somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাভাবিক নির্বাচন হলে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে- আওয়ামলীগ যে সব কারণে পরাজিত হতে পারে।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আওয়ামলীগ বাংলাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল। এ দল মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে জন্ম নিলেও এ দলের প্রাণভোমরা ছিলেন-বাংলাদেশের স্হপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মূলত তার নেতৃত্বে এই দল আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পায়। বাংলাদেশে এখনো ৬০-৭০ বছর বয়সী অনেকে আওয়ামলীগ সমর্থন করেন বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে। বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।
তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন যদিও বর্তমান মেয়াদের নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা তর্ক-বিতর্ক আছে। এখন কথা হচ্ছে,
বিএনপিকে বাদ দিয়ে মানুষ আবার কেন আওয়ামলীগকে নির্বাচিত করবে?
তারা কি জনগনের চাহিদা মোতাবেক দেশ চালাচ্ছে?
মানুষ যদি আওয়ামলীগকে বাদ দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করে সেক্ষেত্রে আওয়ামলীগের কোন ব্যার্থতাগুলো মানুষ বিবেচনায় নিতে পারে।

আমার ক্ষুদ্র দৃষ্টিতে যে কারণগুলো আওয়ামলীগের পরাজয়ের ভূমিকা হতে পারে---

১) বেপরোয়া ছাত্রলীগঃ ছাত্র রাজনীতি আমাদের দেশে এখন ভয়ংঙ্কর রুপে। ছাত্রদের হতে কলমের বদলে পিস্তল, দলাদলিতে নিয়মিত খুন হচ্ছে বাবা-মায়ের আশার প্রদীপগুলো। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজী থেকে শুরু করে এমন কোন কাজ নেই যে ছাত্র নামের রাজনীতিকরা করচ্ছে না। ছাত্রদল ক্ষমতায় থাকাকালে তারাও এসব কর্ম করেছে কিন্তু বর্তমান ছাত্রলীগ তাদের চেয়ে যে কাজটা সবচেয়ে মনযোগ দিয়ে করছে তাহলো ধর্ষন কর্ম। শুধু এই কর্ম করে তারা ক্ষান্ত নন তাদের সেই বীরত্বপূর্ণ কাজ ধারণ করে সারাদেশের মানুষকে দেখার ব্যাবস্থা করছে। ২০০১ সালে গ্রাম জনপদে বিএনপি-জামায়াত জোটের লীগ বিরুধী প্রচারের মধ্যে ছিল জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের এক নেতার ধর্ষনের সেঞ্চুরী বিষয়। গ্রামে এখনো সভ্যতা বলতে কিছু টিকে আছে, তাই ছাত্রলীগের এই কর্মকান্ড নির্বাচনে আওয়ামলীগকে ভোগাবে।

২) গুমঃ এই শব্দটা বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদে এক আতঙ্কের নাম। আওয়ামলীগ বিরুধীমত দমনে এই গুমকে এক মস্ত হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবহার করছে। গুম নিয়ে বেশী কিছু বলা উচিত হবে না, কারণ আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পরোক্ষভাবে গুমকারীরদের পক্ষে সাফাই গাইছেন।

৩) শিক্ষা ব্যাবস্থার মারাত্বক অবনতিঃ শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড, সুশিক্ষা ছাড়া কল্যাণমূলক রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না, কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষার বর্তমান কি হাল? সম্ভবত বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে লাজুক অবস্থায়। প্রশ্ন ফাঁস এখন স্বাভাবিক বিষয় তা পিএসসি হোক আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হোক। প্রশ্ন ফাঁস এখন এদেশের শিক্ষাখাতে মহামারী হিসাবে দেখা দিয়েছে। প্রতি বছর পাঠ্যবইয়ে তথ্যগত মারত্বক ভুল থাকছে। আমার দেশের স্বাধীনতা দিবস কত তারিখে, কত তারিখে আমাদের মহান বিজয় দিবস যা দ্বিতীয় শ্রেণীর একটা ছাত্রের জানার কথা, সেখানে এসএসসি এ প্লাস পাওয়া ছাত্র বলতে পারছে না, এটুকুতে মোটামুটি ধারণা করা যায় শিক্ষার মান কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

৪) বিচার-ব্যাবস্থা মেরুদন্ড বাঁকা করাঃ মানুষের ন্যায় বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল বিচারলয় কিন্তু আওয়ামলীগ সরকার বিচার বিভাগের মেরুদন্ড বাঁকা করে দিয়েছে, প্রধান বিচারপতির চাকরী হারাতে হল, সরকারের বিপক্ষে রায় দেওয়ার কারণে, নিম্ন আদলতের বিচারপতিরা যদি সরকারের কথা মত রায় না দেয়, তাহলে কি অবস্থা হবে!!!

৫) মাত্রাঅতিরিক্ত দলীয়করণঃ বন্দরে লস্কর পদ মানে জাহাজের রশি বান্ধা আর পাহারা দেওয়া, এই সামান্য পদের জন্য মন্ত্রী কিংবা এমপির সুপারিশ লাগে!!! আর বড় পদগুলি!!! মন্ত্রী কিংবা এমপি নিশ্চই তাদের দলের লোক ছাড়া সাধারণ কোন লোকের জন্য সুপারিশ করবে না।

৬) আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির বেপরোয়াঃ পুলিশ, র্যাব মানে মানুষে বন্ধু, মানুষের জীবন মানের নিরাপত্তা দিবে, কিন্তু বর্তমানে দেশে সম্ভবত এই দুই বাহিনী সেবার বদলে ছাত্রলীগের মত চাঁদাবাজীতে ব্যাস্ত।

৭) দ্রব্যমূল্যঃ বর্তমান বাজারের দ্রব্যমূল্য নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে, সেখানে গরীব শ্রেনীর অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়িতে পারে তা অনুমেয়।

৮) অতিরিক্তি আত্নঢোল বাজানোঃ আওয়ামলীগ কোন কিছুতে একটু সাফল্য পেলেই তা বহুগুনে বাড়িয়ে মিডিয়া কভারেজ করে, শিক্ষিত সমাজ এই ধরনের কাজ মোটেই পছন্দ করে না।


আর মিডিয়ার টুটি চেপে ধরা, মাছ ব্যাবসায়ী এমপিদের কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া কাহিনী যদি বিএনপি জনগনের সামনে তুলে ধরতে পারে তাহলে আওয়ামলীগের পরাজয় নিশ্চিত।

তবে প্রধান শর্ত হচ্ছে নির্বাচন ফেয়ার হতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:২৭
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইন দ্যা শ্যাডোস অব ইল্যুশন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৮



রাজধানীর নিঝুম আবাসিক এলাকার তিনতলা ফ্ল্যাটের শোবার ঘরটি তখন ক্রাইম সিন টেপে ঘেরা। ধুলো জমে থাকা এয়ার কন্ডিশনারের শব্দের মাঝে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে রক্তের হালকা সোঁদা গন্ধ।

পিবিআই ইনভেস্টিগেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭


মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

একসময় কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে মানুষকে ভাবতে হতো। বই খুলতে হতো, লাইব্রেরিতে যেতে হতো, কারও সঙ্গে আলোচনা করতে হতো, ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৪

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৬


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/3039397|১ম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেম....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১০



সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেমঃ সমর্থনের জায়গা থেকেই কিছু কঠিন কথা.....

ছয় মাস খুব দীর্ঘ সময় নয়- কিন্তু একটি সরকারের দিকনির্দেশনা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কিছুটা ধারণা পাওয়ার জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পাঠের সওয়াব

লিখেছেন শিমুল মামুন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬


লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এর ফজিলত ও সওয়াব অনেক বেশি। আমলটি করার ব্যাপারে হাদিসে অনেক বর্ণনা এসেছে।

সাগরের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাফ হয়
আবদুল্লাহ ইবনে আমর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×