
মাননীয় বিএনপির নেত্রী।
আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা।
এই ক্ষুদ্র মানুষের দ্বিতীয় চিঠি আপনার উদ্দেশ্য।
১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে মূলত গনতন্ত্রের সূচনা। বাংলাদেশে আমার মত আমপাবলিকের দল প্রায় এটাই বিশ্বাস করে। এদেশের মানুষ তাদের মুক্তভাবে দেওয়া প্রথম ভোটে আপনাকে আর আপনার দলকে দেশ চালানোর দায়িত্ব দেয়। আপনি হোন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী আর বিশ্বে দ্বিতীয় মুসলিম নারী প্রধানমন্ত্রী। আপনার হাতে সুযোগ ছিল এদেশে গনতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার। মানুষের আশাও ছিল তাই, কারণ আপনি হলেন এদেশে বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রর্বতকের সহধর্মিনী।
কিন্তু আপনি একটা ভুল সিধান্ত নিয়ে ফেললেন ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করতে চাইলেন, নির্বাচন করলেন ঠিকই মুলত বিরুধী সব দল ছাড়া।
বিবেকের তাড়নায় হোক আর বিরূধীদলের দাবির মুখে হোক আপনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা সংবিধানে যোগ করলেন, এ দেশের মানুষ তাদের দ্বিতীয়বার স্বাধীন মত দিলেন। আপনার দল পরাজিত হল। এটুকু বলার মূল কারণ আপনি যেভাবে বিরুধী দলের দাবিতে হোক আর বিবেকের তাড়নায় হোক , ১২ কি ১৪ দিন পর ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলেন।
৫ই জানুয়ারী নির্বাচন বর্জন করার সময় হয়তো আপনার অতীত মনে পড়েছিল, প্রধান বিরুধীদল ছাড়া নির্বাচন হয়তো বেশীদিন টিকবে না, বা বিবেকের তাড়নায় দ্রুত একটা অংগ্রহনমূলক নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষকে দেখাবে নির্বাচিতরা। আপনার বিশ্বাসে মারাত্বক ভুল ছিল, পৃথিবীর সব মানুষ বিবেবান হয় না। শরমহীন অসংখ্যা মানুষ এদেশে আছে।
২০০১ সালে আবার মানুষ আপনার জোটকে নির্বাচিত করল, আপনি এবার নির্বাচন নিজের ক্ষমতা না করতে চাইলেও বিচারপতি হাসান সাহেবের যেভাবে আপনি প্রমোশন দিয়ে নিয়ে এসেছিলেন তাতে আমপাবলিকের মাঝে প্রবল সন্দেহ জন্ম নেয়। জন্ম দিলেন আজিজ নির্বাচন কমিশন। শুনেছিলাম দেড় কোটি নাকি ভুয়া ভোটার ছিল, যে দেশের মানুষ আপনাকে প্রথম মুক্তভোটে নির্বাচিত করল তাদের প্রতি কেন আপনার বিশ্বাস হারালো?
আজকের এদেশে গনতন্ত্রহীনতার জন্য দায়ী অনেকটা আপনি, কি দরকার ছিল হাসান, মঈনউদ্দিনকে প্রমোশন দিয়ে উপরে উঠানো।
আপনার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল হল, আপনি বিরুধীদলকে একটার পর একটা আন্দোলনের ইস্যু দিয়েছেন সাথে তাদের রাজপথে আন্দোলনের সুযোগ দিয়েছেন। তাদের আন্দোলন আর ভুল মিলে এদেশে জন্ম হয় ফখরুদ্দিন সরকার। যার নিয়ন্ত্রক ছিল আপনারই নিয়োগ দেওয়া সেনাপ্রধান। আজকের আপনার চরম দূর্গতির মূলত শুরু ফকরুদ্দিন সরকারের আমলে।
শুনেছিলাম ফকরুদ্দিন সরকার আপনাকে অফার দিয়েছিল যে তাদের সব অনিয়ম মেনে নিলে আপনাকে ক্ষমতা পাওয়ার ব্যবস্থা করবে, আপনি নাকি রাজী হননি অন্যয়ের সাথে আপোষ করতে। তাহলে কেন হাসান, মঈনউদ্দিনকে প্রমোশন দিয়ে নির্বাচনের কাছাকাছি নিয়ে আসা?
আপনি ভুল করলেও বর্তমান সরকার কিন্তু ভুল করছে না, তারা ইস্যু দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু রাজপথে নামতে দিচ্ছে না, নামলে গুলি। প্রধান বিচারপতিকে ঘাড় ধরে নামিয়ে বিচার বিভাগকে যেভাবে হেয় করা হল, তাতে আপনাদের বড় ধরনের প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কিন্তু আপনাদের রিজভী সাহেবের সংবাদ সম্মেলন ছাড়া আর কোন কর্মসূচী দেখলাম না। বর্তমান দ্রব্যমূল্য মানুষের নাভীশ্বাস তুলে দিচ্ছে, কিন্তু আপনাদের কোন কর্মসূচী নেই। সারাক্ষন চিন্তা কিভাবে নির্বাচন হবে, কিভাবে আবার ক্ষমতায় যাব। আমাদের জন্য নির্বাচিত হওয়ার স্বপ্ন থাকলে আগে আমাদের নিয়ে ভাবেন।
এই ক্ষুদ্র মানুষের একটা উপদেশ আপনার উদ্দশ্যে:
যদি আপনি চান এদেশে গনতন্ত্র সুন্দভাবে চালু থাকুক তাহলে নির্বাচনের আগে আপনাকে কথা দিতে হবে, ক্ষমতায় গেলে সবখানে স্বাভাবিক নিয়মে চলতে দিবেন, ধারাবাভিকভাবে চলবে সব প্রতিষ্টান, নিয়ম অনুযায়ী সবাই প্রমোশন পেয়ে দায়িত্ব নিবে। আর যদি চান শুধু ক্ষমতা, তাহলে বর্তমান সরকারকে অনুসরণ করুন। কারণ বর্তমানে গনতন্ত্ররের নামে এদেশে চলছে তামাশা।
জাতি আপনাকে কি হিসাবে মনে রাখবে তা আপনাকে পরিস্কার করে যেতে হবে। জগা-খেচুড়ী গনতন্ত্রের মাঝে আপোষহীন নেত্রী হয়ে লাভ নেই, এ যুগে আমপাবলিক এসব খায় না।
আপনার সুস্ততায় কামনায়
এক ক্ষুদ্র স্বপ্নবাজ মানুষ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



