somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভিন্ন বেতন কাঠামোর আন্দোলন: যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে কিছু কথা

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভিন্ন বেতন কাঠামোর দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে রেখেছেন। দাবি অবশ্যই যৌক্তিক। তবে তাদের দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে পুঁজি করা কোনমতেই যৌক্তিক হতে পারে না। দাবি আাদায়ের আরো অনেক পথ আছে। আপনারা ক্লাস ঠিক রেখে আন্দোলন করুন। তাতে আশাকরি আপনারা আপনাদের শিক্ষার্থীদেরও পাশে পাবেন। অন্যথায় শিক্ষার্থীদেরকে পাশে চাওয়া বাড়াবাড়ি। কারন আপনারা তাদেরকেই পুঁজি করছেন। বিষয়টা অনেকটা শিক্ষার্থীদের মাথায় কাঠাল ভেঙে খাওয়ার মত।

এ গেল দাবির প্রক্রিয়ার কথা। এখন আসি দাবির কথায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক পুরাতন বেতন কাঠামোতেই মূল বেতন ও অন্যান্য ভাতাদি মিলিয়ে ৮০-৯০ হাজার টাকা পর্যন্তও বেতন তুলে থাকেন। যেখানে একজন সচিবের বেতন এখন করা হয়েছে ৮৬ হাজার টাকা। এরসাথে আছে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, ভর্তি পরীক্ষা, বিভিন্ন সিলেকশন বোর্ডের ভাতা ইত্যাদি । কেউ কি কখনো দেখেছেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অসচ্ছল দিন কাটাচ্ছেন?

কিন্তু আমি দেখেছি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শুধুই অসচ্ছল নয় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। আজ যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকে পুঁজি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলনরত সেই সব শিক্ষার্থীর আজকের যোগ্যতার বীজ বপন করেছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তার নার্সিং করেছেন উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। কিন্তু যখন একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাত্র ১০-১২ হাজার টাকা বেতনভুক্ত হয়ে সংসার চালাতে এমনকি নিজের সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দোরগোরায় নিয়ে যেতে হিমশীম খেয়েছেন/খাচ্ছেন তাদের জন্য এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকরা কতখানি সোচ্চার ছিলেন? বছরখানেক আগেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেতনের দাবিতে শহীদমিনারে অনশন করেছেন। সেদিন কজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষত তাদের পাশে উপস্থিত ছিলেন?

তারাতো আপনাদের স্বজাতিই, হয়তো আপনাদের তুলনায় জ্ঞানে ছোট। তবুও মানুষ গড়ার কারিগরের তালিকায়তো তারাও আছেন। আজ যখন আপনাদের ভাগে কম পড়েছে তখন আপনারা সরব। এখন আপনারা জাতির সামনে শিক্ষকের মহিমা তুলে ধরে বক্তৃতা করছেন। আপনারা ছাড়াও শিক্ষক আছেন। এবং শিক্ষার্থী হিসাবে আমরা তাদেরও সমপরিমাণই সম্মান করি। একটি কাক বিপদে পড়লে শতকাক একত্রিত হয়। আপনারাতো তবু মানুষ। বিদ্বান বিশেষণটি নাহয় নাই উল্লেখ করলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:১৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লালনের বাংলাদেশ থেকে শফি হুজুরের বাংলাদেশ : কোথায় যাচ্ছি আমরা?

লিখেছেন কাল্পনিক সত্ত্বা, ০৫ ই মে, ২০২৪ দুপুর ১:১৪



মেটাল গান আমার নিত্যসঙ্গী। সস্তা, ভ্যাপিড পপ মিউজিক কখনোই আমার কাপ অফ টি না। ক্রিয়েটর, ক্যানিবল কর্পস, ব্লাডবাথ, ডাইং ফিটাস, ভাইটাল রিমেইনস, ইনফ্যান্ট এনাইহিলেটর এর গানে তারা মৃত্যু, রাজনীতি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার গ্র্যান্ড কেনিয়ন পৃথিবীর বুকে এক বিস্ময়

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ০৫ ই মে, ২০২৪ দুপুর ১:৪১


প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে হাতে গাছের ডাল আর পরনে সাধা পোশাক পরিহিত এক মহিলার ভাটাকতে হুয়ে আতমা গ্র্যান্ড কেনিয়নের নীচে ঘুরে বেড়ায়। লোকমুখে প্রচলিত এই কেনিয়নের গভীরেই মহিলাটি তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুরি! চুরি! সুপারি চুরি। স্মৃতি থেকে(১০)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০৫ ই মে, ২০২৪ দুপুর ২:৩৪


সে অনেকদিন আগের কথা, আমি তখন প্রাইমারি স্কুলে পড়ি। স্কুলে যাওয়ার সময় আব্বা ৩ টাকা দিতো। আসলে দিতো ৫ টাকা, আমরা ভাই বোন দুইজনে মিলে স্কুলে যেতাম। আপা আব্বার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেকোন বাংগালীর ইন্টারভিউর সময়, 'লাই-ডিটেক্টটর' যোগ করে ইন্টারভিউ নেয়ার দরকার।

লিখেছেন সোনাগাজী, ০৫ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৫:০৭



আপনার এনলাকার এমপি, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী কামাল সাহেব, যেকোন সেক্রেটারী, যেকোন মেয়র, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান, বিএনপি'র রিজভী, আওয়ামী লীগের ওয়ায়দুল কাদের, আপনার থানার ওসি, সীমান্তের একজন বিজিবি সদস্য, ঢাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলীগ এর ভয়ে ফরজ নামাজ পড়ে দৌড় দিয়েছেন কখনো?

লিখেছেন লেখার খাতা, ০৫ ই মে, ২০২৪ রাত ৯:২৬


আমাদের দেশের অনেক মসজিদে তাবলীগ এর ভাইরা দ্বীন ইসলামের দাওয়াত দিয়ে থাকেন। তাবলীগ এর সাদামাটাভাবে জীবনযাপন খারাপ কিছু মনে হয়না। জামাত শেষ হলে তাদের একজন দাঁড়িয়ে বলেন - °নামাজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×