নজরুলের লেখা ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার ছিল। ইংরেজ উপনিবেশের বিরুদ্ধে তার হাতিয়ার ছিল তার লেখনী। তার কবিতায় তিনি ব্রিটিশ অত্যাচার, নিপীড়িনের কথা বলেছেন। বিদ্রোহের কথা বলেছেন, ইংরেজ বিরোধী চেতনার কথা বলেছেন; স্বাধীনতার কথা বলেছেন। নিপীড়িত মানুষের আত্মচিৎকারই ফুটে উঠেছে তার কবিতায় ব্যবহৃত শব্দগুলোতে।
একদিকে যেমন শোষণ বিরোধী, ঔপনিবেশিক শাসন বিরোধী, সাম্যবাদী, মানবতাবাদী লেখার জন্য বাঙালি পাঠকদের কাছে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নজরুলের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে অন্যদিকে তার চেয়ে দ্রুত গতিতে ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন তিনি। তার বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থ ও লেখা নিষিদ্ধ করতে থাকে ইংরেজ সরকার।
১৯২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ধূমকেতু পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ নামক কবিতা। এ কবিতা প্রকাশের দায়ে ধূমকেতু পত্রিকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে কবিকে গ্রেফতার করা হয়। এক বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন কবি। কারাগারে তাকে অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হয়।
কারাগার থেকে বের হবার পরও তিনি তার ব্রিটিশ বিরোধী লেখা চালিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে তার আরো কিছু কাব্যগ্রন্থ ও লেখা নিষিদ্ধ হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত লেখাগুলো হলো:
* যুগবাণী (প্রবন্ধ)
* বিষের বাঁশী (কাব্য)
* ভাঙ্গার গান (কাব্য)
* রুদ্রমঙ্গল (প্রবন্ধ)
* দুর্দিনের যাত্রী (প্রবন্ধ)
* প্রলয়শিখা (কাব্য)
* চন্দ্রবিন্দু (সঙ্গীত)
এই পোষ্টের সমাপ্তি টানছি ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতার কয়েকটি চরণ দিয়ে।
“আর কতকাল থাকবি বেটি মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি-চাড়াল।
দেবশিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবাদের দিচ্ছে ফাঁসি,
ভূ-ভারত আজ কসাইখানা,_ আসবি কখন সর্বনাশী?”
কবি আপনি যেখানেই থাকুন, ভাল থাকুন এই কামনা করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




