অফিসে যাওয়ার জন্য সিলেট নাইওরপুল পয়েন্ট থেকে একটা লেগুনা (টেম্পু) তে উটলাম, লেগুনাতে আরও সাতজন ছিল আমার সমবয়সী যারা নারায়নগঞ্জ থেকে এসেছে জাফলং যাবে বেড়াতে । আমি উঠার পর আমাকে একজন জিজ্ঞেস করল- আমি এখানের লোকাল কিনা ? আমি বললাম -হ্যা, পরে আবার জাফলং ভাড়া কত জানতে চাইল -আমি বললাম ৪৫ বা ৫০ টাকা হবে ।
নাইওরপুল পয়েন্ট পার হওয়ার পর একজন আমাকে হিন্দুদের আশ্রমটি দেখিয়ে বলল-এটা কি , আমি সেটা কি তা বললাম । এর পরে উনারা আমাকে কিভাবে মাধরকুন্ড যেতে হবে, সিলেটে দেখার কি কি আছে তা জিজ্ঞেস করলেন, আমি মোটামূটি আমার সাধ্যমত ইনফরমেশন উনাদেরকে দিলাম । আমি একটু নিজে সেধেই উনাদেরকে আমাদের ভার্সিটির শহীদ মিনার দেখে যাওয়ার জনা বললাম ।
টিলাগড় পয়েন্টে এসে একজন লোক উটলেন যিনি সম্ভবত সিলেট জেলার বাইরে হবেন (এখানে একটি কলেজের শিক্ষকতা করেন-উনার কথাবার্তায় পরে বুঝলাম) উনি ও আমাদের সাথে আলাপে যোগ দিলেন এবং সিলেটে কি কি আছে সেটা বললেন ।
কিছুক্ষণ পর গাড়ি শাহপরান (রা) মাজারের সামনে উপস্থিত হলে, তাদেরকে দেখিয়ে বললাম যে এটা শাহপরান (রা) এর মাজার পারলে যাওয়ার সময় একটু নেমে দেখে যাবেন ।
একটু পরে একজন জিজ্ঞেস করলেন যে এখানে লন্ডনি পাড়া কোনগুলো, তখন আমি বললাম যে আসলে লন্ডনি পাড়া বলতে কিছু নাই , সিলেটের সব উপজেলায় কম বেশি লন্ডনে বসবাস কারী লোক আছে তবে সব চেয়ে বেশি লন্ডনে বসবাস কারী লোক বিশ্বনাথের । তখন টিলাগড় থেকে যিনি উটছিলেন তিনি বললেন যে - সিলেটের সব লোক মূর্খ আর যারা লন্ডনে আছে ওরা লন্ডনে হোটেল ব্যবসা করে এবং ওরা টাকার খুব গরম দেখায় । আমি উনার কথার প্রতিবাদ করতে চাইছিলাম তখন গাড়ি আমার অফিসের সামনের রাস্তায় চলে এসেছে, কিছু না বলে নেমে গেলাম ।
সামু ব্লগের মাধ্যমে আমি এইসব আবালদের বলছি যারা সিলেট সম্বন্ধে এইরকম মন্তব্য করেন তারা কি জানেন সিলেটে শিক্ষার হার কম (৪৭%) থাকতে পারে (তবে দেশের মধ্যে সর্বনিম্ব নয়) তার পরে ও বাংলাদেশ সরকারের কেবিনেটে প্রধানমন্ত্রীর পরের পজিশনে সিলেটের লোক থাকে । গত তত্তাবধায়ক সরকারের আমলের উপদেষ্টাদের মধ্যে ছয়/ সাত জনই সিলেটের । মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক মরহুম এম এ জি ওসমানীর বাড়ি সিলেটে, সেক্টর কমান্ডার সি আর দত্ত, মরহুম স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এর বাড়ী সিলেটে । প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিসহ অনেকের বাড়ী সিলেটে ।তার পরে ও বলবেন সিলেটে সব লোক মূর্খ ।
আর হোটেল ব্যবসা করা বা হোটেল কাজ করা এমন খারাপ কিছু নয় তাহলে ত বাংলাদেশের ভিতরে হোটেল রেস্তোরা যারা চালায় বা যারা এখানে কাজ করে তারা খারাপ । কিন্তু লন্ডনে এই হোটেল ব্যবসা করে বা হোটেল কাজ করে কত টাকা রেমিটেন্স বাংলাদেশে আসে সেটা খবর রাখেন, রাখলে এই আবালগুলা এই ধরনের মন্তব্য করতনা ।
এটা ঠিক যে সিলেটের শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা পাশ করে চাকরী করার চেয়ে দেশের বাইরে যাওয়া পছন্দ করে কারন এখন দেশে পাশ করে ৪-৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে চাকরী করার চেয়ে সেই টাকা দিয়ে দেশের বাইরে যাওয়া অনেক ভাল । দেশের ভেতর সৎ চাকুরী করে নিজে চলা টা খুবই মুশকিল ।
আর যার টাকা আছে সে টাকার গরম দেখাবে সে সিলেটি বা ঢাকা বা কুমিল্লা যে কোন জায়গার হোক, তবে সবাই না । এটা গুটিকয়েক মানূষের স্বভাব ।
তাই সিলেট সম্বন্ধে কোন মন্তব্য করার পূর্বে সিলেট সম্বন্ধে ভালভাবে জানুন, তার পরে মন্তব্য করুন ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


