
বাংলাদেশে বর্তমানে চলছে "নামের" গনতন্ত্র। অন্যদৃষ্টিতে দেখলে গনতন্ত্রের নামে "পরিবারতন্ত্র"। কোন দেশকে উন্নত হতে হলে, বা কোন দেশকে কল্যান রাষ্ট্র হিসাবে দেখতে চাইলে নামমাত্র গনতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র থাকলে তা আদৌ সম্ভব নয়। কারণ এখানে জবাবদিহিতা থাকে না, আর জবাবদিহিতা ছাড়া উন্নত রাষ্ট্র, কল্যাণ রাষ্ট্র স্বপ্নমাত্র।
বাংলাদেশের জন্ম পর থেকে আমাদের রাজনীতিবিদরা শক্তিশালী গনতন্ত্রের চিন্তা কখনও করিনি, সবাই শুধু ক্ষমতা চেয়েছে। তবুও কিছু গনতন্ত্র বিদ্যামান ছিল তা আজ নাই বললেই চলে। আর এই না থাকার অন্যতম কারণ, আমাদের রাজনীতিবিদরা একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করে না। এই অবিশ্বাস এক দিনে আসেনি তাদের কিছু কথা এই অবিশ্বাসের মূলভিত্তি।
এরশাদ আমল থেকে দেখি-- স্বৈরাচার আন্দোলন যখন তুঙ্গে, এরশাদের ক্ষমতা তখন যায় যায়, এরশাদ রাজনীতি চাল দিলেন, তিনি নির্বাচনের ঘোষনা দিলেন, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা কেউ এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যাবে না ঘোষনা দিলেন। ১৯৮৬ সালে চট্রগ্রামের এক জনসভায় শেখ হাসিনা ঘোষনা দিলেন- এরশাদের অধীনে যে নির্বাচনে যাবে "সে জাতীয় বেঈমান"। সেই নির্বাচনে কে গিয়েছিল আর কে যায়নি তা সকলে মোটামুটি জানে।
১৯৯৫-১৯৯৬ সাল বিএনপি পরবর্তী নির্বাচনে তত্ববাধয়ক সরকার দিতে অস্বীকার করল, আওয়ামলীগ, জামায়াত রাজপথে দিনের পর দিন হরতাল দিতে থাকল। বিএনপির নেত্রী সে দিকে কোন কর্ণপাত না করে থিওরী দিলেন- "পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরেপক্ষ হয় না"।
কিন্তু শেখ হাসিনা নাছোড় বান্দা, তিনি জানেন বেগম জিয়ার চাইতে পাগল বা শিশু নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পারবে। বেগম জিয়া আনন্দোলনের মুখে একদল পাগল বা শিশুর হাতে ক্ষমতা দিয়ে দিলেন। নির্বাচন হল শেখ হাসিনার জয়।
এখন বেগম জিয়া সেই পাগল আর শিশুর জন্য অনঢ় অবস্থানে, তিনিও শেখ হাসিনার মত বিশ্বাস করে নিয়েছেন, পাগল ও শিশু মন্দের ভাল।
কিন্তু এবার শেখ হাসিনা পাশার চাল উল্টাইয়া দিলেন, তিনি কোনভাবে পাগল আর শিশুর হাতে ক্ষমতা দিবেন না কারন ঐ যে-----১৯৯৬ সালের ফল।
বাংলাদেশের রাজনীতি সবচেয়ে বড় ভিলেন হল এরশাদ, তার দ্বি-মুখী আচারণ এ দেশের রাজনীতির অনেক ক্ষতি করেছে-- তিনি একবার বলেন- শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনতো দুরের থাক বেহেশতও যাবে না। কিছুদিন পরে দেখা গেল উনি শেখ হাসিনার উপদেষ্টা।
আমাদের দেশের বর্তমান এই অবস্থার জন্য দুই দলই দায়ী, বিএনপির বরখাস্ত মহাসচিব মরহুম মান্নান ভূঁইয়ার একটি বাক্য এই ক্ষেত্রে খুবই যুতশই- "বিএনপি আর আওয়ামলীগ মাল এক বোতল ভিন্ন"
রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই, তবুও কথার একটা সীমা রেখা থাকা উচিত অন্তত বড় দুই দলের।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




