
"ছেলেটি বাদাম ছিলিতেছিল, মেয়েটি বাদাম খাইতেছিল,
বাদাম শেষ, মেয়েটি নিরুদ্দেশ।
নাটকের নাম মনে নেই, তবে এই ডায়লগ আজও ভুলিনি।
সারাদিন পরিশ্রমের পর একটু বিনোদনের জন্য রিমোট দিয়ে টেলিভিশন অন করতেই এখন যা দেখতে পা্ওয়া যায়, তা নাটক না বলে বরং ভ্যাড়ামি বলা যায়। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে এখন কে বেশি ভ্যাড়ামীপূর্ণ নাটক দেখাবে সেই প্রতিযোগিতায় ব্যাস্ত। এসব নাটকে যেমন আছে অশ্লীল ভাষা তেমনি আছে বানরের মত অঙ্গভঙ্গি।
অথচ, ৯০ দশকে কি সুন্দর নাটক মানুষ দেখত, সাহিত্য নির্ভর সেসব নাটক স্মৃতিতে থাকবে চির অমলিন।
রুপনগর, লাটভাই সহ অসংখ্যা নাটক মানুষকে বিনোদন দিয়েছে অন্যরকমভাবে অথচ সেই সময় বিটিভি ছাড়া আর কোন চ্যানেল ছিল না, ছিল না কোন প্রতিযোগিতা তবুও নাট্যকাররা মান নিয়ে কোন কম্পোমাইজ করেনি, এখন প্রতিযোগিতার বাজার যেখানে নাট্যকারদের ভাল কাজ করে উপরে উঠার সুযোগ আছে কিন্তু তারা তা না করে ভ্যাঁমাড়ি নিয়ে পড়ে আছে।
এখনকার নায়ক-নায়িকাদের ছবি দেখলে মনে হয়, ছবি করতে হলে অভিনয় নয়, শরীর প্রদর্শন ভাল মত করতে পারলে হয়।
বিদেশি কিছু সিরিয়াল বাংলায় অনুবাদ করে বিটিভিতে দেখাতো,
আরব্য হাজার রজনী-লাইফ লায়লা, আকবর দ্যা গ্রেট, টিপু সুলতান, ড্রামা সিরিজ সিনবাদ।
ছোটদের জন্য- টারজান, ব্যাডম্যান,
বিটিভি মারা গেছে অনেক আগে কিন্তু অন্য চ্যানেলগুলো কি চেষ্টা করছে এরকম আকর্ষণীয় কিছু করতে?
আগে নাটকের জন্য রাস্তায় মিছিল পর্যন্ত হয়েছে, পরের দিন সংবাদ-পত্রে এসেছে, অবশ্য এখনও পত্রিকায় বিনোদন খবর আাসে, কি রকম খবর জানেন- বাংলাদেশের সবচেয়ে মূলধারার পত্রিকা বলে দাবিদার প্রথম আলোয় গত দুইদিনে অন লাইনে দেখলাম-
১) অন্যরঙ্গ দৃশ্য করতে গিয়ে কারিনা কাপুর মদ পর্যন্ত খেয়েছেন,
২) সানি লিওন ও তার স্বামীর অন্তরঙ্গ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।
আমাদের নৈতিকতা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে যে এসব খবর এখন আমাদের পড়তে হয়।
আগে সামাজিক নানা অসঙ্গতি নাটকে তুলে মানুষকে বুঝানো হত আর এখন নাটকগুলি মানুষকে অসামাজিক করছে। সমাজ সচেতন না করে বরং নিজেরাই এখন ভাল সমাজের ভাইরাস।
আমাদের দেশে এখন সর্বত্র অনিয়মকে নিয়মে আনা হয়েছে, ভেঙ্গে পড়েছে সামাজিক প্রতিষ্টানগুলো, সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে আমাদের পরিচালক, নাট্যকাররা।
এদেশে আর কোন দিন সু-দিন ফিরবে কিনা তা হয়তো সময়ে বলে দেবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৭ ভোর ৬:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


