somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোথায় গেল সেইসব আকাশ?

১৫ ই জুলাই, ২০২২ দুপুর ১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





১৩ বিলিয়ন আলোক বর্ষের মধ্যে কোন আকাশের দেখা পেল না নাসা৷ তাহলে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত আকাশগুলো কোথায় গেল? ওরা কি নাসার কার্যক্রম দেখে ভয়ে পালাল? নাকি এসব আকাশের কথা কেবলই গালগল্প!
আমরা বলতেই পারি, প্রাচীন গ্রন্থগুলোতে পৃথিবী, মহাবিশ্ব, আকাশ নিয়ে যা লেখা হয়েছে সবই মিথ্যা, আজগুবি ও অনুমান নির্ভর। ওই সময়ের মানুষের জানার পরিধি ছিল খুবই কম। তার বেশি কোন প্রাচীন গ্রন্থেই ছিল না। অর্থাৎ পরবর্তী সময়ের কোন জ্ঞানই ওই গ্রন্থগুলোতে ছিল না। সেখান থেকে কোন দিকনির্দেশনাই মানুষ পায়নি মিথ্যা তথ্য ছাড়া। সেখানে পৃথিবী স্থির এবং ওপরের দিক বলতে আসমান/আকাশ আর নিচের দিক বলতে পাতালই বোঝাতো। সেই আকাশ কিভাবে দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবীর ছাদ হিসেবে তা নিয়ে একেক গ্রন্থে একেক আজগুবি গালগল্প রয়েছে। কোথাও রয়েছে চারটি খুঁটি, কোথাও তিনটি খুঁটি আবার কোথাও অদৃশ্য খুঁটির কথা বলা হয়েছে। সূর্য-চন্দ্র কিভাবে পূর্বাকাশ থেকে পশ্চিম দিকে যায় তা নিয়েও বিস্তর আজগুবি কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে। কোথাও বলা আছে সূর্য কর্দমাক্ত জলাশয়ে অস্ত যাচ্ছে৷ চন্দ্র প্রথম আকাশে আর সূর্য দ্বিতীয় আকাশে৷ আকাশকে কল্পনা করা হতো বিশাল গম্বুজের মতো করে। এক আকাশের ওপরে আরেক আকাশের কথা বলা হতো। কোথাও বলা হয়েছে সাত আসমানের কথা- যা স্বর্ন, রৌপ্যসহ বিভিন্ন ধাতু দিয়ে তৈরি। কোথাও বলা হয়েছে সেখানে স্রষ্টা রয়েছেন, কোথাও বরা হয়েছে সেখানে দেবদেবীরা বাস করে। আর পাতালে মানে মাটির নিচে রয়েছে নরক বা দানবদের বাস। একেক প্রাচীন গ্রন্থে একেক রকম- আজ সবই হাস্যকর মনে হয়। তারাগুলোকে কোথাও লেখা আছে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। কোথাও তাদের দেবদেবী বলা হয়েছে- বিয়ে সাদীও হয়েছে তাদের মধ্যে। কেউ কেউ সন্তানও জন্ম দিয়েছে। আকাশ গঙ্গাকে বলা হয়েছে কোন দেবতার বীর্যপাত বা কোন দেবীর স্তন থেকে বের হওয়া দুধের ফোয়ারা!
পৃথিবীতে অলৌকিক বহু রকমের প্রাণির কথাও বলা হয়েছে- ভুত, প্রেত, প্রেতাত্মা ছিল দক্ষিণ এশিয়াতে; জিন ছিল আরব অঞ্চলে; ইউরোপে ছিল ডাইনীর মতো অলৌকিক শক্তিধর কিছু যার জন্য বহু বৃদ্ধা নারীকে হত্যা করা হয়। সেখানে রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার ছিল। এমন কি সাম্প্রতিক কিছু মানুষ এলিয়েন নামক এক ভিনগ্রহের প্রাণির দাবিও করে। এটা কাল্পনিক সাইন্স ফিকশনে মানানসই হলেও এসবের কোন বাস্তব অস্তিত্ব কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। গালগল্পেই সীমাবদ্ধ ছিল। আকাশ আর পাতালের মাঝে মর্তে মানুষ ও দৃশ্যমান প্রাণি ছাড়া এসব অলৌকিক প্রাণির অস্তিত্বের দাবিও আজ হাস্যকর হয়ে উঠেছে।
আমরা এখন বুঝি, যে খুঁটি দিয়ে আকাশ ধরে রাখা সেই খুঁটিগুলোর বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই আর আকাশ বলেও কিছু নেই। একেকটি মহাশূন্য একেকটা ফাঁকা জায়গা যেখানে খুবই অল্প স্থান জুড়ে রয়েছে গ্রহ, নক্ষত্র। আর বাংলাদেশের পাতাল মানে হল- আমেরিকা। বাংলাদেশ থেকে ছিদ্র করলে তার উল্টোদিকে আমেরিকা মহাদেশের কাছে কোথাও গিয়ে উঠতে হবে। এখন এটাকে কেউ পাতাল বলে মানবে না। কোন ধাতুর তৈরি আকাশও কেউ মানবে না। উপরের দিক বলতেও কিছু নেই। দিনে যেটা উপরের দিক রাতেই সেটা নিচের দিক। অর্থাৎ দুপুরে যেটা আকাশের দিক, রাতেই সেটা পাতালের দিক! সবচেয়ে বিস্ময়কর পৃথিবীটা যে গোলাকার এ সামান্য কথাটুকুও কোন প্রাচীন গ্রন্থেই লেখা নেই। অথচ সেই গ্রন্থগুলোকেই মানুষ মহাপবিত্র ও অলৌকিক দাবি করে আসছে। অবশ্য পৃথিবীটা গোলাকার এবং সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, আর চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে এমন সহজ সত্য ওই সময়ে কেউই বুঝতে পারেনি বলেই কোন অলৌকিক গ্রন্থেও আসেনি।
বিজ্ঞান মানুষের জানার সীমানা বাড়িয়ে দিয়েছে৷ অন্ধকার ধারণাগুলোতে পড়ছে আলো৷ সেই আলোতেই আজ পাতাল নাই হয়ে গেছে৷ নাই কথিত সেই ধাতব আকাশও৷ বিজ্ঞান নিয়মিতই খুলে দিচ্ছে রহস্যের দুয়ার৷ শিঘ্রই খুলবে আরো অনেক অনেক রহস্যের বন্ধ তালা৷ আজ কথিত প্রথম আকাশ, দ্বিতীয় আকাশ ছাড়িয়ে বিজ্ঞান খুঁজে পেয়েছে ১৩ বিলিয়ন আলোক বর্ষ দূরের তারকার সন্ধান৷ এ পর্যন্ত কোন আকাশ নেই স্বর্ণের বা রৌপ্যের তৈরি৷ সূর্য আলাদা কো আকাশে নেই৷ ১৩ বিলিয়ন আলোক বর্ষের মধ্যেও কোন আকাশ নেই৷
১৩ বিলিয়ন আলোক বর্ষের দূরত্বই বা কত মাইল? আলো এক সেকেণ্ডে যায় ১,৮৬,০০০ মাইল! এক বছরে ১৫৭৬৮০০০ সেকেণ্ড দিয়ে গুণ করলে পেয়ে যাবো এক আলোক বর্ষের দূরত্ব৷ সাধারণ ক্যালকুলেটরে গুণটি করতেই পারবেন না৷ শুধু জানুন এই দূরত্ব পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের ৩১৫০০ গুণ! তাহলে ১৩০০ কোটি আলোক বর্ষের দূরত্ব কত? চাঁদ যে আসমানে আছে তার সাথে তুলনা করাই যায় না৷ দ্বিতীয় আকাশে আছে সূর্য! কোথায় গেল সেইসব আকাশ?

সৌজন্যে-
ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি / মুজিব রহমান
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০২২ দুপুর ১:৫০
২৫টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ অনুচ্চারিত উত্তর

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৬:২০




জীবনের গতিপথ সর্বদাই চলমান। শত বাধা বিপত্তিতে সে থেমে থাকে না। চাইলেও থামানো যায় না।চলছে তো চলছেই ভালো আর মন্দে।

সে সব কত বছর আগের কথা.. সময়ে সবকিছু কত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন - অক্টোবর ২০২৫

লিখেছেন বিজন রয়, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫



আনন্দ বিশ্বকাপ ফুটবল!
শোক ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প!!


এই আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন পোস্ট অক্টোবর ২০২৫! অনেক দেরি হয়ে গেল! হ্যাঁ অক্টোবর ২০২৫ এর সব কবিতা সংরক্ষিত ছিল, কিন্ত সময়ের অভাবে সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা বেবি রেসলার ইন দ্যা ডে কেয়ার সেন্টার- নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হয় আজকাল .....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭


বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

(The Hertiest Light, The Fleeting Memory)



তোমার ছোঁয়ায় থমকে দাঁড়ায় চেনা সময়টুকু,
দূরে গেলেই মেঘের ছায়ায় কাঁদে অবুঝ সুখ।
সুন্দর সেই দিনগুলো যায় ,হুট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৮


দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×