকাল ১০:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


