২৪শে অক্টোবর যখন ভিসা হাতে পেলাম তখন আনন্দ এবং বেদনার এক সংমিশ্রন মনের মধ্যে দোলা খেতে লাগল । সুদূঢ় ইউকেতে পড়াশোনার জন্য যাওয়াতে একদিকে যেমন নতুনত্বের সাথে পরিচয় এবং নতুন আবহাওয়া ও পরিবেশ সম্বন্ধে জানতে মনের মধ্যে এক রোমাঞ্চ অনুভব করতেছি অন্য দিকে কিভাবে আমার প্রানপ্রিয় মা তোমাকে ছেড়ে এই এতগুলো দিন প্রবাস জীবনে থাকব তাতে আমার দু চোখের কোন বেয়ে অশ্রু এবং বুক ফেটে যেন এক চাপা আর্তনাদ বেরিয়ে যেতে চাইছে, কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারছি না । দেখতে দেখতে নানান ব্যস্ততা আর কেনাকাটার ঝামেলায় ২৯ তারিখ চলে আসল । এয়ারপোর্টের লাউন্জে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যখন মা তোমার কাছ থেকে বিদায় নিতে আসলাম তখন আর চোখের পানি এবং বুক ফাটা আর্তনাদ চেপে রাখতে পারিনি, সেটা চিৎকার দিয়ে বেরিয়ে আসল আর মনে থেকে বলতে লাগল মা তুমি আমাকে যেতে দিওনা মা, আমি তোমাকে ছাড়া কোথাও যাব না, আর না হলে তুমি আমার সাথে চল কিন্তু সেটা ত তখন আর সম্ভব না, তুমি আমাকে সান্তনা দিয়ে বললে এই জীবনে চলার পথে পরিবার পরিজন থেকে অনেক সময় দুরে থাকতে হয়, এটাই বাস্তবতা । তোমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যখন বোর্ডিং কার্ড এর জন্য ভিতরে ঢুকব তখন তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম যে তুমিও বলতে চাইতেছ তুই যাসনে বাবা আমি ও তোকে না দেখে কেমন থাকব , তখন আমি দৌড়ে গিয়ে তোমার কোলে আবার ঝাপিয়ে পড়লাম, তুমি আমাকে আবার বুঝিয়ে বিদায় দিলে, কিন্তু আমার মনে পড়েনি তখন তোমার পাঁটা ছুয়ে সালাম করি । বিমানে উঠার পর মনে হয়েছে কিন্তু তখন আর ফেরার কোন উপায় ছিলনা । পরের দিন লন্ডন পৌছলাম এবং তোমার সাথে ফোনে কথা বললাম, মনটা কিছুটা সান্ত হল । কিন্তু আজ থেকে আমি সেই দিনের অপেক্ষায় আছি , কখন দেশে গিয়ে তোমার পাঁ ছুয়ে সালাম করব।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ সকাল ৭:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


