
তালেবান হটাতই আজ ইউ টার্ন নিল যে তোমরা আমেরিকান সেনারা পূর্ব ঘোষিত ৩১ আগস্টে কাবুল ছাড়বে । আমেরিকান এক প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত বলেছেন আমরা যখন ইচ্ছে খুশি ছেড়ে যাব । আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হয়ত কাল কিছু বলবেন ছেড়ে যাবার ব্যাপারে । আসলে আমেরিকা মাত্র এক সপ্তায় পাচ হাজার সেনা এনেছেন আফগানিস্তানের আটটি এয়ারপোর্ট দখলে রাখতে । তিন হাজার সেনা ঘিরে আছে কাবুল এয়ারপোর্ট । কাবুল এয়ারপোর্টের আশপাশ দিয়ে খোলা আকাশের নিচে আফগান পুরুষ নারী শিশু যারা আফগানিস্তান ত্যাগের লাইনে, তাদের সংখ্যা একুশ হাজার । তালেবান এখন বলছে কোন আফগান দেশ ত্যাগ করতে পারবে না । আমরা দেশেই তাদের নিরাপত্তা দেব । আমেরিকানরা একটা গো ধরেছে যে যে চাইবে তাকেই প্লেনে ওঠাব । কিন্তু বিশেষজ্ঞরা শংকা প্রকাশ করেছেন এই ভিড়ের মধ্যে জঙ্গি এক্সপোর্ট হচ্ছে না তো !! দেশত্যাগের মধ্যেই কাবুল- দোহা -জার্মানির কার্গো ফ্লাইটে প্রসব বেদনা উঠল এক মহিলার । পাইলট প্লেনে যথেষ্ট বায়ু থাকার জন্য প্লেনটাকে নিচু থেকে উড়িয়ে নিয়ে সোজা জার্মানি । সেখানে অপেক্ষা করছিল নার্সিং টিম । হাসপাতালে কন্যা শিশু জন্ম নিল । একেই বলে আমেরিকান ব্যাবস্থাপনা ।
তালেবানরা সম্ভবত এতো বড় দায়িত্ব পেতে প্রস্তুত ছিল না । আই এম এফ ডলার আটকে দিয়েছে তালেবানদের , মেজাজতো একটু খারাপ হবেই । তারা বলছে আমেরিকানদের এর জন্য ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে । একটি ছবিতে দেখা গেল হামিদ কারজাই এর বসার ঘরে হাক্কানি সহ অন্য তালেবানদের মিটিং চলছে । তার মানে হচ্ছে তারা সম্ভবত ঐক্যমতের সরকারের দিকে পা বাড়াচ্ছেন । পানশির এখনো মুক্ত এবং তালেবান বিরোধীরা জিপে হাতে অস্ত্র নিয়ে শ্লোগান দিচ্ছে । তালেবান তাদের অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেছে । জি সেভেনের মিটিঙে চূড়ান্ত হবে আফগানিস্তানের ভাগ্য । চীন বলছে, তালেবানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের মূল লক্ষ্য পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চলকে বেইজিংবিরোধী তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্টের (ইটিআইএম) হাত থেকে রক্ষা করা। ইটিআইএম আফগানিস্তানে আশ্রয় নিয়ে তাদের তৎপরতা চালাতে পারে বলে সন্দেহ চীনের।আফগানিস্তান নিয়ে খেলার তৃতীয় ‘খেলোয়াড়’ ভারত। দেশটি পাকিস্তানের পুরোনো শত্রু। চীনের সঙ্গেও ভারতের বিরোধ রয়েছে। আফগানিস্তানে তালেবানের হাতে যে সরকারের পতন হয়েছে, তার অন্যতম সমর্থক ছিল ভারত। কিন্তু হুট করে কাবুল চলে গেছে তালেবানের হাতে। কাবুল পতনের পর তালেবান-শাসিত আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে পাকিস্তান ও তার মিত্র চীন। এতে খুব স্বাভাবিকভাবেই নয়াদিল্লির উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ঊর্ধ্বমুখী। পাকিস্তানের তেমন খুশি হবার কারন নেই । গেল ক'বছর আগে পেশোয়ারের আর্মি স্কুলে শতাধিক ছাত্র , ছাত্রী , শিক্ষককে তালেবানরা খুন করেছে । তালেবান একজন পাকিস্তানীর সৃষ্টি ।
আগামি কদিন বেশ গুরুত্বপূর্ণ উভয় দেশের জন্য ।
আমেরিকা ঠিক কি চাইছে এটা পরিস্কার নয় । আপডেট চলবে ।।



১, আফগান সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে সেই পুরাতন মুখকে নিয়োগ দিয়েছে । গোয়েন্দা বিভাগে একজন তালেবান কিন্তু এরা রাজী কিনা তা স্পষ্ট নয় ।
২,

৩, জো বাইডেন নিশ্চিত করেছেন যে আমেরিকান সেনা ৩১ আগস্টেই আফগানিস্তান ছাড়বে ।
৪, সি আই এর প্রধান এক গোপন সফরে কাবুলে গনি বারাদারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন । এই সাক্ষাতের অফিসিয়াল কোন ঘোষণা নেই ।
৫, দুজন কংগ্রেসম্যান ভাড়া করা একটি বিমানে কাবুল এসেছেন । কি জন্য এসেছেন তা বলা হচ্ছে না
আফগানিস্তান দখল করার পর কাবুলে বসে তালেবান মুখপাত্র বলেছিলেন, মানবাধিকারের বিষয়টি খেয়াল রাখা হবে। শরিয়ত আইন মেনে নারীদের অধিকার রক্ষা করা হবে। সহিংস শাস্তি দেওয়া হবে না। এতদিন যারা বিদেশি সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তেমন নয় বলে জরুরি রিপোর্ট পেশ করলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান মিশেল ব্যাশেলেট। মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে ভয়াবহ তথ্য এসে পৌঁছেছে তার হাতে।কী আছে রিপোর্টে
মিশেল জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে তার কাছে খবর আসছে। নারীদের বাড়ি থেকে বেরতে দেওয়া হচ্ছে না। ছোট ছোট মেয়েদের স্কুলে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। বিদেশি সংস্থায় কাজ করা আফগানদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাদের মারধর করা হচ্ছে। আফগান সেনায় কাজ করা ব্যক্তিদের রাস্তায় সর্বসমক্ষে হত্যা করা হচ্ছে। নাবালকদের তালেবান বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
মিশেল জানিয়েছেন, বিশেষ করে নারী অধিকারের বিষয়টি তারা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তালেবান জানিয়েছিল, নারী অধিকার প্রসঙ্গে গতবারের মতো অবস্থান তারা নেবে না। কিন্তু বাস্তব রিপোর্ট তার সঙ্গে মিলছে না বলেই তিনি খবর পাচ্ছেন।
আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গেও সহিংস আচরণ করা হচ্ছে বলে জাতিসংঘের কাছে রিপোর্ট এসেছে। এই প্রতিটি বিষয়ই অত্যন্ত চিন্তার কারণ বলে জানিয়েছেন মিশেল। মানবাধিকার নিয়ে মঙ্গলবার জাতিসংঘের বিশেষ বৈঠক তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তান এবং অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কর্পোরেশনের যৌথ আবেদনে ওই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংগঠন আফগানিস্তানে কাজ করছে। এই রিপোর্ট পাওয়ার পরে তাদের আরো সতর্ক হতে বলা হয়েছে। সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এপি, এএফপি, ডিপিএ)

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০২১ রাত ৮:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


