
১৮ ই আগস্ট ২০১৬, ফেসবুকে একটা ছোট status দিয়েছিলাম,
হুমায়ন আহমেদ একবার বলেছিলেন, প্রত্যেক মানুষ আলাউদ্দিনের চেরাগ নিয়ে জন্মায় কেউ তা থেকে দৈত্য বের করতে পারে আবার কেউ পারে না, আমার জীবনে চলার পথে সবাইকে কম-বেশী দৈত্য বের করতে দেখেছি শুধু আমি পারিনি চেরাগ থেকে দৈত্য বের করতে, হয়তো আমার চেরাগের দৈত্য মারা গেছে, না হয় পালিয়ে গেছে, দূর থেকে সবার দৈত্য দেখে ভালই লাগে তবে মাঝে মধ্যে যে একটু হিংসা হয় না, বললে মিছে বলা হবে।
আমার এক কলিগ মন্তব্য করলঃ আমাদের বাসায় পুরানো একটা চেরাগ আছে, এইটা ঘঁষে দেখতে পারেন।
তবে, এই পোড়া কপাল পরীক্ষা করার জন্য আর চেরাগের পিছনে ছুটিনি।
অনেকদিন পর আবার অালাদিনের চেরাগের কথা মনে পড়ল। রংপুর সিটি কর্পোরেশন প্রার্থীদের হলফনামা দেখতে গেয়ে দেখলাম সদ্য বিদায়ী মেয়রের আয় বেড়েছে তিনগুন। বাস্তবে খুঁজতে গেলে তা আরও কয়েক গুন বাড়বে এটা নিশ্চিত। এরপর গুগল মামার সাহায্য নিয়ে আমাদের এমপি, মন্ত্রীদের হলফনামা দেখতে লাগলাম, দেখলাম সবার মোটামুটি আয় বেড়েছে, কিন্তু কারোর কারোর আয় অাঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার মত। অনেকের আয় বেড়েছে ১০০ গুন থেকে ৩০০ গুন পর্যন্ত। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল অনেকে নাকি মাছ চাষ করে এই আয় করেছে অথচ গত পাঁচ বছর মাছ চাষ করে খুব বেশি লাভ করতে পারছি না আমরা, নাকি ক্ষমতার চাদর গায়ে থাকলে মাছ দ্রুত বড় হয়।
অধিকাংশ এমপি, মন্ত্রীদের উপহার থেকে উল্লেখযোগ্য আয় আছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর গাড়িটি নাকি উপহার হিসাবে পাওয়া। আচ্ছা মানুষ কি উপহার এমননিতে দেয় নাকি কোন উদ্দেশ্য হাসিল করতে দেয়? তাদের সেই সকল স্বার্থ আমাদের জাতীয় কোন সম্পদ নষ্ট করে তা হয়তো বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু যে এই সকল জনপ্রতিনিধিদের আয় বাড়ে তা নয় তাদের স্ত্রীরা গৃহিনী হয়েও কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান।
অযথা অন্য চেরাগের পিছনে না ছুটে, যদি ক্ষমতার চেরাগের পিছনে ছুটতাম তাহলে আজ আমার দৈত্যের নিখোঁজ হওয়ার খবর কাউকে জানাতে হত না।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




